মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে বর্তমানে ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি মামলা এই বিশাল জট কমাতে সরকারের নেওয়া বহুমুখী পদক্ষেপের বিবরণ তুলে ধরেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী জানান, বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সরকার ইতোমধ্যে ৮৭১টি আদালত স্থাপন এবং ২৩২টি বিচার বিভাগীয় পদ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া আরও ৩০৪টি বিচার বিভাগীয় পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন ৭০৮ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ করেছে এবং আরো ৫৫৩ জন বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছেন। নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সলিসিটরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসগুলোতে অভিজ্ঞ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে ‘১৬৬৯৯’ হটলাইন সেবা চালু করা হয়েছে।
বিচার বিভাগে আধুনিকায়নের চিত্র তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উচ্চ ও নিম্ন আদালতের সব ‘কজ লিস্ট’ বা কার্যতালিকা এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে বিচারপ্রার্থীরা দূর থেকেই শুনানির তারিখ জানতে পারছেন। তিনি আরও জানান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধিতে উল্লেখযোগ্য সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল সমন জারি, অনলাইনে সাক্ষ্যগ্রহণ এবং মামলা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করা হয়েছে। দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সাশ্রয়ী বিচার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব পদক্ষেপের ফলে আদালতের ওপর মামলার চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা ॥ মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারে সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার এধরনের মামলা প্রত্যাহারের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোন হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। সর্বশেষ গত ৫ মার্চ জেলা প্রশাসকদের সমন্বয়ে জেলা পর্যায়ে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করবে। এর ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি জেলা কমিটির সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
আইনমন্ত্রী জানান, সংসদ সদস্যসহ যে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিকভাবে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হলে তা পর্যালোচনা করা হবে। কোন মামলা হয়রানিমূলক বলে প্রতীয়মান হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, যারা স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনার চেষ্টা করতেন, তাদের সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বদলি করে কার্যত শাস্তি দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার এ ধরনের চর্চা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিচারকদের পদায়নে সততা, দক্ষতা ও বিচারিক আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টে সুপারিশ করবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট।
স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকাসহ সারাদেশে চলমান বলপূর্বক শ্রমজীবী হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভপূর ...
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগ ও হাজারীবাগ থানা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ৭৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ ...
স্টাফ রিপোর্টার: আগামী রবিবার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সচিবালয়ের প্রকাশিত দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী, বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয় নিয়ে ...
স্টাফ রিপোর্টার: স্বাধীনতা পুরস্কার–২০২৬ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা প্রদান করা ...
সব মন্তব্য
No Comments