যারা নারীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা দেশকেও নিরাপত্তা দিতে পারবে না: আমীরে জামায়াত

প্রকাশ : 27 Jan 2026
যারা নারীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা দেশকেও নিরাপত্তা দিতে পারবে না: আমীরে জামায়াত


যশোর অফিস: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি দল একদিকে নারীদের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার কথা বলছে, অথচ অন্যদিকে মা-বোনদের গায়ে হাত তুলছে। যারা এখনই মা-বোনদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, তাদের হাতে বাংলাদেশের কোনো নারীই নিরাপদ নয়। তারা নিজেদের আদর্শ প্রচার করতে পারে, অথচ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি প্রচারে বাধা দেয়-এটা কোন ন্যায়বিচার? কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কে আপনি, একজন মায়ের গায়ে হাত দেওয়ার? এটি পুরো জাতির মায়ের ওপর আঘাত, যা আমরা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবো না। যশোরেও এমন ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই-দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিন। যারা নারীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা দেশকেও নিরাপত্তা দিতে পারবে না। 


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ ২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) যশোর ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


যশোর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো. গোলাম রছূলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।


তিনি বলেন, আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন, তাহলে যশোরকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করবো ইনশাআল্লাহ। আপনাদের সব দাবি যৌক্তিক। আমরা প্রত্যেক মানুষের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেবো। সেই সুযোগটা আসবে জনগণের হাত দিয়ে। উসিলা জনগণের হাতে-১২ তারিখ ভোটের মাধ্যমে।


তিনি আরও বলেন, অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি পরিহার করে খাঁটিভাবে হবে জনগণের রাজনীতি। তার জন্য গণভোটের ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। ১৮ কোটি মানুষ পরিবর্তন চায়। হ্যাঁ মানে আজাদি। হ্যাঁ ভোট জিতলে বাংলাদেশ জিতে যাবে। জনগণের ভালোবাসা নিয়ে হ্যাঁ ভোট জিতে যাবে ইনশাআল্লাহ। হ্যাঁ ভোট জয়ী না হলে সরকার গঠন করে কোনো লাভ হবে না। আগে ভিত্তি হলো হ্যাঁ ভোট।


তিনি বলেন, আপনারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন নিজেদের আকাক্সক্ষা পূরণের জন্য। জুলাইয়ের শহীদদের শ্রদ্ধা দেখানোর জন্য, তাদের যে আকাক্সক্ষা ছিল তা বাস্তবায়নের জন্য, ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজির যাঁতাকল থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য।


আপনারা জিজ্ঞেস করতে পারেন- আমরা ক্ষমতায় গেলে এসব থেকে মুক্ত থাকবো, তার প্রমাণ কী? হ্যাঁ, প্রমাণ আছে। ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত আমাদের দুইজন ব্যক্তি তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তারা হাতের দশটি আঙুল পরিষ্কার রেখেছিলেন। স্বজনপ্রীতিতে জড়াননি। তারা শুধু সৎই ছিলেন না, তারা স্মার্টও ছিলেন। কৃষি ও শিল্পে বিপ্লব তৈরি করেছিলেন। 


যে দলের নেতৃবৃন্দ অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করে হাসতে হাসতে ফাঁসির কাষ্ঠে দাঁড়াতে পারে, সেই দলের লোকেরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না। এই দলটি তিলে তিলে জ্বলে জ্বলে পরীক্ষিত হয়ে গেছে। যারা আমার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তারা শিক্ষা পেয়ে গেছে।


৫ আগস্ট পরবর্তী কী হলো? অনেকের চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল। তারা অন্যায় আচরণে জড়িয়ে গেছে। এখানে কেউ চাঁদাবাজি করে? জানি আপনাদের এখানেও চাঁদাবাজি হয়, মামলাবাজি হয়? আমরা কারও ওপর প্রতিশোধ নেবো না। যে কারও প্রতিকার চাওয়ার অধিকার আছে। তবে সাবধান-একজনকেও অন্যায়ভাবে আসামি করবেন না।


তিনি বলেন, আমাদের ৮টি মামলার আসামি মাত্র ১ জন। আমাদের মামলার সর্বোচ্চ আসামি ৯৮ জন। কিন্তু আমাদের কোনো কোনো ভাই হাজারে হাজারে মামলা করছেন-এগুলো মানুষকে হয়রানি করার শামিল। আমরা আশা করি- এসব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আপনারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন। 


তিনি আরও বলেন, আমরা কারও কাছ থেকে চাঁদা নেইনি, টেম্পোস্ট্যান্ডের দখল নিয়ে ঝগড়ায় জড়াইনি, কোনো মা-বোনের ইজ্জত নিয়ে টানাটানি করিনি। যে দল তার সহকর্মীদের শামলিয়ে রাখতে পারে, তারাই বাংলাদেশকে শামলিয়ে রাখতে পারে। যারা নিজের দলের কর্মীদের শামলিয়ে রাখতে পারে না, তাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়- তারা যত বড় বা মাঝারি দলই হোক না কেন।


তিনি বলেন, দেশ গড়ার আগে দলটাকে ভালো করে গড়ুন- তাহলেই দেশও লাভবান হবে। এক্ষেত্রে আমাদের কোনো সহযোগিতা লাগলে আমরা করবো। আগে শৃঙ্খলায় আসুন।


তিনি বলেন, হাজারো নির্যাতন, গুম ও খুন চালানো হয়েছে আমাদের ওপর। আমরা যখন শহীদ পরিবারে যাই, তখন দেখি- শিশু সন্তান দেয়ালে বাবার ছবি এঁকে বলে, ‘বাবা, তুমি কখন আসবে?’ বাংলাদেশকে আবার কেউ যদি সেদিকে নিতে চায়, তাহলে আমরা রুখে দেবো। কালো অধ্যায় ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।


তিনি যুবকদের প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের যুবকরা জেগে উঠেছে। তারা বলেছে- আমরা ন্যায়ের পক্ষে, সত্যের পক্ষে। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা তা জানিয়ে দিয়েছে। আর যেসব নির্বাচন হবে তা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকে নিজেকে গণতন্ত্রের উদ্ধারকারী বলে, অথচ তারাই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে দেয় না। আশ্চর্য ব্যাপার-এক অঙ্গে কত রূপ!


তিনি বলেন, আমরা যা বলবো, তা যেন করতে পারি। আজ আমাদের মায়েদের বলা হয়- ভোট কাকে দেবেন? তারা বলেন- জামায়াতকে দেবো। কেন দেবেন? উত্তরে তারা বলেন- তাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে, আমিও নিরাপদ থাকবো।


একজন মডেলকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল-কাকে ক্ষমতায় দেখতে চান? তিনি বলেন- জামায়াতকে চাই। জিজ্ঞেস করা হলো-তাদের কোন দিকটা ভালো লাগে? তিনি বলেন-সারা জামায়াতই ভালো লাগে। তিনি আরও বলেন-যদি বোরকা পরতে হয়, তাহলে পরবো। আমরা জামায়াতেই ভরসা পাই, নিরাপত্তা বোধ করি।


তিনি আরও বলেন, আমরা একা দেশ চালাবো না। ১১টি দল একত্রিত হয়েছি। এই জাতিকে নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দেবো না। বেকার ভাতা দিয়ে বেকারের লজ্জাজনক পরিচয় দিতে চাই না। আমরা তাদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবো। দক্ষতা ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে কাজ দেওয়া হবে। বেকার ভাতা দেওয়া মানে বেকারত্বকে উৎসাহিত করা।


তিনি বলেন, মায়েদের জন্য চলাচলের বিশেষ বাস ও ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করা হবে। দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সময় বিমানকর্মীরা প্রশ্ন করেন- নিজের ধর্ম অনুযায়ী পোশাক পরার স্বাধীনতা থাকবে কি না? আমি বলি- হ্যাঁ। আল্লাহ যদি সুযোগ দেন, সবাই নিজের ধর্ম অনুযায়ী স্বাধীনভাবে পোশাক পরতে পারবে।


সিন্ডিকেটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। সিন্ডিকেট পুরো দেশকে অবশ করে ফেলেছে। চাঁদাবাজদেরও সম্মানিত করবো- সমাজে লজ্জাজনক পরিচয়ে রাখতে চাই না। কোনো দুর্বৃত্ত যদি কারও ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চায়, আপনারা কি বসে থাকবেন? তরুণরা জেগে থাকলে বাংলাদেশ জেগে থাকবে। যে তরুণরা বুকের রক্ত দিয়ে নতুন বাংলাদেশ এনেছে, তারাই নতুন বাংলাদেশে পরিবর্তন নিশ্চিত করবে ইনশাআল্লাহ।



সম্পর্কিত খবর

;