স্টাফ রিপোর্টার: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, তামাক সেবন বন্ধে করারোপ অন্যতম কার্যকর পদ্ধতি তবে একমাত্র পদ্ধতি নয়। আইনের মধ্যে তামাকের প্রচার, বিক্রয় বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সিগারেট কোম্পানিগুলো উৎসাহ এবং আকর্ষণ তৈরির ফলে তামাক সেবন এখনও কমাতে দিচ্ছে না।
উপদেষ্টা আজ সকালে উন্নয়ন সমন্বয় আয়োজিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে "জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিগারেটে কার্যকর করারোপের প্রস্তাবনা"- শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, গবেষণায় বলা হচ্ছে দেশে ৩৫.৩ শতাংশ মানুষ তামাক সেবন করে থাকে এর অর্থ হচ্ছে দেশে প্রতি তিন জনে একজন সেবনকারী। আর প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু যে মৃত্যু হবার কথা নয় শুধু তামাক সেবনের ফলেতার ২২ শতাংশ মৃত্যু হচ্ছে । এ চিত্র একদিকে যেমন ভয়ংকর অন্যদিকে উদ্বেগের। তিনি বলেন, এসডিজি'র অভীষ্ট ৩.৯ এর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনার কথা বলা হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে তা কার্যকর করতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধন ও অবিলম্বে বাস্তবায়ন দরকার।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মধ্যে ভীতি কাজ করে বেশি করারোপ করলে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে যাবে। তামাক কোম্পানিগুলো রাজস্ব কমানোর জুজুর ভয় দেখিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বহু গবেষণার পর্যবেক্ষণ হলো তামাক ব্যবহার কিছুটা কমবে তবে রাজস্ব বাড়বে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দদের তামাক বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বদানের আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন আপনারা আন্দোলন করলে দেশের জনগণ আপনাদের কথা শুনবে ও আরও বেশি সচেতন হবে।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক অর্থবছরগুলোতে বাংলাদেশে বাজেটে বিভিন্ন স্তরের সিগারেটের দাম অল্প অল্প করে বাড়ানো হলেও বৃদ্ধির এ কৌশল কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে পারছে না। নিত্যপণ্যের যেভাবে দাম বেড়েছে সিগারেটের দাম সে হারে বাড়েনি। তারা সিগারেটের ব্যবহার কমাতে ট্যাক্স বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন সিগারেট ক্রয় ক্ষমতার বাইরে গেলে ব্যবহার অনেকাংশে কমে যাবে।
উন্নয়ন সমন্বয়ের সিনিয়র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জাহিদ রহমানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সিটিএফকে-বাংলাদেশের লিড পলিসি এডভাইজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিআইডিএসের রিসার্চ ডিরেক্টর ড. এস. এম. জুলফিকার আলী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। এতে প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেছেন উন্নয়ন সমন্বয়ের গবেষণা পরিচালক আব্দুল্লাহ নাদভী।
স্বাক্ষরিত /-
(মো: মামুন হাসান)
সিনিয়র তথ্য অফিসার
(তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা)
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক নবম ও দশম শ্রেণীর বাংলা ২য় পত্র পাঠ্যপুস্তকের প্রচ্ছদ থেকে আদিবাসী শব্দ সম্বলিত গ্রাফিতি তুলে নেয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে পাঁচ শতাধিক নাগরিকের বিবৃতি
"স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি" সংগঠনের দাবির প্রেক্ষিতে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক নবম ও দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ এবং রচনা পাঠ্যপুস্তকের পেছনের প্রচ্ছদ থেকে "আদিবাসী" শব্দসহ গ্রাফিতিটি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্তের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। শিক্ষাবোর্ডের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের আদিবাসীদের পরিচয় এবং অধিকারের প্রতি অবজ্ঞাকেই কেবল স্পষ্ট করেনা, বরং এটি জুলাই-অভ্যুত্থানের বৈষম্য বিরোধী চেতনার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিকও।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের আদিবাসীদের ওপর ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা, এই ভূখন্ডের ইতিহাস থেকে তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ভূমিকা মুছে ফেলা এবং রাজনৈতিক দৃশ্যমানতা থেকে বঞ্চিত করাসহ নানা নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে। উপরন্তু "আদিবাসী" হিসাবে স্বীকৃতি না দিয়ে সংবিধানে এই ভিন্ন ভিন্ন জাতিসত্তার মানুষকে "উপজাতি" ও “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী” সম্বোধন করে তাদের অবমাননা এবং যথাযথ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বসেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ জারির মাধ্যমে এই বঞ্চনাকে চূড়ান্ত রূপ দান করেছিল। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে, আমরা যখন একটি বহুমাত্রিক-সংস্কৃতির গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলছি তখন কতিপয় শিক্ষার্থীর মতের ভিত্তিতে পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত হঠকারি ও অগণতান্ত্রিক। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো এনসিটিবির সিদ্ধান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আদিবাসীদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করার এবং আদিবাসী সম্প্রদায়কে কাঠামোগতভাবে নিশ্চিহ্নকরণের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী নীতিকেই অনুমোদন করে।
এক বা একাধিক গোষ্ঠীর চাপে পড়ে রাতারাতি এনসিটিবির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্তগ্রহণের অস্বচ্ছতাকে ইঙ্গিত করে। এনসিটিবির প্রতি আমাদের আহ্বান তারা বাংলাদেশের আদিবাসীদের প্রতি এই বৈষম্যমুলক আচরণের জন্য নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন এবং বাংলাদেশকে একটি বহুত্ববাদী রাষ্ট্র ও সমাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে সামিল হবেন।
আমাদের দাবী,১) পাঠ্যপুস্তকগুলোতে আদিবাসী শব্দসহ গ্রাফিতি পুনরায় বহাল করতে হবে।২) পাঠ্যপুস্তকে আদিবাসী সংস্কৃতি ও ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিপীড়ন এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের জ্বলন্ত স্বাক্ষর। এ দেশে আদিবাসীদের মর্যাদা এবং অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে এমন যেকোনো পদক্ষেপের কাছে নতি স্বীকার করা স্রেফ সেই চেতনার সাথে প্রতারণা করারই নামান্তর। আমরা সকল নাগরিক, কর্মী এবং সংগঠনকে এহেন বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
স্টাফ রিপোর্টার: জনগণের বিশ্বাসকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ আখ্যা দিয়ে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার রাতে বাংলাদ ...
স্টাফ রিপোর্টার: অতীতের টানাপোড়েন ছাড়িয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতার ভিত্তিতে পুনর্গঠন করতে চায় ভারত। নয়াদিল্লির দৃষ্টিতে, পারস্পরিক মর্যাদা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাই হ ...
স্টাফ রিপোর্টার: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি, বিজেপি, জয়ী হলেও বাংলাদেশে পুশইনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এরপরও সী ...
স্টাফ রিপোর্টার: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন-এর সঙ্গে আজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)-এর একটি প্রতিনিধি দল।সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল ...
সব মন্তব্য
No Comments