হরমুজ দিয়ে দিনে ১৫টি বেশী জাহাজ নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত ইরানের

প্রকাশ : 10 Apr 2026
হরমুজ দিয়ে দিনে ১৫টি বেশী জাহাজ নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত ইরানের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান প্রণালিটি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচলের শর্ত দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।


রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো এই সীমাবদ্ধতা। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রণালিটি দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজকে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম মেনে অনুমতি নিতে হবে।


পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরের সংযোগস্থল এই প্রণালির একপাশে ইরান এবং অন্যপাশে ওমান অবস্থিত। প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নৌপথ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন সরবরাহ হওয়া তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।


গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত এই পথে। তবে সংঘাত শুরুর পর ইরান প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হয় এবং বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।


শুধু জ্বালানি নয়, সার, পেট্রোকেমিক্যালসহ বিভিন্ন পণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও এই নৌপথের গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের প্রভাব বিশ্ববাজারের নানা খাতে পড়তে শুরু করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।


সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ইসলামাবাদ-এ দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে উভয় পক্ষের প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর তদারকি করবে ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত ইউনিট ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস। সংস্থাটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন, গতি ও রুট নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।


ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এখন থেকে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো বিদেশি জাহাজের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে এবং পূর্বের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দ্রুত ফেরার সম্ভাবনা নেই।


বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহ চেইন এবং ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

;