বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, করলেন বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

প্রকাশ : 13 Jul 2026
বরিশাল সফরে  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, করলেন বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

বরিশাল অফিস: একদিনের সরকারি সফরে বরিশাল পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম বরিশাল সফর। সোমবার, ১৩ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল পৌঁছে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নতুন খনন করা সরিকল খালের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানান, আজ সোমবার সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন থেকে সড়কপথে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে পৌঁছান তিনি। সেখানে একযোগে প্রায় দুই হাজার গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।


উদ্বোধন শেষে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। শেষ মুহূর্তে এই কর্মসূচি সফরসূচিতে যুক্ত হয়। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা পাবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে ডিজিটাল ডাটাবেজের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।


এরপর প্রধানমন্ত্রী বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন এলাকার বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে দ্বিতীয় দফায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে জিআই স্বীকৃত বরিশালের আমড়া গাছ ও নারিকেল গাছের চারা নিজ হাতে রোপণ করেন তিনি। পাশাপাশি খালপাড়জুড়ে শতাধিক দেশীয় ফলজ, বনজ ও ফুলের গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।


বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক নেতারা, স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, বরিশাল সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ দলীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।


প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে দলীয়ভাবে কোনো তোরণ, ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা মেনেই গৌরনদী থেকে বরিশাল নগর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে মানবপ্রাচীর তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।


উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে চরকাউয়া এলাকার এ খালটি খনন করেছিলেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খালটি মজে গিয়ে এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি করছিল। গত অক্টোবরে গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিএডিসির একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০ মিটার প্রস্থ ও ৩ মিটার গভীর এ খালটি পুনঃখনন করা হয়। এতে প্রায় ১২ লাখ ঘন মিটার পলি ও মাটি অপসারণ করতে হয়েছে। 


সম্পর্কিত খবর

;