অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ, স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশ : 27 Apr 2026
অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ,  স্মারকলিপি প্রদান


স্টাফ রিপোর্টার: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তিসহ জাতীয় স্বার্থ-বিরোধী সকল বৈদেশিক চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশ ও সংসদে উত্থাপন করে বাতিলের দাবিতে এবং ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা ও সারা বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন-যুদ্ধ বন্ধের জন্য সংসদে নিন্দা প্রস্তাবের দাবিতে আজ ২৭ এপ্রিল ২০২৬ সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি পালন করে।


জোটের নেতা ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত এই অসম বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের স্বাধীন বাণিজ্যনীতি, কর-সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় ক্রয়নীতিকে মার্কিন কর্পোরেট স্বার্থের কাছে বিকিয়ে দেওয়ার শামিল। এ ধরনের চুক্তির ফলে দেশীয় শিল্প ও কৃষিখাত ধ্বংস হবে, শ্রমিকের মজুরি ও অধিকার সংকুচিত হবে, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে এবং রাষ্ট্রের বিনিয়োগ-সিদ্ধান্তে বিদেশি কোম্পানির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পসহ রপ্তানিমুখী খাতগুলো মার্কিন বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীরা বিদেশি কর্পোরেট সংস্থার কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়বে। তাঁরা সংসদের সকল দল ও সদস্যকে এই জাতীয় স্বার্থ-বিরোধী চুক্তি বাতিলের  দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং সংসদে আনুষ্ঠানিক নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপনের দাবি জানান।


বক্তারা আরও বলেন, এ চুক্তি গোপনে করা হয়েছে — জনগণ কিংবা সংসদকে অবহিত না করেই — যা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সরাসরি লঙ্ঘন। এছাড়াও এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। রাশিয়া-চীনসহ বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে মার্কিন মুখাপেক্ষি হয়ে থাকতে হবে, মার্কিনীদের কাছ থেকে চড়া মূল্যে সামরিক সরঞ্জামাদি কিনতে হবে। এরই মধ্যে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার কথা বলা হচ্ছে যা বাড়তি মূল্যে যা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত। 


সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফি রতন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)-র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব)-এর সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ ভূইয়া, গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসিরউদ্দীন নাসু, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম এবং সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী প্রমুখ।


পরে প্রেস ক্লাব থেকে যাত্রা শুরু করে মিছিলটি শাহবাগ, কাওরানবাজার ও ফার্মগেট হয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সমবেত হয়। সংসদের ১২নং গেটের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রাগিব আহসান মুন্না, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, সাম্যবাদী আন্দোলনের বেলাল চৌধুরী এবং বাসদ-মার্কসবাদীর সীমা দত্ত।


এরপর বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাসদ-(মার্কসবাদী)র সমন্বয়ক মাসুদ রানা এবং বাসদ (মাহবুব)-এর মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটনসহ পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল মাননীয় স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি প্রদান করেন। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় চিফ হুইপের কাছেও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।


সংসদ ভবন থেকে বের হয়ে নেতৃবৃন্দ জানান, আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন চলবে। এই সময়ের মধ্যেই চুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনা করে তা বাতিল করতে হবে। অন্যথায় আগামী ৩ মে সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। ৪ ও ৫ মে বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিনিধিসভা অনুষ্ঠিত হবে। আর ৯ মের মধ্যে চুক্তি বাতিল না হলে আরও বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দেন।

সম্পর্কিত খবর

;