বিশেষ প্রতিনিধি : মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ‘প্রবাসীর কথা’ গ্রন্থের লেখক নূরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না-ইলাইহি রাজিউন)।
মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি ) সন্ধ্যায় তিনি লন্ডনের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তিনি স্ত্রী, একছেলে, এক মেয়ে এবং নাতি-নাতনি, আত্মীয় স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
দুঃসাহসী সাধক ও গবেষক নুরুল ইসলাম ‘প্রবাসীর কথা’ নামে সহস্রাধিক পৃষ্ঠার গবেষণা গ্রন্থ রচনা করে জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘প্রবাসীর কথা’র লেখক হিসেবে ২০১২ সালে তিনি বাংলা একাডেমি’র ফেলোশিপ লাভ করেন। এই গ্রন্থে প্রবাসের সুখ-দুঃখ, যাপিত জীবনের সুবিধা-অসুবিধা এবং দেশবাসীর কাছে চাওয়া-পাওয়ার কথা ফুটে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে বাঙালি জাতির সংগ্রাম গাঁথা জীবন কথা খুঁজে পেতে হলে এটি প্রথম এবং নির্ভরযোগ্য দলিল।
প্রবাসী অন্তপ্রাণ নুরুল ইসলাম ব্যারিস্টারি পড়তে লন্ডন যান। এখানে এসেই আইয়ুব-বিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। নুরুল ইসলাম এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে অল্পদিনে ছাত্র ও সুধী মহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
১৯৬৩ সালে ‘ন্যাশনাল ফেডারেশন অব পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন ইন গ্রেট ব্রিটেন’ গঠনের অন্যতম প্রধান ছিলেন। পরের বছর ১৯৬৪ সালে ‘ইস্ট পাকিন্তান হাউস’ প্রতিষ্ঠায়ও তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন। আন্তর্জাতিক প্রচার তৎপরতার কৌশল নির্ধারণের জন্য বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মিলিত হবার জন্য ১৯৬৬ সালে তিনি দেশে ফিরেন। পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীনতার নামে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেফতার ও পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে। ফলে যথাসময়ে লন্ডনে ফিরে আসতে পারেননি। এতে লেখাপড়ার ব্যত্যয় ঘটে।
লেখক ও গবেষক নুরুল ইসলাম তখন দেশ থেকে ৬-দফা আন্দোলনের পক্ষে প্রচার তৎপরতায় সক্রিয় হন। তিনি ‘৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে ৪ ও ৫ নং সেক্টরের প্রতিনিধি দেওয়ান ফরিদ গাজীর (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা সম্পন্ন) একান্ত সচিব ছিলেন।
১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বর্হিবিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায়ে তিনি সচেষ্ট হন। বাংলাদেশ সরকারের ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি আব্দুস সামাদ আজাদের সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সফর করেন। স্বাধীনতার পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রাপ্তির জন্য তার ইউরোপীয় বন্ধুদের মাধ্যমে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছেন।
১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রবাসীদের কল্যাণার্থে প্রবাসী বাঙালি কল্যাণ বোর্ড’ গঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন হিসেবে প্রবাসী অন্তপ্রাণ নূরুল ইসলাম এই বোর্ডের সচিব হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সকল কাজ সম্পাদন করেন।
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে তার প্রথম সরকারি সফর শেষে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর।সফরকা ...
স্টাফ রিপোর্টার: ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। আগস্ট মাসের জন্য প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা ও কেরোসিন ১৩৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।ব ...
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই দুপুরে তিন দিনের স ...
স্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। গভীর নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে পড়ায় সাগর উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা কেটে গেছে।আজ বুধবার আবহাওয়াবিদ ড ...
সব মন্তব্য
No Comments