আজ শেষ হচ্ছে বাঙালির প্রাণের বইমেলা

প্রকাশ : 27 Feb 2025
আজ শেষ হচ্ছে বাঙালির প্রাণের বইমেলা

মুক্তার হোসেন নাহিদ ।। ডাস্টবিনে শেখ হাসিনার ‘ঘৃণাস্তম্ভে’র ছবি, সব্যসাচী স্টলে হামলা, স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রি বন্ধ’সহ নানা আলোচনা-সমালোচনায় মাসব্যাপী চলা বাঙালির প্রাণের বইমেলা শেষ হচ্ছে আজ (শুক্রবার,২৮ ফেব্রুয়ারি-২০২৫)। আগুনঝরা ফাগুন হাওয়ায় ঝরিয়ে পড়া শুকনো পাতার মর মর শব্দের আগমণী বার্তার সাথে নিভে যাবে বইমেলার ভেতরের আলোক ঝলকানো বাতিগুলো। সাঙ্গ হবে লেখক-প্রকাশক-পাঠকের মিলনমেলার এ উৎসব।

গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য ছিল,“জুলাই গণঅভ্যুত্থান:নতুন বাংলাদেশ।”  বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের মাধ্যমে নতুন অন্তবর্তী সরকারের আমলে শুরু হওয়া এবারের বইমেলা সাজানো হয়েছিল নতুন আঙ্গিকে। পাঁচটি ভাগে ভাগ করা প্রতিটি ভাগ ছিল ’৫২-র রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের শহিদদের নামে। মেলার বিশেষ আকর্ষণ ‘জুলাই চত্বর'রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল গণ-অভ্যুত্থানের চিত্র। মেলার রঙ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল লাল, কালো ও সাদা রঙে। লাল বিপ্লবের প্রতীক, কালো শোকের এবং সাদা আশার। শোককে ধারণ করে বিপ্লবের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়েই তাই শেষ হচ্ছে এবারের বইমেলা।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত এবছর বইমেলায় মোট স্টল সংখ্যা ছিল ৭০৮টি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমিতে ৯৯টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিল ৬০৯টি। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে একটি এবং উদ্যানের ৩৬টি মিলে মোট প্যাভিলিয়ন ছিল ৩৭টি। মেলায় লিটল ম্যাগাজিন স্টল ছিল ১৩০টি এবং শিশু চত্ত্বরে স্টল ছিল ৭৪টি।

বিগত বছরের চেয়ে এবাবের বইমেলা লেখক-প্রকাশক, সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি, সাধারণ মানুষ ও নাগরিক সমাজের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। ১০ ফেব্রুয়ারি সব্যসাচী স্টলে হামলা হলে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হন। ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেন লেখক ও প্রকাশকবৃন্দ। খোদ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূস’ও নিন্দা জানান। নাগরিক সমাজের ২০৬ জন প্রতিনিধি নিন্দা প্রকাশ করেন। ওইদিন সন্ধায় তসলিমা নাসরিনের ‘চুম্বন’ বিক্রির অভিযোগে একদল মানুষ সব্যসাচী স্টলে হামলা চালায়। তার আগের দিন থেকেই ওই স্টলের বিরুদ্ধে নাস্তিকতা প্রচারের অভিযোগ তুলে তা গুঁড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করা হয়। এমন ঘটনা বই মেলায় এর আগে ঘটেছে কিনা তা অনেকেই বলতে পারেন না। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ মন্তব্য করেছেন, ‘মানুষের অভিব্যক্তির স্বাধীনতা’।

এর আগে মেলার শুরুতেই ময়লা ফেলানো ডাস্টবিনে লাগানো হয় ‘ঘৃণাস্তম্ভে’র ছবি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের স্টলে রাখা ওই ডাস্টবিনে ময়লা ফেলানোর ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। এছাড়া স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রি করায় তা বন্ধ করে নারী ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা পণ্যের ব্র্যান্ড ‘ স্টে সেইফ’ স্টলে কালো কাপড় ঝুলাতে হয়। এটিও নাকি কোনো গোষ্ঠীর দাবির মুখে করা হয় বলে কারো কারো অভিযোগ। তবে বাংলা একাডেমির মন্তব্য অনুমোদন ছাড়া কোনো পণ্য বিক্রি করলে তা বিক্রি বন্ধ করা হয়।

এমনসব ঘটনার মধ্যদিয়ে শেষ হওয়া এবছর নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে শেষ হলো অমর একুশে বইমেলা-২০২৫।

সম্পর্কিত খবর

;