উজিরপুরে গুপ্ত খালে প্রবাহ কমায় দুর্ভোগে কৃষক,বন্ধ হচ্ছে বোরোর আবাদ

প্রকাশ : 07 May 2026
উজিরপুরে গুপ্ত খালে প্রবাহ কমায় দুর্ভোগে কৃষক,বন্ধ হচ্ছে বোরোর আবাদ

রাহাদ সুমন, বরিশাল অফিস:  উজিরপুর উপজেলায় গুপ্ত খালে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষক ধানের বিনিময়ে সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে (স্কিম) জমিতে সেচ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে খালের দুই পাশে বোরো আবাদে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন চাষিরা। 


স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একসময় গুপ্ত খালের ভেতর দিয়ে সন্ধ্যা নদীর পানির প্রবাহ বইত। এই খালের পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ হেক্টর জমিতে ধানসহ নানা ফসল আবাদ করতেন এলাকার কৃষক। দীর্ঘদিন ধরে পুনর্খনন না করা এবং দখলের কারণে খালটি এখন প্রায় মৃত। খালে নদীর পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জমিতে সেচ দিতে দুর্ভোগে পড়ছেন চাষিরা। পাম্প মালিকদের থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে জমিতে সেচ দিতে বাধ্য হচ্ছেন ধান আবাদকারীরা। 


স্থানীয়রা জানান, স্থানীয়ভাবে গুপ্ত খাল নামে পরিচিত খালটির দুই প্রান্তই সন্ধ্যা নদীর সঙ্গে যুক্ত। এক প্রান্ত শিকারপুর ইউনিয়নের জিজি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকা এবং আরেক প্রান্ত উপজেলা পরিষদ চত্বরের দক্ষিণে মাদ্রাসি গ্রাম সংলগ্ন সন্ধ্যা নদী। কয়েকটি গ্রামের মাঝ দিয়ে খালটি বয়ে গেছে। জোয়ার-ভাটার সময় নদীর পানি খালের এক প্রান্ত থেকে ঢুকে আরেক প্রান্ত দিয়ে বের হয়ে যেত। ফলে খালটি ছিল খরস্রোতা। গ্রামের কয়েকশ কৃষক তাদের কৃষিকাজে একসময় এই খালের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। বর্তমানে শুধু বর্ষা মৌসুমে খালে অল্প পরিমাণ পানি প্রবাহিত হয়। শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে যায়। মূলত, সন্ধ্যা নদীর পানির স্তর নিচে নেমে গেলে গুপ্ত খালেও পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। তখন নদীর মোহনায় সেচ পাম্প বসিয়ে খালে পানি তুলে জমিতে দিতে হয়। এতে চাষিদের বোরো আবাদে খরচ বেড়েছে। 

কৃষকদের ভাষ্য, বাণিজ্যিক সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ২০ শতক জমিতে সেচ দিতে সেচ পাম্প মালিক পক্ষকে তিন শতক জমির ধান দিতে হয়। খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক বোরো আবাদ বন্ধ করে দিয়েছেন। 


মাদ্রাসি গ্রামের কৃষক দুলাল বলেন, খালের পানি না থাকায় কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া যায় না। এটাই কয়েকটি গ্রামের বড় সমস্যা। জমিতে সেচের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক চাষি বোরো ধানের আবাদ বন্ধ করে দিয়েছেন। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কপিল বিশ্বাস বলেন, শুষ্ক মৌসুমে সন্ধ্যা নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গুপ্ত খালে পানি প্রবেশ করতে পারে না। কৃষকদের অভিযোগ, এ সুযোগে সেচ নিয়ে ওই এলাকায় বাণিজ্য চলছে। প্রতি শতক পানিতে সেচের জন্য তিন শতক জমির ধান দিতে হয়। খালটি খননের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

;