চা-শ্রমিক সংঘ সিলেট জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : 23 Feb 2025
চা-শ্রমিক সংঘ সিলেট জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত


অবিলম্বে বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে মজুরি ও রেশন বৃদ্ধি করতে হবে

শুভ মুন্ডা, সিলেট অফিস :  সিলেটের শারদা স্মৃতি ভবনে রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারী)  চা শ্রমিক সংঘ সিলেট জেলার ১ম জেলা সম্মেলন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা আহবায়ক রবি মুন্ডার সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালামের পরিচালনায় উদ্ধোধনী অধিবেশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলণ করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি এডভোকেট কুমার চন্দ্র রায় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস। জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে সম্মেলনের উদ্ধোধন করা হয়। উদ্ধোধনের পরেই এক বর্ণাঢ্য লাল পতাকা র‌্যালী শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুণরায় সম্মেলনস্থলে এসে ২য় অধিবেশনের কাজ শুরু হয়।

২য় অধিবেশনের শুরুতেই সংঠনের প্রয়াত সকল নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্খী এবং শ্রমিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন এবং দাঁড়িয়ে ১ মিনিট শোক নিরবতা পালন করা হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন; জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি কবি শহিদ সাগ্নিক, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম (ছদরুল), বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সরকার, চা-শ্রমিক সংঘের সাবেক আহবায়ক দীনেশ কর্মকার, বাংলাদেশ স’মিল শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা রুহুল আমিন, চা শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হরি নারায়ন হাজরা, সহ-সাধারণ সম্পাদক সুভাষ গৌড়, সাংগঠনিক সম্পাদক নারী চা-শ্রমিকনেত্রী লক্ষীমনি বাক্তি, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা কমিটির আহবায়ক শুভ আজাদ শান্ত, চা শ্রমিক সংঘ সিলেট জেলার অন্যতম নেত্রী কমলা বেগম প্রমুখ। 

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উর্দ্ধগতির বাজারে দৈনিক মাত্র ১৭৮.৫০ টাকা মজুরিতে চা-শ্রমিকদের অর্ধাহার-অনাহারে জীবন কাটাতে হয়। এই মজুরি ও নামমাত্র রেশন দিয়ে একজন চা-শ্রমিককে তার পরিবারের ৫/৭ জন সদস্যের ভরণপোষণ, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন ইত্যাদির ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। তার মধ্যে প্রায়শই শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারে প্রতিনিয়ত সরকারের অঘোষিত নিরব দুর্ভিক্ষ চলে। চা-শ্রমিকরা আজ হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছেন অতীতের সরকারগুলোর মতো অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছেও চা-শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকা উপেক্ষিত। 

প্রধান আলোচক তার বক্তব্যে বলেন, দেশের শ্রমিক কৃষক মেহণতি জনগণ আজ দিশেহারা। বিগত স্বৈরাচারী হাসিনার সরকারের আমলে প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার এবং ততোধিক ঋণ করে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা নানাভাবে লুটপাট করে। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে প্রভুর পরিকল্পনায় যে সংস্কার কর্মসূচী বাস্তবায়নে সচেষ্ঠ তাতে দেশের শ্রমিক-কৃষক মেহণতি জনগণের কোন লাভ হবে না, বরং সীমাহীন দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি, মূল্যস্ফীতি-মুদ্রাস্ফীতি, শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি না পাওয়া, জনজীবনের নিরাপত্তাহীনতা ইত্যাদি কারনে জনজীবনে দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। বিগত সরকারের ন্যায় বর্তমান সরকারও জনগণকে অন্তবর্তকালীন এর অজুহাত দেখিয়ে দায়সারা হওয়ার চেষ্ঠায় লিপ্ত। নয়াউপনিবেশিক আধাসামন্ততান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় এ যাবত অধিষ্ঠিত সকল নামের সরকারই হচ্ছে সামন্ত আমলা মুৎসুদ্দি শ্রেণীর স্বার্থরক্ষাকারী সরকার। তারা কখনোই জনগণের কথা ভাববে না-এটাই স্বাভাবিক। তাই জনগণের স্বার্থরক্ষাকারী রাস্ট্র সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সা¤্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, আমলা দালাল পুঁজি বিরোধী শ্রমিক-কৃষক জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তোলার বিকল্প নেই।  

সভায় রবি মুন্ডাকে সভাপতি, ধরপন নায়েক সাধারণ সম্পাদক ও শুভমণি দাসকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট্য কমিটি নির্বাচিত হয়। নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান সম্মেলনের প্রধান অথিতি রজত বিশ্বাস।

সভায় এক প্রস্তাবে গত ২২ ফেব্রæয়ারি থেকে ঢাকার লোকাল গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও শ্রমআইন বাস্তবায়নের দাবিতে চলমান কর্মবিরিত প্রতি সমর্থন এবং গত ডিসেম্বরে চাঁদপুরে ৭ জন নৌ-শ্রমিককে গলা কেটে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত রহস্য উন্মোচন ও দায়ীদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়।

সভাপতি তার সমাপনী বক্তব্যে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ও বিভিন্নভাবে সহায়তাকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে আগামীতে শ্রমিক শ্রেণীর জরুরী দাবি-দাওয়া নিয়ে বিপ্লবী ধারার শ্রমিক আন্দোলনকে বৃহত্তর পরিসরে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান। 

সম্পর্কিত খবর

;