ফরিদপুর শ্রীঅঙ্গনে ধর্মীয় মহোৎসব:শেষ পর্যায়ে নয় দিনের মহানামযজ্ঞ

প্রকাশ : 02 May 2026
ফরিদপুর শ্রীঅঙ্গনে ধর্মীয় মহোৎসব:শেষ পর্যায়ে নয় দিনের মহানামযজ্ঞ

অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরে শ্রীশ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে আয়োজিত নয় দিনব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও ধর্মীয় উৎসব শনিবার সমাপ্তির প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। সমাপনী দিনের বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচিকে ঘিরে ইতোমধ্যে ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং পুরো শ্রীঅঙ্গন প্রাঙ্গণ এখনো ভক্তিময় আবহে মুখরিত রয়েছে।


গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এ ধর্মীয় আয়োজন পুরো সময়জুড়ে কীর্তন, লীলা-কথা, ভোগ আরাধনা ও বিভিন্ন আধ্যাত্মিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এক গভীর ভক্তিময় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক ভক্ত-অনুরাগীর অংশগ্রহণে শ্রীঅঙ্গন এলাকা ধর্মীয় আবেগ ও আধ্যাত্মিকতার মিলনমেলায় পরিণত হয়, যা পুরো আয়োজনকে আরও বর্ণাঢ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।


উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপী অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় দুপুরের পর থেকেই শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গন প্রাঙ্গণে ভক্ত-অনুরাগীদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম আরও ঘনীভূত হলে পুরো এলাকা এক অনন্য ধর্মীয় মিলনমেলায় পরিণত হয়।


ভক্তদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।প্রশাসনিক ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, দূরদূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের কারণে নগরীর স্বাভাবিক চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।


শুধু ফরিদপুর শহরই নয়, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকেও অসংখ্য ভক্ত ও অনুসারী এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। গভীর রাত পর্যন্তও শ্রীঅঙ্গন প্রাঙ্গণে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাত প্রায় ১২টা ২০ মিনিটেও অনেকে প্রসাদ গ্রহণ এবং কীর্তন শ্রবণে মগ্ন ছিলেন, যা পুরো পরিবেশকে আধ্যাত্মিকতায় পরিপূর্ণ করে তোলে।


উৎসবকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী মহিম স্কুল মাঠে বসানো হয়েছে একটি মেলা। সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন দোকানে ক্রেতা-ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এবারের মেলায় বেচাকেনা তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক হয়েছে এবং ভক্ত সমাগমের কারণে ব্যবসায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।


এদিকে, অংশগ্রহণকারী ভক্তরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের এই মহানামযজ্ঞে অংশ নিতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি। এখানে এসে মন শান্তি ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তি পাচ্ছি।”


আরেক ভক্ত বলেন, “দূরদূরান্ত থেকে এসে কীর্তন শ্রবণ করা আমাদের জন্য এক অপার আনন্দের বিষয়। এই আয়োজন আমাদের ভক্তিভাবকে আরও গভীর করে তুলেছে।”


আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা গেছে, সমাপনী দিনে শনিবার প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের ভোগ আরাধনা, নগর কীর্তন, পূর্ণাহুতি ও ফুলদোল উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭টায় একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হবে, যা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সূচনা স্থলে এসে শেষ হবে।


উল্লেখ্য, শ্রীশ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে প্রতিবছরই ফরিদপুরে এ মহাযজ্ঞ ও ধর্মীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্তদের অংশগ্রহণে এ আয়োজনটি একটি বৃহৎ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক মিলনমেলায় রূপ নেয়।


সম্পর্কিত খবর

;