সাতক্ষীরায় রইচপুর পশ্চিমপাড়া ঈদগাহে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : 28 May 2026
সাতক্ষীরায় রইচপুর পশ্চিমপাড়া ঈদগাহে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রইচপুর পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৭:৩০ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।


এবারের ঈদ জামাতে দলমত ও বয়স নির্বিশেষে সর্বস্তরের মুসলিম উম্মাহর ঢল নামে। ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্রের সব ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রইচপুর ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মুসল্লিরা নামাজে অংশ নেন। রইচপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল বাকী ঈদের নামাজ পরিচালনা করেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।


নামাজ ও খুতবা শেষে উপস্থিত সকল মুসল্লিরা সমবেত কণ্ঠে— “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ” তাকবির ধ্বনি আদায় করেন। জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাজের পর এই তাকবির পড়ার বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরেন ইমাম সাহেব। তাকবিরের এই পবিত্র ধ্বনি উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে এক আবেগঘন ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে।


ঈদ জামাতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাতক্ষীরা পৌর বর্তমান যুগ্ন আহবায়ক জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল সাতক্ষীরা জেলা শাখা এস এম মহাসিন আলম, বাংলাদেশ জামাত ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখা সাত নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও ওয়ার্ড আমির হাফেজ নূরুল হক, সাত নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, রইচপুর মধ্যপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি রুহুল আমিন, তরুণ উদ্যোক্তা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ ফেরদৌস আল সামি, ইকরামুল ইসলাম, মো. সজলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


নামাজ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, "ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। আজ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য আমরা সকল মুসলমান ভাই এক জায়গায় সমবেত হতে পেরেছি, এটি অত্যন্ত আনন্দের।"


বক্তারা সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্দেশনা মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, ত্যাগের এই আনন্দ যেন পরিবেশের ক্ষতির কারণ না হয়। তারা সকল মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পশু কোরবানির পর জবাইকৃত পশুর রক্ত ও বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট একটি স্থানে ফেলতে হবে। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য জমা রাখলে সাতক্ষীরা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা তা সহজেই অপসারণ করতে পারবে। পরিবেশ যেন কোনোভাবেই দূষিত না হয়, সেদিকে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তারা।


আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ হলো ত্যাগের উৎসব। এটি মূলত হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর অনন্য আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক স্মৃতি বহন করে এবং মানুষের ভেতরের পশুত্ব ও লোভ-লালসাকে বিসর্জন দেওয়ার শিক্ষা দেয়। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর হয় এবং সামাজিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়।


ঈদের নামাজ, তাকবির পাঠ ও মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।


সম্পর্কিত খবর

;