ত্রয়োদশ নির্বাচন ঘিরে পূজায় ভোট রাজনীতি

প্রকাশ : 01 Oct 2025
ত্রয়োদশ নির্বাচন ঘিরে পূজায় ভোট রাজনীতি

স্টাফ রিপোর্টার: সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা গাজীপুরে উদযাপিত হচ্ছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। চারদিকে বাদ্য-বাজনা,ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ও আনন্দঘন পরিবেশে মণ্ডপজুড়ে পূজারিদের পদচারণায় উৎসব রঙ ছড়াচ্ছে। 

তবে এবারের পূজা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব বহন করছে, কারণ সামনে রয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট টানতে রাজনৈতিক দলের নেতারা মণ্ডপে মণ্ডপে ছুটে যাচ্ছেন। শুভেচ্ছা বিনিময়, উপহার প্রদান ও আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আস্থা অর্জনে সচেষ্ট হচ্ছেন তারা। 

এদিকে, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মহাষষ্ঠী দিয়ে দুর্গাপূজার সূচনা হয় এবং বিজয়া দশমীর মাধ্যমে বৃহস্পতিবার প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডেমরা থানা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক তপন চন্দ্র দাস। তিনি বলেন,

এ বছর অত্যন্ত সুন্দরভাবে পূজা উদযাপিত হচ্ছে। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এবার শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হচ্ছে। তিনি বলেন, আগে থেকেই সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান রয়েছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। গত রোববার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এই পূজা রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। মন্দির-মণ্ডপে সোহার্দ ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। সর্বশেষ গতকাল বুধবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, গণ অধিকার পরিষদ, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ গাজীপুরের মন্দির ও পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। গাজীপুর মহানগরের কৃপাময়ী কালী মন্দিরে বিএনপির পক্ষ থেকে পূজারিদের মাঝে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন মহানগর সভাপতি শওকত হোসেন সরকার। একইভাবে জামায়াতে ইসলামির মহানগর আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন মণ্ডপ পরিদর্শন করে পূজার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং ধর্মীয় সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। নেতাদের উপস্থিতি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ গাজীপুরের দুর্গাপূজাকে আরও বর্ণিল করে তুলেছে, তবে ভোটের রাজনীতিতে এই সম্প্রীতির বার্তাকে অনেকে দেখছেন কৌশল হিসেবেও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিন্দু ভোটারদের মন জয় করতেই পূজায় বাড়তি সক্রিয়তা দেখাচ্ছেন নেতারা। গাজীপুরে পূজার এই চিত্র বাংলাদেশের ধর্মীয় সহনশীলতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার এক অনন্য মেলবন্ধন হয়ে উঠেছে।

শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন তারেক রহমান: দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে গত রোববার শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাতে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছাসহ কুশলবিনিময় করেন। এর আগে রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শীর্ষ সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকসহ কুশলবিনিময় করেন। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা জানান জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সরকারের কাছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কোনো দাবিই পূরণ করা হয়নি। তাই রাষ্ট্রকে বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখতে হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন অনিরাপদ না হয়।

পূজা ঘিরে গুজব মনিটর করছে এনটিএমসি মহাপরিচালক: এবার শারদীয় দুর্গাপূজায় গুজবের পরিমাণ গতবারের তুলনায় অনেক কমেছে বলে জানিয়েছেন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা। তিনি জানান, এ বিষয়টি মনিটর করা হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এনটিএমসিতে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ ব্যবহার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এনটিএমসি মহাপরিচালক বলেন, একটি পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। সেটি দেশের ভিতর থেকে হোক বা দেশের বাইরে থেকে হোক। গুজব নিয়ে প্রতিটি ঘটনার ফ্যাক্ট চেক করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপ নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। ফেসবুক ও ইউটিউবে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হলে তা প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সামাজিক মাধ্যম মনিটরিংও করা হচ্ছে বলেও জানান আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা। তিনি বলেন, এবার শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে গুজব তৈরি করে সুবিধা করতে পারছে না। কারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, সেটা সবাই জানে। তিনি আরও বলেন, আমরা কখনই হিন্দু-মুসলিম আালদা করে দেখিনি। আমারা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি, যেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে তাদের উৎসব করতে পারেন। এ সময় তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে যদি সরকারের পক্ষ থেকে এরকম সুরক্ষা অ্যাপ চায়, তাহলে এনটিএমসির পক্ষ থেকে তা অবশ্যই করা হবে।

সম্পর্কিত খবর

;