‘শত্রুর হার্ট অ্যাটাক হতে পারে’: নতুন অস্ত্র আনার হুঁশিয়ারি ইরানের নৌবাহিনী প্রধানের

প্রকাশ : 30 Apr 2026
‘শত্রুর হার্ট অ্যাটাক হতে পারে’: নতুন অস্ত্র আনার হুঁশিয়ারি ইরানের নৌবাহিনী প্রধানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এবার ‘গোপন অস্ত্র’ প্রকাশের হুঁশিয়ারি দিল ইরান। দেশটির নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি বলেছেন, তেহরান “খুব শিগগিরই” এমন এক অস্ত্র সামনে আনবে, যা দেখে শত্রুপক্ষের “হার্ট অ্যাটাক” হতে পারে।


বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “অস্ত্রটি শত্রুর একেবারে কাছেই রয়েছে। আশা করি, তারা এটা দেখে হার্ট অ্যাটাক করবে না।” তবে অস্ত্রটি কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।


হরমুজ নিয়ে টানাপোড়েনের জের

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার ইরানি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই নতুন অস্ত্রের হুমকি দিল তেহরান। ইরানি নৌপ্রধান দাবি করেন, শত্রুরা ভেবেছিল সামরিক চাপে কয়েক দিনের মধ্যেই তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনা যাবে। “সেই ধারণা এখন সামরিক একাডেমিগুলোতে কৌতুকে পরিণত হয়েছে,” বলেন ইরানি।


‘হুট’ টর্পেডো নিয়ে জল্পনা

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান যে অস্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে সেটি হতে পারে ‘হুট’ সুপার টর্পেডো। ২০০৬ সালে প্রথম পরীক্ষা চালানো এই টর্পেডো পানির নিচে গ্যাসের বুদবুদ তৈরি করে বুলেটের গতিতে ছুটতে পারে। এতে শত্রুর যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিক্রিয়া দেখানোর সময়ই পায় না। যদিও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্রের নাম প্রকাশ করেনি।


যুক্তরাষ্ট্রের রণতরীতে হামলার দাবি

রিয়ার অ্যাডমিরাল ইরানি আরও দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর ইরানি বাহিনী মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’-কে লক্ষ্য করে অন্তত সাতবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে রণতরীটি কিছু সময়ের জন্য বিমান পরিচালনায় অক্ষম হয়ে পড়ে বলে দাবি তার। তবে ওয়াশিংটন এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি।


হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি

ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে শত্রু ও মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। নৌপ্রধান জানান, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালি পার হতে পারবে না। সীমা লঙ্ঘন করলে “তাৎক্ষণিক সামরিক ব্যবস্থা” নেওয়া হবে।


উল্লেখ্য, ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরানও হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার হুমকি দিয়ে আসছে। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল এই পথ দিয়েই পরিবহন হয়।


বিশ্লেষকরা কী বলছেন

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘হার্ট অ্যাটাক’ মন্তব্যটি প্রতীকী। এর মাধ্যমে ইরান মূলত মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি ও প্রতিপক্ষকে সতর্কবার্তা দিতে চাইছে। একইসঙ্গে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করছে তেহরান।


সম্পর্কিত খবর

;