একুশে বইমেলা: ঐতিহ্য প্রকাশনা 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র'

প্রকাশ : 25 Feb 2025
একুশে বইমেলা: ঐতিহ্য প্রকাশনা 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র'

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রকাশনা সংস্থা ‘ঐতিহ্য’ অমর একুশে বইমেলা ২০২৫ উপলক্ষ্যে প্রকাশ করতে যাচ্ছে ৫৬+ বিষয়ের উপর ৩০০+ বই। সে ধারাবাহিকতায় আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ প্রকাশিত হলো—


* ভ্রমণ


◉ ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র


—ইবরাহীম খাঁ


প্রচ্ছদ : নাওয়াজ মারজান


মূল্য : ৪০০ টাকা।


আমি ইস্তাম্বুল চল্লাম।


শুনে চমকে উঠলেন, না? উঠবারই কথা। করটীয়ার অন্য বন্ধু বান্ধবেরাও চমকে উঠবেন। অভিমান ভরে ভাববেন, কৈ, আমাদেরও তো উনি আগে কিছু জানান নাই?


এ অভিযোগ করবার অধিকার তাঁদের আছে। সিকি শতাব্দী কাল পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে এত অন্তরঙ্গ ভাবে ছিলাম। কিন্তু এ সংবাদ পাওয়ার সবচেয়ে বেশী অধিকার আপনার নিজের।


প্রথম মহাযুদ্ধের শেষে যখন তুরস্কের দুষমনেরা এসে ইস্তাম্বুল জুড়ে বসে, তখন আপনার চোখে ঘুম ছিল না। সে আমলে আপনার আমার সাথে যাঁরা খিলাফত আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তাঁদের অনেকের স্মৃতি ভাণ্ডারে আজো প্রীতির সাথে সঞ্চিত আছে আপনার রচিত সেই সুন্দর গানটির কথা।


তোমহারা দুরজ ডুবু ডুবু হ্যায়,


ততী তোমহারী খবর নাহি হ্যায়,


তখত তোমহারী উলট রহি হ্যায়,


ততী তোমহারী খবর নাহি হ্যায়।


 * মূল্যায়ন


◉ কথাসাহিত্যিক শহীদ আখন্দ : আলাপন, স্মরণ, মূল্যায়ন


সংকলন ও সম্পাদনা : রাকিবুজ্জামান লিয়াদ


প্রচ্ছদ : নাওয়াজ মারজান


মূল্য : ১৮০ টাকা।


শহীদ আখন্দের জীবন ছিল সংগ্রামমুখর, তাঁর সাহিত্যও ছিল একটি সংগ্রাম-৮৯ বছর বয়সে তিনি ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি আমাদের মাঝে জীবন্ত। তাঁর সামগ্রিক সাহিত্যকর্ম আমাদের এই বার্তা দেয় যে, সাহিত্য কখনো থেমে থাকে না; এটা শুদ্ধ মানুষের সুরের মতো অনন্তকাল বেঁচে থাকে। শহীদ আখন্দের জীবদ্দশায় প্রদত্ত কিছু সাক্ষাৎকার, তাঁর লেখার মূল্যায়ন-গদ্য আর মৃত্যুত্তর শ্রদ্ধালেখন দিয়ে তৈরি হলো এই সংকলনের কাঠামো।


 * অনুবাদ


◉ ডিফিকাল্ট ডটার্স


মূল : মঞ্জু কাপুর


অনুবাদ : আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু


প্রচ্ছদ : আবুল ফাতাহ মুন্না


মূল্য :  ৫২০ টাকা।


মঞ্জু কাপুরের জন্ম পাঞ্জাবের অমৃতসরে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক। দেশভাগের পটভূমিতে একটি পরিবারের দায়িত্বশীল ও মার্জিত রুচিসম্পন্ন তরুণীর শিক্ষার প্রতি অদম্য স্পৃহা এবং বিবাহিত এক কলেজ শিক্ষকের সঙ্গে তার অবৈধ প্রেমের মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব ও তার বিক্ষিপ্ত বিধ্বস্ত হয়ে পড়ার কাহিনির ওপর ভিত্তি করে তিনি লিখেছেন 'ডিফিকাল্ট ডটার্স'। গবেষণাধর্মী উপন্যাসটি লিখতে তাঁর দীর্ঘ পাঁচ বছর লেগেছে এবং তাঁর পরিশ্রম সফল হয়েছে। 'ডিফিকাল্ট ডটার্স' দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে 'বেস্টসেলার' বইয়ের তালিকাভুক্ত ছিল।


উপন্যাসের প্রধান চরিত্র বীরুমতি। অমৃতসরের উঁচু মর্যাদাসম্পন্ন, উদার মানসিকতার সচ্ছল পরিবারে তার জন্ম। সে প্রেমে পড়ে এক বিবাহিত কলেজ শিক্ষক হরিশের। তিনি বীরুমতির পরিবারেরই এক অংশের ভাড়াটে ছিলেন। এই প্রেমের ঘটনা বীরুমতির পরিবারকে বিপর্যস্ত ও মর্যাদাহীন করে তোলে। সে নিজে স্বাধীনতার জন্য লড়ছিল, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। তখন ব্রিটিশের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার আন্দোলনও চলছিল। শেষ পর্যন্ত দুটো স্বাধীনতাই অর্জিত হয় এবং দুটোই ছিল বেদনাদায়ক।


* প্রবন্ধ/গবেষণা


◉ মোহাম্মদ রফি : তোমার তুলনা তুমি


—খসরু চৌধুরী


প্রচ্ছদ : সেলিম হোসেন সাজু


মূল্য : ৪৫০ টাকা।


গায়ক-জীবন প্রধানত ঘিরে থাকেন সুরকার এবং গীতিকার, গায়ক এবং গায়িকা। মোহাম্মদ রফিকে ঘিরে-থাকা এদের প্রায় সবাই যখন ধন্দে পড়ে যান যে তিনি গায়ক হিসেবে বেশি বড় নাকি মানুষ হিসেবে, তখন সত্যিই তা ভাববার মতো বিষয়।


গায়ক হিসেবে রফি সাহেব কেমন তা কেবল আমরা নই, বাস্তবিকপক্ষে, প্রায় সারা পৃথিবী জানে। মান্না দে যখন তাঁর প্রসঙ্গে বলেন, 'রফি প্লেব্যাকের শেষ কথা। হ্যাঁ, সত্যিই গান গাইতেন বটে মোহাম্মদ রফি। সোবানাল্লাহ্! কেয়া বাত!' আর কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এই বইয়ের বাড়তি পাওনা- গায়ক রফির পাশাপাশি এখানে দারুণভাবে চেনা যাবে মানুষ রফিকে।


বিখ্যাত অনুবাদক, বাংলাদেশের অনুবাদ সাহিত্যের গৌরব, খসরু চৌধুরীকে আমরা পেলাম সম্পূর্ণ নতুন এক ভূমিকায় যা একদম চমকে দেওয়ার মতো। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁর এই নতুন ভূমিকাও পাঠকগণ খুব ভালোবাসবেন। 'মোহাম্মদ রফি: তোমার তুলনা তুমি' খসরু চৌধুরীর ৩৪/৩৫ বছরের গবেষণার ফসল।


* অনুবাদ


◉ মানুচির চোখে মোগল ভারত


মূল : নিকোলাও মানুচি


অনুবাদ : আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু


প্রচ্ছদ : আবুল ফাতাহ মুন্না


মূল্য : ৪৮০ টাকা।


নিকোলাও মানুচি ছিলেন মহান এক পর্যটক। ১৬৫৩ সালে নিকোলাও মানুচি ১৪ বছর বয়সে তাঁর ভেনিসের বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। সকলের চোখ এড়িয়ে তিনি স্মার্নাগামী একটি জাহাজে উঠে পড়েন এবং সৌভাগ্যক্রমে এক ইংরেজ অভিজাত ভিসকাউন্ট বেলোমন্টকে পান তাঁর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে, যিনি সেই জাহাজে পারস্য ও ভারতে যাচ্ছিলেন। বেলোমন্টের সঙ্গে তিনি এশিয়া মাইনর হয়ে প্রথমে পারস্য এবং সেখান থেকে ভারতে আসেন।


মানুচি ছিলেন অদ্ভুত মেধাসম্পন্ন যুবক। ভাগ্য তাঁর অনুকূলে ছিল। শিগগির তিনি ভারতের সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহজাদা দারা শুকোহর সেনাবাহিনীতে গোলন্দাজ হিসেবে চাকরি গ্রহণ করেন। পরে গোলন্দাজের চাকরি বাদ দিয়ে চিকিৎসক হিসেবে পেশা গ্রহণ করেন। রাজা জয় সিং তাঁকে গোলন্দাজ বাহিনীর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দিলে কয়েক বছরের জন্য মানুচি আবার সৈনিকের জীবনে ফিরে এসেছিলেন। দৃশ্যত এ পেশায় ক্লান্ত হয়ে তিনি পদত্যাগ করেন এবং আবার চিকিৎসক পেশায় ফিরে আসেন।


রাজ দরবারের সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে তিনি অনেক কিছু জানতে পেরেছেন। রাজনীতি প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়াও একজন বিদেশি পর্যটক হিসেবে স্থানীয় অনেক বিষয়ে তার ছিল দারুণ সব পর্যবেক্ষণ। তাঁর লেখা এই বইতে সেইসব অজানা বিষয় উঠে এসেছে। ইতিহাসপ্রেমী যেকোনো পাঠকের নিকট বইটি নিঃসন্দেহে সমাদৃত হবে।

সম্পর্কিত খবর

;