জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব সম্পর্কে বাসদ

প্রকাশ : 12 Oct 2025
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব সম্পর্কে বাসদ

ডেস্ক রিপোর্ট: গত ৯ অক্টোবর ২০২৫ রাত ১০:৩৮ মিনিটে ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপ-এ জাতীয় ঐকমত্য কমিশন থেকে প্রেরিত চিঠিতে বিদ্যামান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক-এ উল্লেখিত বিধান বিলুপ্তির বিষয়ে বাসদের মতামত চেয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়। ঐ চিঠির জবাব হিসেবে দলের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গতকাল ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপ মারফত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে প্রেরণ করা হয়। দেশবাসীর জ্ঞাতার্থে সেই চিঠির বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো।


চিঠিতে বাসদ সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, দীর্ঘ আলোচনার পর জুলাই সনদের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ৮৪টি প্রস্তাবিত সুপারিশে রাজনৈতিক দলসমূহ অধিকাংশ সুপারিশে সর্বসম্মত একমত হয়েছে। বেশ কিছু বিষয়ে দলসমূহের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও দলসমূহের মধ্যে ঐকমত্য হয়নি। আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম যে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের স্বাক্ষরে কমিশন বৃহস্পতিবার দলগুলোকে যে চিঠি দিয়েছে, তাতে বলা হয়, “সংবিধানের ‘অনুচ্ছেদ ৪ক’ বিলুপ্তির প্রস্তাব জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।” অথচ গত ১৭ সেপ্টেম্বর ’২৫ ঐকমত্য কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলসমূহের সভায় কমিশনের তরফে বলা হয়েছিল, জাতীয় সনদে আর কোনো পরিবর্তন গ্রহণ করা হবে না। সে অনুযায়ী কোনো দল জাতীয় সনদের চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে কোনো আলোচনা না করলেও খোদ কমিশনের পক্ষ থেকেই নতুন বিষয়ে দলগুলোর মতামত চাইছে। ‘এটা ঐকমত্য কমিশনের পূর্বেকার সিদ্ধান্তের সুষ্প্ষ্ট লঙ্ঘন’।


আমরা কমিশনকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর একটি রীট মামলায় মাননীয় উচ্চ আদালত এ সংক্রান্ত এক রায়ে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক বিষয় আগামীতে নির্বাচিত জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। আমাদের দলও তা সঠিক বলে মনে করি।’ সংবিধানের ৪ক অনুচ্ছেদ নিয়ে ইতিপূর্বে কোন সভায় আলোচনা হয়নি অথচ সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে মতামত চাওয়া হয়েছে।


আমরা মনে করি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক এর মত স্পর্শকাতর বিষয়ের বিলুপ্তির প্রস্তাব নতুন করে জটিলতা ও বিতর্কের অবতারনা করবে। আমরা কমিশনকে এই প্রস্তাব থেকে সরে আসার জন্য অনুরোধ করছি।


আমরা বিদ্যমান সংবিধানের রাষ্ট্রীয় ৪ মূলনীতি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব থেকেও কমিশনের বিরত থাকা বাঞ্ছনীয় মনে করি। আমরা জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করতে চাই। তার জন্য উপরোক্ত বিষয়সমূহের ব্যাপারে কমিশনের যথাযথ পজেটিভ পদক্ষেপ আশা করি। অন্যথায় আমাদের দলসহ অনেক দলের পক্ষে সনদে স্বাক্ষর করা হয়তো অসম্ভব হয়ে পড়বে।


আমরা মনে করি পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার চেতনা বাণিজ্য করে দেশকে বাইনারি পলিটিক্স এর মধ্যে ঢুকিয়ে বিভেদ বিভক্তির সৃষ্টি করে দেশকে নৈরাজ্যকর অবস্হায় নিয়ে গিয়েছিল। তা থেকে মুক্তির জন্যই ছাত্র শ্রমিক জনতা ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করেছে। ফলে রাষ্ট্রীয় ৪ মূলনীতি বাদ দেওয়াকে ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপপ্রয়াস বলে দেশবাসী ভাবতে পারে। যা দেশকে নতুন করে বিভাজনের রাজনীতির ভয়ংকর পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আমাদের আশংকা। তাছাড়া দেশের মানুষ বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলের দুর্নীতির বিচারের অগ্রগতি নিয়ে যেমন আশাবাদী হতে পারছেনা, তেমনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কতিপয় উপদেষ্টা ও সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সম্পর্কেও নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে তা নিয়েও জণগণ খুবই উদ্বিগ্ন। ফলে নতুন বিতর্ক তৈরি না করে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া সুপারিশ বাদ দিয়ে, যে সকল বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দল সর্বসম্মতভাবে ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো নিয়ে জুলাই সনদ প্রণয়ন ও সকলের স্বাক্ষরের ব্যবস্হা করুন। পাশাপাশি বিগত সরকার ও বর্তমান সময়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায় দেশবাসী।

সম্পর্কিত খবর

;