মে দিবসে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র

গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিন্মতম মজুরি বোর্ড গঠন করা অতিব জরুরি

প্রকাশ : 01 May 2026
গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিন্মতম মজুরি বোর্ড গঠন করা অতিব জরুরি

স্টাফ রিপোর্টার: হান মে দিবস উপলক্ষে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় শ্রমিক সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠনের উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে গার্মেন্ট শ্রমিকরা অনাহার-অর্ধাহারে জীবনযাপন করছে। এর ফলে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু না হলে এই ক্ষোভ বিক্ষোভে পরিণত হবে, যা শিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে এবং এর দায় সরকার ও মালিকপক্ষকেই নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকরা রেশনের দাবি তুললে সরকার অর্থের অভাবের অজুহাতে তা প্রত্যাখ্যান করছে। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বিপুল অর্থ ব্যয়ে বোয়িং বিমান ক্রয় করা হয়েছে। শ্রমিকদের জন্য রেশনিং চালুর বিষয়ে আর দেরি না করে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

আজ শুক্রবার (১ মে ২০২৬) রাজধানীর কমরেড মণি সিংহ সড়কে ট্রাকমঞ্চে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম, সহ-সভাপতি জলি তালুকদার, জিয়াউল কবীর খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, আজিজুল ইসলাম, রিফাত হাবিব, শেখ রাসেল, আঞ্চলিক নেতা আওলাদ হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও তাওলাতসহ অন্যান্যরা।

সভাপতির বক্তব্যে মন্টু ঘোষ বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে অবিলম্বে কারখানাভিত্তিক রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুততম সময়ে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যেসব কারখানার মালিক শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করেননি বা চুক্তি করেও পাওনা দিচ্ছেন না, তাদের বাধ্য করতে হবে। শ্রমিকদের পাওনা আদায়ে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে, অন্যথায় সৃষ্ট পরিস্থিতির দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

এছাড়া শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে নয়, বরং শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে শ্রম আইন সংশোধনের দাবি জানান তিনি।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল লাল পতাকার মিছিল পল্টন মোড়, প্রেসক্লাব ও কদমফুল ফোয়ারাসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এদিন মহান মে দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, আশুলিয়া, কাঁচপুরসহ দেশের ১৩টি গার্মেন্ট শিল্প এলাকায়ও একই দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সম্পর্কিত খবর

;