বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো বিষাদে

প্রকাশ : 20 Jun 2026
বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো বিষাদে

নড়াইল প্রতিনিধিঃ বিয়েবাড়ির আনন্দ কোলাহল মুহূর্তেই ঢেকে গেল বিষাদের ছায়ায়। বিয়ের গেটে বরকে মিষ্টি মুখ করিয়ে বরণ করে নেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান কনের চাচা নকুল মল্লিক (৫২)। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় থমকে যায় বিয়ের অনুষ্ঠান, শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। 

​শুক্রবার (১৯ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার মুশুড়িয়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত নকুল মল্লিক ওই গ্রামের বাসিন্দা সতীশ চন্দ্র মল্লিকের ছেলে। তিনি সম্পর্কে কনের আপন চাচা।

​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে মুশুড়িয়া গ্রামে নকুল মল্লিকের ভাতিজির বিয়ের জমকালো আয়োজন চলছিল। পুরো বাড়ি সাজানো হয়েছিল আলোকসজ্জায়। রাত ৮টার দিকে একই উপজেলার ধোপাখোলা এলাকা থেকে বরযাত্রীবাহী গাড়ি কনের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। বর আসার খবরে বিয়ে বাড়িতে আনন্দের ধুম পড়ে যায়।

​ঐতিহ্য ও নিয়ম অনুযায়ী বরকে স্বাগত জানাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কনের চাচা নকুল মল্লিকও বিয়ের প্রধান গেটে এগিয়ে যান। গেটে বরকে মিষ্টি মুখ করানোর শুভ মুহূর্তটিতে ঘটে চরম বিপর্যয়। বরকে মিষ্টি খাওয়ানোর সময় অসাবধানতাবশত গেটের তোরণ ও আলোকসজ্জায় ব্যবহৃত একটি ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুতের তারে নকুল মল্লিকের হাত লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি তীব্রভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

​হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান।

​হঠাৎ এই ঘটনায় বিয়ে বাড়ির আনন্দ-উচ্ছ্বাস মুহূর্তে চিৎকার আর কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নকুল মল্লিককে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে।

​এ ব্যাপারে নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


সম্পর্কিত খবর

;