সারাদেশে সাংস্কৃতিক চর্চা আরো বাড়ানোর দাবি শিল্পী-নির্মাতাদের

প্রকাশ : 26 Oct 2021
No Image

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনাক্রান্ত সময়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরে সবকিছুই স্থবির ছিল। স্থবির ছিল শিল্পাঙ্গনের সকল কার্যক্রম। আবারো সরব হয়েছে জীবনের নিয়মেই। বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক এই সকল অস্থিরতায় দেশের সাংস্কৃতিক চর্চার পথ ও ব্যবস্থা আরো বাড়ানোর কথা জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীরা।

দেশবরেণ্য নাট্যজন মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের দেশ তো এতটা সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার ছিল না। এক্ষেত্রে আমি মনে করি আমাদের ভেতরে সাংস্কৃতিক চর্চাটা আরো বাড়ানোর প্রয়োজন। প্রতিটি জেলায় নিয়মিত মঞ্চায়ন প্রয়োজন। গানের অনুষ্ঠান, সিনেমা হলের ব্যবস্থা। আমরা আমাদের পরিবার থেকেই এ সকল গোঁড়ামি আর অন্ধকারকে দূর করতে না পারলে এগুলো দূর করতে পারবো না।’

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর সিনেমা হলগুলোতে আবারো সরব হতে শুরু করেছে দর্শকরা। এদিকে নিজেদের পুরনো কমিটমেন্ট অনুযায়ী একাধিক সিনেমা হল প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু করেছে স্টার সিনেপ্লেক্স। এ প্রসঙ্গে স্টার সিনেপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ২০২২ সালের ভেতরে সারাদেশে আরো কয়েকটি সিনেপ্লেক্স চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনেকেই সিনেমা হলে দর্শকদের কৌতুহল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু করোনা-উত্তর এই দেশে দর্শকদের আগ্রহই প্রমাণ করে অনেকগুলো সিনেপ্লেক্সের চাহিদা রয়েছে। আর বর্তমানে সারাদেশে যেসব ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার কথা শোনা যায়। চলচ্চিত্রের এই খাতকে আরো গুরুত্ব দিলেই আমি মনে করি এর সমাধান পাওয়া যাবে। মানুষ যখন সাংস্কৃতিক চর্চায় বাধাগ্রস্ত হয় তখনই মাদক বেড়ে যায়, নানা বিকৃত চর্চাও বাড়ে।’

গানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ওপেন এয়ার কনসার্ট গড়ায় না। গত প্রায় ১ যুগ ধরে নিরাপত্তার দোহায় দিয়ে কনসার্ট বন্ধ রাখা হয়েছে। এরপর সেই সংকটের শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে কোভিড। এ প্রসঙ্গে ব্যান্ড মিউজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বামবার সভাপতি হামিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি যে ওপেন এয়ার কনসার্টের মাধ্যমেই দেশের তরুণ সমাজকে যেমন মেসেজ দেওয়া যায়। আজ মাদক যেমন গ্রাস করছে ওদের, সঙ্গে সাম্প্রদায়িক উসকানিতে তরুণরা বিপথে যাচ্ছে। যদি পেছনে ফিরে আমরা আমাদের শৈশব বা তারুণ্যের সেই আশির দশকের দিকে তাকাই তবে কী দারুণ আধুনিক একটি সমাজ ব্যবস্থা দেখতে পাই। শুধু ঢাকায় না প্রতিটি জেলায় ওপেন এয়ার কনসার্ট চালু করা এখন খুবই জরুরি। এটি সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এক্ষেত্রে দেশের কয়েক হাজার মিউজিশিয়ান, ইভেন্ট কোম্পানি, সাউন্ড লাইট কোম্পানি সচল হবে। একইসঙ্গে এই সময়ের তারুণ্যকে সঠিক পথে গাইড দেওয়া যাবে। তাই এখন ফ্রি কনসার্ট না, দর্শনীর বিনিময়ে কনসার্ট চালু করে পুরনো ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।’

এদিকে ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশনের মহাসচিব নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে গুটিকতক মানুষের উসকানি ও দূরভিসন্ধিতে এসব বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। আর খুব সঙ্গত কারণেই আমাদের সকল স্তরে সাংস্কৃতিক চর্চা খুবই জরুরি। এ কারণেই আমরা সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠন নিয়ে একটি সম্মিলনের পরিকল্পনাও করছি।’

উল্লেখ্য, এ উপলক্ষে এফটিপিও’র উদ্যোগে আগামী ৩০ অক্টোবর শনিবার সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা ও সদস্য কলাকুশলীরা একজোট হবেন। ঐতিহ্য ও কৃষ্টির দেশে, থাকি সবাই মিলেমিশে শীর্ষক একটি জনসমাবেশে তারা অংশ নেবেন। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতা ও সেন্সর বোর্ডের সদস্য অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এদেশের সাংস্কৃতিক অধিকারের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম আমরা। বর্ণ, ধর্ম গোত্র ভাগ করার জন্য যুদ্ধ হয়নি। এই কথা, এই বোধগুলো জানানোর জন্যই আমি মনে করি সাংস্কৃতিক চর্চার দরজাগুলো আরো খুলে দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের শৈশবে পাড়া-মহল্লায় সকালে গানের রেয়াজ, আবৃত্তির শব্দ শোনা যেত। এগুলো ক্রমশ বন্ধ হতে চলেছে। পারিবারিকভাবে এসব চর্চা বাড়ানোর জন্য তাগিদ জরুরি।’

শিল্পী-কলাকুশলীরা তাই এই সম্প্রীতির দেশকে প্রতিষ্ঠা করতেই মাঠে নামছেন।-ইত্তেফাক

সম্পর্কিত খবর

;