আফগানিস্তান সরকার; হাড় না ভাঙ্গা পর্যন্ত স্ত্রীকে শাস্তি দেওয়া যাবে

প্রকাশ : 19 Feb 2026
আফগানিস্তান সরকার; হাড় না ভাঙ্গা পর্যন্ত স্ত্রীকে শাস্তি দেওয়া যাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  আফগানিস্তানে তালিবান সরকারের নতুন দণ্ডবিধি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন আইনে নির্দিষ্ট শর্তে স্ত্রী ও সন্তানদের উপর শারীরিক শাস্তিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য না করার বিধান রাখা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই মানবাধিকার সংগঠনগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা-র অনুমোদিত নতুন দণ্ডবিধিতে বলা হয়েছে, পারিবারিক শাসনের নামে শারীরিক শাস্তি দেওয়া হলে তা তখনই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, যখন গুরুতর আঘাত, হাড় ভাঙা বা দৃশ্যমান ক্ষতের প্রমাণ মিলবে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে শারীরিক নির্যাতনকে আইনের চোখে অপরাধ হিসেবে দেখা নাও হতে পারে— এমনটাই দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।


২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে তালিবান প্রশাসন একাধিক সামাজিক ও আইনি পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে নারীশিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জনজীবনে নারীদের অংশগ্রহণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, নতুন দণ্ডবিধির এই ব্যাখ্যা কার্যত গার্হস্থ্য সহিংসতার বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী সুরক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে।


আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির আশঙ্কা, এমন আইন প্রয়োগের ফলে পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যেতে পারে এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারীরা ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও বাধার সম্মুখীন হতে পারেন। সমালোচকদের বক্তব্য, আইনে ‘গুরুতর আঘাত’-এর সংজ্ঞা অস্পষ্ট থাকলে তার অপব্যবহারের সম্ভাবনাও থেকে যায়।


উল্লেখ্য, তালিবান শাসনব্যবস্থার অধীনে ইতিমধ্যেই নারীদের উচ্চশিক্ষা ও বহু পেশায় কাজ করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এই নতুন আইনি ব্যাখ্যা সেই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটের মধ্যেই দেখা হচ্ছে। যদিও তালিবান প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক ব্যাখ্যা খুব সীমিত, তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত।

সম্পর্কিত খবর

;