বর্ডার পার হয়ে গেল ২০০ গরু, বিএসএফ জানালে জানলো বিজিবি

প্রকাশ : 19 Apr 2026
বর্ডার পার হয়ে গেল ২০০ গরু,  বিএসএফ জানালে জানলো বিজিবি

পাভেল ইসলাম মিমুল রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর সীমান্ত এলাকা চরখানপুরের ৬০ বিঘা চরে একদল রাখাল ২ শতাধিক গরু চরাচ্ছিল মাঠে,গরুগুলো ঘাস খেতে খেতে ভারতীয় সীমানায় ঢুকে পড়ে,যখন গরুগুলো ভারতীয় সীমান্তের অনেক ভেতরে ঢুকে পড়ে, তখন ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দেখতে পেয়ে ছবি তোলেন,এরপর খবর পাঠান বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী (বিজিবি) বাহিনী'র কাছে। 


খবর পেয়ে চরখানপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ তড়িঘড়ি করে গরুগুলোকে বাংলাদেশের সীমানায় ফিরিয়ে আনেন। ব্যবস্থা নেন ঐ কৃষকদের বিরুদ্ধে,তাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেন খোয়াড়ের নামে। খোয়াড় মালিককে পরের দিন জানানো হয়।


গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজশাহী নগরীর অদূরে পদ্মা নদীর ওপারে চরখানপুর বিজিবি ক্যাম্পের বিরুদ্ধে এরকম-ই দায়িত্বহীনতার অভিযোগ ওঠে।


শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সেখানে গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত হলে স্থানীয়রা ঘটনার সত্যতা জানান। তারা জানান,গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষি নির্ভর। প্রতিটি বাড়ীতেই রয়েছে ৫ থেকে শুরু করে ১০০ টি পর্যন্ত গরু। চরের জমিতে দিনভর গরুগুলো চরে বেড়ায়,রাজশাহী শহরের প্রায় ৭০ ভাগ দুধের চাহিদা মেটে এই গ্রাম থেকেই। 


তারা বলেন,চরের নিরাপত্তাহীন আর নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত মানুষগুলো অসহায় জীবন-যাপন করে। এরপরও নানা অযুহাতে তাদের ওপর চলে বিজিবি সদস্যদের নানা নির্যাতন। বিজিবি সদস্যরা নানা ওছিলায় টাকা তোলে আমাদের কাছ থেকে। গত পরশুও গ্রামের একদল রাখাল না বুঝে সীমান্ত পার হয়ে গেলে,তাদের ওপর চালানো হয় নির্যাতন,তোলা হয় গরু প্রতি ১০০ টাকা করে। 


এঘটনায় ভুক্তভোগী গরুর মালিক মেরাজুল,সিজান,চনা, হুমা,আনারুল ও আজিম-সহ কয়েকজন জানান,তারা সাধারণ কৃষক,সীমান্তের নিয়ম-কানুন তেমন বুঝেন না। কিন্তু বিজিবির উচিত ছিল আগে থেকে আমাদের সতর্ক করা। অথচ তারা তা করেননি,বরং পরে গরু ধরে জরিমানা করেছে। শুধু গরু ধরেই ক্ষ্যান্ত হয়নি,তাদের (গরু মালিক) থেকে মোটা অংকের টাকাও নিয়েছে বিজিবি। 


এদিকে গরুর মালিকদের দাবি,তারা সরাসরি বিজিবির সদস্যদের হাতেই টাকা দিয়েছেন। কিন্তু বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে,টাকা খোয়াড়ের ইজারাদারের কাছে গেছে,যা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।


খোযাড়ের মালিক সাজ্জাদ হোসেন জানান,আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না,ওদের টাকাও তুলিনি,গ্রামের লোকজন হিসাব করে আমাকে ১২ হাজার ৩০০ টাকা দিয়েছে।


সূত্র বলছে,১৫ তারিখের ঘটনা হলেও সেটি গড়িয়ে পরদিন ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে গরুগুলোর মধ্যে অন্তত ১৮০টির বিপরীতে মোট প্রায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা নেওয়া হয়েছে।তবে বিজিবি বলছে ১২০ টি গরুর জরিমানা ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। যা ৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। 


ক্যাম্পের ইনচার্জ সুবেদার সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। নিয়ম অনুযায়ী সব করা হয়েছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষরা বিষয়টি জানেন বলেও জানান তিনি। শুক্রবার জরিমানার বিষয়টি খাতায় এন্ট্রি করা হয়েছে। ঘটনা বুধবারের এন্ট্রি শুক্রবারে কেন প্রশ্ন করলে তিনি কোন উত্তর দেননি। 


স্থানীয়ের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে সীমান্তে নিয়মিত টহল ও নজরদারির দায়িত্বে থাকা বিজিবি কেন আগে থেকে বিষয়টি জানতে পারেনি ? কেন বিএসএফ জানানোর পর তাদের তৎপরতা দেখা গেল ? যদি গরুর জায়গায় পাচারকারিরা মাদক ও অস্ত্র নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতো তাহলে তারা কি করতেন ? আবার ঘটনা ঘটছে ১৫ তারিখ দুপুরে,জরিমানা নিলেন ১৬ তারিখে।


ঘটনাটি মিডিয়ার নজরে আসলে ১৭ তারিখ বিকালে সরকারিভাবে ঘটনাটি রেকর্ডভুক্ত করা হয়। বিষয়টি বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।


সম্পর্কিত খবর

;