ডেস্ক রিপোর্ট: গত ১৪ এপ্রিল রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী রেলস্টেশনে ঋণে জর্জরিত এক বৃদ্ধ পেঁয়াজ চাষী মীর রুহুল আমিন ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এর আগে গত ২৬ মার্চ মেহেরপুরের মুজিবনগরে আরেক পেঁয়াজ চাষী সাইফুল শেখ নিজের পেঁয়াজ খেতে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন। দুইজন পেঁয়াজ চাষে অতিরিক্ত লোকসানের কারণে আত্মহত্যা করেছেন। পরপর দুজন পেঁয়াজ চাষীর আত্মহত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের আহবায়ক আহসানুল আরেফিন তিতু ও সাধারণ সম্পাদক অজিত দাস এক বিবৃতিতে বলেন- ' পরপর দুজন পেঁয়াজ চাষীর আত্মহত্যা শুধু আত্মহত্যা নয়, এটা রাষ্টীয় কাঠামোগত হত্যাকান্ড। কৃষকদের আত্মহত্যার জন্য রাষ্ট্রের কৃষি ব্যবস্থাপনা দায়ী। পেঁয়াজ চাষী থেকে শুরু করে ধান, আলু, সবজি, মাছ, কৃষক যে ফসলই চাষ করুক লোকসান তাঁর অবধারিত। কৃষককে লোকসানে পড়তে বাধ্য করে রাষ্ট্রের কৃষি ব্যবস্থাপনা। এবছর কৃষক যখন পেঁয়াজ রোপণ করছিল তখন বীজের দাম ছিল কয়েকগুণ, সার-কীটনাশকের দাম তো প্রতিনিয়ত বাড়ছেই। উপকরণের দাম বৃদ্ধির সাথে যুক্ত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকার তখন কোন ব্যবস্থা নেয় নি। কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করেনি। ফলে কৃষকরা চড়া সুদে এনজিও মহাজনের কাছে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছে। যখন ফসল উঠল তখন প্রতিমণে মুড়িকাটা পেয়াজে ১২০০-১৫০০ টাকা এবং হালি পেঁয়াজে ৫০০-৭০০ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। এই লোকসানের পেছনে দায়ী পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের হাতে পুরো বাজার, সংরক্ষণ, আমদানি সবকিছু নির্ভর করে। সরকার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। অথচ সরকারিভাবে পেয়াজের দাম নির্ধারণ করে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্রয়বিক্রয়, কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলে কৃষক উপকৃত হত। সরকার এসকল ব্যবস্থা না নিয়ে বরং ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে সহযোগিতা করে। সকল সরকারই একই কাজ করে। ফলে পেঁয়াজ চাষীরা সীমাহীন লোকসানে পড়ে ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে কৃষকদের এই মৃত্যুর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।
শুধু পেঁয়াজ চাষী নয়, ধান, আলু, সবজি, মাছ সহ সকল ফসলের চাষীরা এই নির্মম শোষণের শিকার। এ বছর আলু চাষীরা ভয়াবহ লোকসানের মুখে পড়েছে। সরকার আলু চাষীদের রক্ষায় কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয় নি। বোরো মৌসুমে ধান কাটা শুরু হয়েছে অথচ ধান কেনার ক্ষেত্রে সরকার এমন নীতি ঘোষণা করেছে যার মাধ্যমে অবধারিতভাবে কৃষক লোকসানে পড়বে। সরকারের এই ভুমিকার ফলে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী ও কর্পোরেট কোম্পানিগুলো কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনির মুনাফা লুটেপুটে খাচ্ছে। আর কৃষক ঋণগ্রস্ত হয়ে ভিটেমাটি বিক্রি করে সর্বশান্ত হচ্ছে।'
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে আত্মহত্যায় বাধ্য হওয়া দুই কৃষকের পরিবারকে তাদের সারাজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেয়া, তাদের সকল ঋণ মওকুফ, সকল ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজ চাষীদের ক্ষতিপূরণ, আলু-ধানসহ সকল ফসলের লাভজনক মূল্য নিশ্চিত, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দাবি জানান। একইসাথে নির্মম কৃষক শোষণের এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে নেতৃবৃন্দ সারাদেশের কৃষক এবং বিবেকবান মানুষের প্রতি আবেদন জানান।
দাবিসমুহ-
১. অবিলম্বে আত্মহত্যায় বাধ্য হওয়া দুই কৃষকের পরিবারকে তাদের সারাজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তাদের সকল ঋণ মওকুফ করতে হবে।
২. লোকসানের শিকার সকল পেঁয়াজ চাষীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৩. আলু-ধানসহ সকল ফসলের লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
৪. সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
স্টাফ রিপোর্টার: জুলাইয়ের আন্দোলন ঘিরে করা আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তিন ...
স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং দেশের অন্যতম প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ...
ডেস্ক রিপোর্ট: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পুলিশের উপস্থিতিতে এক পীরের আস্তানায় উগ্র ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হামলা ও কুপিয়ে পীর শামীমকে হত্যা, দরবার শরীফ ভাংচুর এবং শাহবাগ থানার সামনে ট্রান্স জেন্ডার ...
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহতারাম আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদের ভেতরে যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে পারব, কথা বলতে পারব, ততদিন সংসদে থ ...
সব মন্তব্য
No Comments