জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিলে সংশোধনীতে ঘোরতর আপত্তি

সংসদে তড়িঘড়ি করে বিল পাস, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

প্রকাশ : 10 Apr 2026
সংসদে তড়িঘড়ি করে বিল পাস, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

স্টাফ রিপোর্টার: সময় সংকটের কারণে জাতীয় সংসদে তড়িঘড়ি করে একের পর এক বিল পাসকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংবিধান অনুযায়ী ১২ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করার বাধ্যবাধকতা থাকায় সরকার দ্রুত বিল পাসের প্রক্রিয়া শুরু করে। দিনের নির্ধারিত কার্যসূচি স্থগিত রেখে একদিনেই ৩১টি বিলসহ মোট ৯১টি বিল পাস করা হয়।


তবে এই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও বিলের কপি সময়মতো সংসদ সদস্যদের হাতে না পৌঁছানোয় বিরোধী দল ক্ষোভ প্রকাশ করে। তারা অভিযোগ করে, বিলের বিষয়বস্তু বুঝে মতামত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে বিশেষ কমিটির সমঝোতা ভেঙে কিছু বিলে সংশোধনী আনার অভিযোগও তোলে বিরোধীরা।


বিশেষ করে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি ছিল সবচেয়ে বেশি। তাদের দাবি, বিলটি সংশোধনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞের বদলে মন্ত্রীকে পর্ষদের সভাপতি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক সমঝোতার পরিপন্থী এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের অংশ।


বিরোধী দলীয় সদস্যরা একাধিকবার সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে এবং অভিযোগ করে যে সংসদে আস্থা ও ন্যায্যতা বজায় রাখা হয়নি। তারা আরও বলে, গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিল সংসদে উত্থাপনই করা হয়নি এবং দ্রুত বিল পাসের মাধ্যমে জনস্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে।


সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি মেনেই বিলগুলো পাস করা হয়েছে এবং বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলও অংশ নিয়েছিল। সময়সীমার কারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না বলেও জানানো হয়।


সংসদের স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদে ধৈর্য ধরে আলোচনা করতে হবে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী অধিবেশনে সংশোধনী আনার সুযোগ রয়েছে। তিনি সংসদের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


এদিকে বিরোধী দল জানিয়েছে, তাদের অভিযোগ ও আপত্তি বিবেচনায় না নেওয়া হলে ভবিষ্যতেও তারা সংসদীয় কর্মসূচিতে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবে।

সম্পর্কিত খবর

;