মদনে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ: প্রধান অভিযুক্ত শিক্ষক ৩ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশ : 07 May 2026
মদনে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ: প্রধান অভিযুক্ত শিক্ষক ৩ দিনের রিমান্ডে

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ  নেত্রকোণার মদনে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা আলোচিত মামলার প্রধান আসামি শিক্ষক আমানুল্লাহ আমান সাগরকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সাত মাস পর ভুক্তভোগী শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


​আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে নেত্রকোণার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলামের আদালতে অভিযুক্ত সাগরকে হাজির করে পুলিশ। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


 এর আগে বুধবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে র‍্যাব-১৪-এর একটি দল আমানুল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে মদন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


 মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নূরুল কবীর রুবেল জানান, এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর। ওই দিন মাদ্রাসা ছুটির পর ভুক্তভোগী শিশুটিকে মসজিদ পরিষ্কারের কথা বলেন শিক্ষক সাগর। এরপর মসজিদের বারান্দার একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।


​ভয় এবং সামাজিক লজ্জার কারণে দীর্ঘ সাত মাস শিশুটি এই ভয়াবহতা গোপন রেখেছিল। তবে সম্প্রতি তার শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করলে পরিবারের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। গত ১৮ এপ্রিল মদনের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানোর পর জানা যায়, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।


 পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে শিশুটি সব ঘটনা খুলে বলে। এরপর তার মা বাদী হয়ে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে মদনজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


​মদন থানা পুলিশ জানায়, রিমান্ডে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার অধিকতর তদন্ত করা হবে। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছে।

সম্পর্কিত খবর

;