জাটকা বিরোধী অভিযানে যাওয়ার পথে হামলা, মৎস্য দপ্তরের তিন কর্মচারী রক্তাক্ত জখম

প্রকাশ : 24 Apr 2026
জাটকা বিরোধী অভিযানে যাওয়ার পথে হামলা, মৎস্য দপ্তরের তিন কর্মচারী রক্তাক্ত জখম

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি : জাটকা বিরোধী অভিযানে যাওয়ার সময় স্থানীয় চিহ্নিত কতিপয় ব্যক্তির হুকুমে হামলার স্বীকার হয়েছেন মৎস্য দপ্তরের তিন কর্মচারী। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত বারোটার দিকে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার পুরাতন স্টিমারঘাট সংলগ্ন বালুমহাল স্টেডিয়ামের সন্নিকটে।


খবর পেয়ে মৎস্য দপ্তরের অভিযানিক দলের অন্যান্য কর্মকর্তারা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য দপ্তরের ফিল্ড এসিস্টেন্ট নাজিম উদ্দিন, মো. শামীম ও সিয়াম হোসেনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। হামলাকারীরা মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযানিক দলের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ব্যাপক ভাঙচুর করেছে।


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেহেন্দীগঞ্জ মৎস্য দপ্তরের ফিল্ড এসিস্টেন্ট নাজিম উদ্দিন জানিয়েছেন, রাতে স্পীডবোট নিয়ে নদীতে জাটকা বিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য তাদের একটি অভিযানিক দল স্টিমার ঘাট এলাকায় অবস্থান করছিলেন। 


তারা ওই অভিযানিক দলের সাথে যোগদেয়ার জন্য মোটরসাইকেলযোগে স্টিমারঘাটের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তারা বালুমহাল স্টেডিয়ামের সন্নিকটে পৌঁছলে তাদের মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। একপর্যায়ে তাদের মোটরসাইকেল থামিয়ে স্থানীয় মোহাম্মদ হোসেন গাজী, আলমগীর সরদার ও জহির মাতুব্বরের নির্দেশে তাদের ২০/২৫ জন সহযোগিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অর্তকিতভাবে হামলা চালায়। হামলায় তারা তিনজন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন।


তিনি আরও জানিয়েছেন, উল্লেখিত ব্যক্তিদের হুকুমে তাদের সহযোগি মোস্তফা আকন, কবির হোসেন, সবুজ বেপারী, শহিদ বেপারী, সাইফুল মুন্সী, মান্নান ফকির, জসিম সরদার, রবিউল মুন্সী, জামাল চৌকিদার, সুমন সরদার, জহির মাতুব্বরসহ তাদের ২০/২৫ জন সহযোগিরা এ হামলা চালিয়েছে। এসময় তাদের (নাজিম উদ্দিন) ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।


মেহেন্দিগঞ্জ থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোমিন উদ্দিন জানিয়েছেন, হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, হামলার ঘটনার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।


হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ হোসেন গাজীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে অসংখ্যবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 


সম্পর্কিত খবর

;