গান বাংলা টেলিভিশনের মালিকানা সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার: কর্তৃপক্ষের বিবৃতি

প্রকাশ : 08 Dec 2024
গান বাংলা টেলিভিশনের মালিকানা সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার: কর্তৃপক্ষের বিবৃতি

ডেস্ক রিপোর্ট: ‘গানবাংলা টেলিভিশন দখল’  শিরোনামে গান বাংলা টেলিভিশনের মালিকানা সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ গনমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন। রোববার (৮ ডিসেম্বর) গানবাংলা টেলিভিশনের প্রধান উপদেষ্টা দেলোয়ার হোসেন রাজা এই বিবৃতি প্রদান করেন।

বিবৃতিটি হুবহু তুলে ধরা হয়েছে-


সম্প্রতি দেশের একমাত্র সঙ্গীত বিষয়ক স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ‘গান বাংলা’র মালিকানা নিয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য সম্বলিত নিউজ বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলের অনলাইন ভার্সনে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পাশাপাশি গান বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কৌশিক হোসেন তাপস-এর সম্পর্কেও নানা মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট তথ্য সম্বলিত সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, এ সংক্রান্ত বিষয়ে গান বাংলা পরিবারের কারও সাথেই কোন যোগাযোগ করা হয়নি বা তথ্য যাচাই-বাচাই করা হয়নি। পাশাপাশি বিশেষ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল কৌশিক  হোসেন তাপস-এর বিরুদ্ধে একটি হয়রানিমূলক মামলা করেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

পাশাপাশি গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে গুলশান থানায় কৌশিক হোসেন তাপসের বিরুদ্ধে চ্যানেল দখল সংক্রান্ত একটি মিথ্যা মামলায় জনৈক সৈয়দ সামস উদ্দীন আহমেদ ও বদরুদ্দোজা সাগর অভিযোগ করেন যে, বিগত ২২ ডিসেম্বর ২০১১ সালে রবি শঙ্কর মৈত্রীর উপস্থিতিতে আমানুল্লাহ খানের বারিধারাস্থ বাসায় আলাপকালে জনাব কৌশিক হেসেন তাপস, ফারজানা মুন্নী ও সৈয়দ নাবিল আশরাফ উপস্থিত হয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক কাগজ-পত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

অথচ ২৫ ডিসেম্বর ২০১১ সালে বদরুদ্দোজা সাগর কর্তৃক মিরপুর থানায় করা একটি জিডিতে (যার নম্বর: ৩৮০) উল্লেখ করেন, ২২ ডিসেম্বর ২০১১ ইং অর্থাৎ ওই একই তারিখে আমানুল্লাহ খান (চঞ্চল খান)-এর বাসায় রবি শঙ্কর মৈত্রী ও চঞ্চল খানসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫জন তাদের কাছ থেকে জোর পূর্বক কাজগপত্র স্বাক্ষর করিয়ে নেন। অভিযোগে কৌশিক হোসেন তাপস, ফারজানা মুন্নী ও সৈয়দ নাবিল আশরাফ-এর কোন নামই ছিল না।

উল্লেখ্য, ১ জুলাই ২০১২-তে গানবাংলার শেয়ার কেনার পূর্ব পর্যন্ত কিংবা পরে কৌশিক হোসেন তাপস ও ফারজানা মুন্নীর সাথে সৈয়দ সামস উদ্দীন আহমেদ বা বদরুদ্দোজা সাগর-এর কোন ধরণের যোগাযোগ বা পরিচয় ছিল না। অন্যদিকে, সৈয়দ নাবিল আশরাফ বিগত ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে গান বাংলা টেলিভিশন-এর মার্কেটিং বিভাগের একজন কর্মকর্তা হিসেবে গান বাংলা টেলিভিশন-এর সাথে যুক্ত হন। এর আগে গানবাংলার কোন কর্মকান্ডের সাথে তার কোন সংশ্লিষ্টতাই ছিল না। এতেই প্রমাণিত হয় যে, কৌশিক হোসেন তাপস, ফারজানা মুন্নী ও সৈয়দ নাবিল আশরাফের বিরুদ্ধে সৈয়দ সামস উদ্দীন আহমেদের করা মামলা মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

কোন কোন সংবাদমাধ্যম বলেছে যে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের বিশেষ আনুকূল্য নিয়ে কৌশিক হোসেন তাপস ও ফারজানা মুন্নী গান বাংলা চ্যানেলের মালিক হয়েছেন। কিন্তু প্রকৃত সত্য এটাই যে, সরকারের কোন আনুকূল্য নিয়ে তারা টিভি চ্যানেলের মালিকানা পাননি। প্রকৃতপক্ষে তারা  চ্যানেলটি ক্রয় করেছেন। মূলতঃ তারা চ্যানেলের ক্রেতা। ১ জুলাই ২০১২ তারিখে যখন জনাব কৌশিক হোসেন তাপস এবং ফারজানা মুন্নী যথাক্রমে ৭০% ও ১০% শেয়ার ক্রয় করেন তখন চ্যানেলটির মালিকানায় ছিলেন আমানুল্লাহ খান (চঞ্চল খান ৯%), রবি শঙ্কর মৈত্রী (৫%), বখতিয়ার সিকদার (৫%) এবং সৈয়দ ফারুক আহমেদ (১%)।

পরবর্তীকালে আদালতের নির্দেশক্রমে উভয়পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে জনাব আমানুল্লাহ খান (চঞ্চল খান) এবং বখতিয়ার সিকদার নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে তাদের সমুদয় শেয়ার ফারজানা মুন্নীর নিকট হস্তান্তর করেন। যার দলিলপত্র আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।

গান বাংলা চ্যানেলটি প্রতিষ্ঠার প্রকৃত ইতিহাস এটাই যে, প্রথমে বার্ডস আই ম্যাস মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন্ লি. নামে ২৫ জুলাই ২০১১তে একটি কোম্পানী খোলা হয় এবং সার্টিফিকেট অফ ইনকর্পোরেশন প্রদান করা হয়। কোম্পানীটির শেয়ার হোল্ডার ছিলেন সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমেদ, বদরুদ্দোজা সাগর, বখতিয়ার শিকদার ও রবিশঙ্কর মৈত্রী। ৪ জানুয়ারি ২০১২তে ২ জন শেয়ার হোল্ডার সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমদ ও বদরুদ্দোজা সাগর তাদের সমুদয় শেয়ার ১১৭ ফরম পূরণের মাধ্যমে ড. আমানুল্লাহ খান (চঞ্চল খান)-এর কাছে হস্তান্তর করেন এবং বার্ডস আই ম্যাস মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন্ লি.-এর মালিকানা ত্যাগ করেন। যা পরবর্তী পর্যায়ে আমরা ২ ফেব্রæয়ারি ২০১২ তারিখের ফরম ঢওও তে লিপিবদ্ধ পাই।  

 তখন পর্যন্ত কৌশিক হোসেন তাপস -এর সাথে তাদের কোনো পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল না।  

এর ৭ মাস পর আমানুল্লাহ খান চঞ্চল কৌশিক হোসেন তাপসের সাথে দেখা করেন এবং তাকে কোম্পানিটির অধিকাংশ শেয়ার ক্রয়ের অনুরোধ জানান।

অনুরোধের প্রেক্ষিতে ১ জুলাই ২০১২ তারিখে শেয়ার ক্রয়ের জন্য তাদের সাথে ঝযধৎব ঝঁনংপৎরঢ়ঃরড়হ অমৎববসবহঃ বা শেয়ার বন্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সে অনুযায়ী -

০১। কৌশিক হোসেন তাপস ৭০%  ০২। ফারজানা মুন্নী ১০%  ০৩। আমানুল্লাহ খান (চঞ্চল খান) ৯%  ০৪। বখতিয়ার শিকদার  ৫% ০৫। রবিশঙ্কর মৈত্রী ৫%  ০৬। সৈয়দ আহমেদ ফারুক ১% অংশের মালিক হন।

কৌশিক হোসেন তাপস হন কোম্পানীটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ফারজানা মুন্নী, আমানুল্লাহ খান, রবি শঙ্কর মৈত্রী ও বখতিয়ার সিকদার পরিচালক হন এবং সৈয়দ ফারুক আহমেদ ১% শেয়ারের মালিক হন।


১৭ অক্টোবর ২০১২তে কৌশিক হোসেন তাপস বেতার যন্ত্র ও তার অনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ইঞজঈ -এর অনুমোদন প্রাপ্ত হন।  

এর পূর্বে আমানুল্লাহ খান চঞ্চল, বখতিয়ার শিকদার ও রবিশঙ্কর মৈত্রীর কাছে একটা ঘঙঈ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সেই ঘঙঈ-র ১ বছরের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কারণে সেটিও বাদ হয়ে গিয়েছিলো, যা কৌশিক হোসেন তাপস পরবর্তীকালে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন করিয়ে ঘঙঈ-টি পুনরুজ্জীবিত করেন এবং তার প্রেক্ষিতে ইঞজঈ লাইসেন্স পান। কৌশিক হোসেন তাপসের নামেই প্রথম লাইসেন্স রেজিস্ট্রি হয়। তাহলে অন্য কোন ব্যক্তি চ্যানেলের মালিক হন কিভাবে?

যন্ত্রপাতি ক্রয় ও আমদানি খরচ, অফিস ভাড়া, বিভিন্ন বিল, কর্মচারীর বেতন, ও সকল প্রকারের অফিসসজ্জা ইত্যাদি প্রদান করে একটি সম্পূর্ণ টিভি চ্যানেল গড়ে তোলার জন্য কৌশিক হোসেন তাপস এবং ফারজানা মুন্নী উদয়াস্ত পরিশ্রম করেন। কোনো খরচ কিংবা কোনো কাজের অংশ আমানুল্লাহ খান চঞ্চল, বখতিয়ার শিকদার এবং রবিশঙ্কর মৈত্রী বহন করেননি। বরং প্রতিনিয়ত তারা বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা নিতে থাকেন। এছাড়া তাদের কাছে ব্যাংক একাউন্টের তথ্য এবং সার্বিক হিসাব-নিকাশ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা সেই তথ্য সরবরাহ করেননি বা সভায় উপস্থিত হননি। যার ফলে উক্ত ৩ জনের সাথে বিবাদ উপস্থিত হয়। ফলে কোম্পানির সুরক্ষার স্বার্থে উল্লিখিত অসহযোগিতার কারণে কৌশিক হোসেন তাপস সিএমএম কোর্টে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

অন্যদিকে, আমানুল্লাহ খান গং হাইকোর্টে কৌশিক হোসেন তাপসের বিরুদ্ধে কোম্পানি আইনে মাইনরিটি প্রটেকশন অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা করেন।

শেষ পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমে উভয়পক্ষে সমঝোতা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আমানুল্লাহ খান চঞ্চল ও বখতিয়ার শিকদার তাদের শেয়ার ফারজানা মুন্নীর কাছে হস্তান্তর করেন। বিনিময়ে আমানুল্লাহ খান চঞ্চলের ৯% শেয়ার এবং বখতিয়ার শিকদারের ৫% শেয়ারের জন্য আদালত কর্তৃক অনুমোদিত মূল্য প্রদান করা হয়।

নির্দেশ অনুযায়ী উক্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদ্বয়ের নামে আদালতের মাধ্যমে চেক/পে-অর্ডারে প্রদান করা হয়। আদালত এই মর্মে নির্দেশ দেন যে, রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে শেয়ার হস্তান্তর কার্যকর হওয়ার পর চেক/পে-অর্ডারগুলি ক্যাশ করা যাবে।

অপর শেয়ার হোল্ডার রবিশঙ্কর মৈত্রী বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন বলে তার সাথে শেয়ার হস্তান্তর সম্পর্কিত কোনো আলোচনা হয়নি। এই হলো গানবাংলা টেলিভিশনের মালিকানার আসল চিত্র।

এ বিষয়ে রবি শঙ্কর মৈত্রীর ফেসবুক প্রোফাইলের ৬ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখের একটি পোস্টে তিনি বলেন,

১। ২২ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে ড. আমানুল্লাহ খান (চঞ্চল খান) শ্রী লঙ্কায় ছিলেন এবং তিনি নিজেও ঢাকায় ছিলেন না। (প্রমাণ- চঞ্চল খানের পাসপোর্ট)।

২। ৪ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে রবি শঙ্কর মৈত্রী, সৈয়দ সামস্ উদ্দীন আহমেদ, বদরুদ্দোজা সাগর এবং শাহীনুর আলমকে গান বাংলার শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে তারা স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে ফরম ১১৭ পূরণ করে বিধি মোতাবেক সকল শেয়ার ছেড়ে দেন।

তাহলে এটি পরিস্কার যে, ৪ জানুয়ারি ২০১২ তারিখের পর থেকে সৈয়দ সামস্ উদ্দীন গংদের গান বাংলা টেলিভিশন-এর সাথে কোন সম্পৃক্ততাই ছিল না। প্রকৃত তথ্য হচ্ছে- বার্ডস আই মাস মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশনস লিঃ (গান বাংলা)-এর শেয়ার হোল্ডার ড. আমানুল্লাহ খান (চঞ্চল খান) এবং রবি শঙ্কর মৈত্রী ও বখতিয়ার সিকদারের কাছ থেকে ১ জুলাই ২০১২ তারিখে জনাব কৌশিক হোসেন তাপস ৭০% এবং ফারজানা মুন্নী ১০% শেয়ার ক্রয় করেন।


উপরিউক্ত বর্ণনায় প্রমাণিত হয় যে, কৌশিক হোসেন তাপস, ফারজানা মুন্নী ও সৈয়দ নাবিল আশরাফের বিরুদ্ধে সৈয়দ সামস্ উদ্দীন আহমেদের করা মামলা, মিথ্যা, বানোয়াট, ভুয়া ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এখানে উল্লেখ্য যে, কৌশিক হোসেন তাপস ও ফারজাানা মুন্নীর বিরুদ্ধে রবিশঙ্কর মৈত্রী কথিত স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং অসম্ভব। কারণ, প্রতিটি স্বাক্ষর বিধি মোতাবেক জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রারের সামনে সম্পাদন করতে হয়।


সকলের অবগতির জন্য তথ্য প্রমাণের বিশেষ অংশটুকু উল্লেখ করা হলো। প্রয়োজনে স্বাক্ষর গ্রহণ, চেক/পে অর্ডার প্রদানসহ অন্যান্য ঘটনার ভিডিও রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণাদি সরবরাহ করা যাবে।


সম্পর্কিত খবর

;