নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য স্বস্তির বার্তা: ফরিদপুরে বিশেষ বিক্রয় কর্মসূচি।

প্রকাশ : 03 Mar 2026
নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য স্বস্তির বার্তা: ফরিদপুরে বিশেষ বিক্রয় কর্মসূচি।

অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: আসন্ন পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর,ফরিদপুরের উদ্যোগে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।


৩ মার্চ (মঙ্গলবার) শহরের সিভিল সার্জন রোডে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ উদ্যোগের সূচনা হয়। ফরিদপুর জেলার নিরাপদ প্রাণিজাত কর্ণার, সিভিল সার্জন অফিসের বিপরীতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা। 


উদ্বোধনী বক্তব্যে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি উল্লেখ করেন, “রমজান সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস। এ সময়ে যেন কোনো পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্যই এ উদ্যোগ। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের দায়িত্ব।”


তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সুলভ মূল্যে এসব পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে অনেক পরিবার উপকৃত হবে এবং বাজারে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে।


সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা জানান, রমজান মাসব্যাপী এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, “সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহের। সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই বাজারকে সহনীয় রাখা সম্ভব।”


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


সুলভ মূল্যে পণ্য কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, বর্তমান বাজারদরে নিত্যপণ্য সংগ্রহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ উদ্যোগ তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে। শহরের এক বাসিন্দা বলেন, “রমজান সামনে রেখে সংসারের খরচ বেড়ে যায়। এখানে কম দামে পণ্য পেয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলছে।”


অন্য এক ক্রেতা মন্তব্য করেন, “যদি পুরো রমজানজুড়ে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হবে।”


সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ শুধু স্বল্প আয়ের মানুষকেই নয়, সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থাকেও ইতিবাচক বার্তা দেবে।


সম্পর্কিত খবর

;