রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা

প্রকাশ : 06 Apr 2026
রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। ইউক্রেনীয় পক্ষের দাবি, বাল্টিক সাগর তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দর ও দেশের অভ্যন্তরের একটি বড় শোধনাগারে এই হামলা চালানো হয়েছে।


ইউক্রেনের ড্রোন ইউনিটের এক শীর্ষ কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি জানান, রাশিয়ার কৌশলগত জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালিত হয়। এর আগে রোববার (৫ এপ্রিল) রাশিয়ার আঞ্চলিক কর্মকর্তারাও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লেনিনগ্রাদ অঞ্চল-এর গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেঙ্কো বলেন, প্রিমোরস্ক বন্দর এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে ক্ষতি হয়েছে। এই বন্দরটি রাশিয়ার প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। পরে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, বন্দর সংলগ্ন একটি জ্বালানি ট্যাংকে ধাতব টুকরার আঘাতে ফাটল সৃষ্টি হয়ে তেল ছড়িয়ে পড়ে।


অন্যদিকে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চল-এর গভর্নর গ্লেব নিকিতিন জানান, নরসি তেল শোধনাগার-এ হামলার পর আগুন ধরে যায়। তিনি বলেন, স্থাপনাটির অন্তত দুটি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।


স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, হামলার সময় নিকটবর্তী একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কিছু আবাসিক ভবনেও আংশিক ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


উল্লেখ্য, প্রিমোরস্ক বন্দর এলাকা এর আগেও হামলার মুখে পড়েছিল। গত মার্চ মাসে সেখানে একটি তেল ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল পরিবহন প্রতিষ্ঠান ট্রান্সনেফট এই বন্দর ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ করে থাকে।


বিশ্লেষকদের মতে, নরসি তেল শোধনাগার রাশিয়ার জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম, যা দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলের সমপরিমাণ উৎপাদনের সমান।


চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পর্কিত খবর

;