জাতীয় সংসদ নির্বাচন
স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যতম শরিক এই দলটি ৩৬টি প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলের লা ভিতা হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার তুলে ধরা হয়।
ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে দলের শীর্ষ নেতারা বলেন, দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করতেই এনসিপির এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুশাসন ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভোটাধিকার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবসা পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কর ব্যবস্থায় সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নেতারা আশা প্রকাশ করেন, ঘোষিত ইশতেহার দেশের রাজনীতিতে একটি বাস্তবসম্মত ও জনমুখী বিকল্প হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
ইশতেহারের ৩৬ দফা নিচে তুলে ধরা হলো—
১. জুলাই সনদের যেসব ধারা আইন ও প্রশাসনিক আদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সেগুলো বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে।
২. জুলাই গণহত্যা, শাপলা চত্বর, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ আওয়ামী শাসনামলে সংঘটিত সব মানবতাবিরোধী অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করা হবে।
৩. ধর্মবিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধে স্বাধীন তদন্তক্ষমতাসম্পন্ন মানবাধিকার কমিশনের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হবে।
৪. মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বার্ষিক আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিবরণ এবং সরকারি বরাদ্দের তথ্য ‘হিসাব দাও’ ডিজিটাল পোর্টালে প্রকাশ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।
৫. আমলাতন্ত্রে ল্যাটেরাল এন্ট্রি বাড়ানো হবে এবং স্বাধীন পদোন্নতি কমিশনের মাধ্যমে শতভাগ পারফরমেন্সভিত্তিক পদোন্নতি কার্যকর করা হবে। প্রতি তিন বছরে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মিল রেখে পে-স্কেল হালনাগাদ ও ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
৬. একাধিক কার্ডের জটিলতা দূর করে এনআইডিকেই সব নাগরিক সেবা গ্রহণের একক মাধ্যম হিসেবে চালু করা হবে।
৭. জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ১০০ টাকা নির্ধারণ, বাধ্যতামূলক কর্ম-সুরক্ষা বীমা ও পেনশন চালু করে শ্রম আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
৮. টিসিবির এক কোটি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ট্রাকে লাইনে নয়, নিবন্ধিত মুদি দোকানের মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য করা হবে।
৯. সুনির্দিষ্ট বাড়িভাড়া নীতিমালা প্রণয়ন এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা ওয়াকফ সুকুকভিত্তিক সামাজিক আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
১০. গরিব ও মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ কমিয়ে কর ফাঁকি রোধ করা হবে। কর-জিডিপি অনুপাত ১২ শতাংশে উন্নীত করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে এবং ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে।
১১. এলডিসি উত্তরণকে পরিকল্পিত করতে আগাম এফটিএ ও সিইপিএ, রপ্তানি বৈচিত্র্য, নতুন শিল্প স্থাপন এবং ব্যাংকিং-ইন্স্যুরেন্স-পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরানো হবে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ডেটাবেইস, সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও রাজনৈতিক অধিকার প্রত্যাহার করা হবে।
১২. ব্যবসায় রাজনৈতিক ব্যয় শূন্যে নামাতে চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। ৯৯৯-এর আদলে বিশেষ হটলাইন চালু করে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করা হবে।
১৩. মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশে নামানো হবে। ভুয়া অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ বন্ধ করে রেগুলেটরি সংস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত ও স্কুলভিত্তিক আর্থিক শিক্ষা চালু করা হবে।
১৪. ভোটাধিকার বয়স ১৬ বছরে নির্ধারণ এবং তরুণদের অংশগ্রহণ জোরদারে ইয়ুথ সিভিক কাউন্সিল গঠন করা হবে।
১৫. আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এসএমই খাতে ক্যাশফ্লোভিত্তিক ঋণ, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ও প্রথম পাঁচ বছর করমুক্তি দেওয়া হবে।
১৬. সরকার নিয়ন্ত্রিত প্লেসমেন্ট, ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বছরে ১৫ লাখ নিরাপদ ও দক্ষ প্রবাসী কর্মী তৈরি করা হবে।
১৭. শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করে সব শিক্ষাধারার যৌক্তিক সমন্বয়, শিক্ষকদের পৃথক বেতন কাঠামো এবং পাঁচ বছরে ৭৫ শতাংশ এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হবে।
১৮. উচ্চশিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের সংযোগে স্নাতক পর্যায়ে ছয় মাসের পূর্ণকালীন ইন্টার্নশিপ বা থিসিস গবেষণা বাধ্যতামূলক করা হবে।
১৯. প্রবাসী গবেষকদের ফিরিয়ে আনতে এককালীন ফান্ডিং দেওয়া হবে এবং কম্পিউটেশনাল গবেষণার জন্য ন্যাশনাল কম্পিউটিং সার্ভার স্থাপন করা হবে।
২০. হৃদরোগ, ক্যান্সার, ট্রমা ও জটিল রোগ চিকিৎসায় উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা জোন গড়ে তোলা হবে।
২১. প্রত্যন্ত এলাকায় জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জিপিএস-ট্র্যাকড জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স ও প্রি-হসপিটাল ইমার্জেন্সি সিস্টেম চালু করা হবে এবং জেলা হাসপাতালে আধুনিক আইসিইউ-সিসিইউ স্থাপন করা হবে।
২২. প্রত্যেক নাগরিকের জন্য এনআইডিভিত্তিক ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড ও পর্যায়ক্রমে জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা চালু করা হবে।
২৩. নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নিম্নকক্ষে ১০০টি সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন চালু করা হবে।
২৪. পূর্ণবেতনে ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ও এক মাস পিতৃত্বকালীন ছুটি, পিরিয়ড লিভ ও ডে-কেয়ার সুবিধা বাধ্যতামূলক করা হবে।
২৫. উপজেলা পর্যায়ে নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি বরাদ্দ দেওয়া হবে।
২৬. প্রবাসীদের জন্য ওয়ান-স্টপ ‘ডায়াস্পোরা ডিজিটাল পোর্টাল’ চালু এবং বিমানবন্দর ও দূতাবাসে হয়রানি বন্ধে কঠোর মনিটরিং করা হবে।
২৭. রেমিট্যান্সের বিপরীতে বিনিয়োগ, পেনশন সুবিধা ও ‘রেমিটমাইলস’ চালু করা হবে।
২৮. প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
২৯. ঢাকা ও চট্টগ্রামে একক কর্তৃপক্ষের অধীনে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু এবং মালবাহী ট্রেন বাড়ানো হবে।
৩০. দূষণকারী ইটভাটা বন্ধ, পরিচ্ছন্ন যানবাহন ও সবুজ প্রযুক্তি নিশ্চিত করে পাঁচ বছরে ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করা হবে।
৩১. সব শিল্পকারখানায় ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করে শিল্পদূষণ ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ করা হবে।
৩২. এনআইডিভিত্তিক যাচাইয়ের মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি ক্যাশব্যাক ভর্তুকি এবং কোল্ড স্টোরেজ ও সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
৩৩. দেশীয় বীজ গবেষণা জোরদার করে খাদ্য সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত এবং খাদ্য ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩৪. সীমান্ত হত্যা, নদীর পানি বণ্টন, অসম চুক্তি ও অন্যান্য ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান নেওয়া হবে।
৩৫. দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সমাধান এবং আসিয়ানভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৩৬. জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে রিজার্ভ ফোর্স গঠন, ইউএভি ব্রিগেড ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উত্থাপিত এ-সংক্রান্ ...
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে নতুন আইনগত পদক্ষেপ। সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে, যার ফলে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ...
স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক জাতীয় সংসদ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তার রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদনও না ...
স্টাফ রিপোর্টার: ভোলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ওই নারীর নাম বিবি সাওদা (৩৭)। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ...
সব মন্তব্য
No Comments