বানারীপাড়ায় ঘর পোড়ানো মামলা: সাবেক এমপি মনিসহ ৪৪০ আসামি

প্রকাশ : 22 Jun 2026
বানারীপাড়ায় ঘর পোড়ানো মামলা: সাবেক এমপি মনিসহ ৪৪০ আসামি

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশালের বানারীপাড়ায় শ্রমিকদল নেতার বাড়িতে বোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনিসহ ৪৪০ জন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ৪টা ৩৫ মিনিটে বানারীপাড়া থানায় মামলাটি করেন বাইশারী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল।


মামলায় সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম মনি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানাসহ ৪০ জনকে নামধারী এবং অজ্ঞাতনামা ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামির তালিকায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলের নামও রয়েছে।


এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তাকে সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে বাইশারী ইউনিয়নের গরদ্বার গ্রামে আসামিরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তার ঘরে আগুন ধরে যায়। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।


তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বানারীপাড়া স্টেশনের টিম লিডার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শুক্রবার মধ্যরাতে গরদ্বার গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নেন। এর মধ্যেই আবার খবর আসে আগুন নেভানো হয়েছে। তাই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়নি।


মামলার প্রধান আসামি সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, পুরো ঘটনাটি সাজানো। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে বিএনপি নাটক মঞ্চস্থ করেছে।


অন্যতম আসামি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুল বলেন, এ মামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন তাকে আসামি করা হয়েছে। বাদী রাসেলকেও তিনি চেনেন না।


উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম মিঞা বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না। ঘটনাটি আজ রোববার জেনেছি।’ বাদী রাসেলকে চেনেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেখলে হয়তো চিনব, কিন্তু এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না।’


বাদী মো. রাসেলের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. একরামুল হক জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণের আলামত পেয়েছেন। এর বেশি কিছু বলতে তিনি অপারগতা জানান।


বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আবদুল্লাহ ফকির নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনাস্থলে তিনি যাননি।


মামলার অপর উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু ও জিয়াউল হক মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত লাল কুন্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন-উর-রশিদ স্বপন ও নুরুল হুদা, সদস্য আনিছুর রহমান মিলন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ ফারুক সরদার, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল চক্রবর্তী, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. মাহফুজুল হক মাসুম, সাবেক পৌর কাউন্সিলর জাকির হোসেন মোল্লা, মনির হোসেন ও জাহিদ হোসেন সরদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আলী হাওলাদার, সাবেক সহসভাপতি মনির বিশ্বাস, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন রায় সুমন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মহসিন ফকির, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সিকদার, পৌর যুবলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, যুবলীগ নেতা মশিউর রহমান সুমন, সেলিম, জসিম মীর, মাসুম আকন, সোহাগ মাল, আতিকুল ইসলাম বাপ্পী, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাসেল মাল, বন্দর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সুমন পোদ্দার, বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল ফকির, আওয়ামী লীগ নেতা ও বাইশারী ইউপি সদস্য শাহাদাত ফকির, বাইশারীর সাবেক ইউপি সদস্য ও ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর বেপারী, সাবেক ইউপি সদস্য রিপন বড়াল, ইউপি সদস্য সাহেব আলী, বাইশারীর ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি কালাম বেপারী, আওয়ামী লীগ কর্মী ছৈয়দ, মো. ইমন ও অলিন কৃষ্ণ শীল। এছাড়াও ৩০০-৪০০ জন নেতা-কর্মীকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।


এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক এই মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।


সম্পর্কিত খবর

;