মক্কা চুক্তি নিয়ে দিল্লির বিচলিত হওয়ার কিছু নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ : 31 Aug 2026
মক্কা চুক্তি নিয়ে দিল্লির বিচলিত হওয়ার কিছু নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

 স্টাফ রিপোর্টার: বহুল আলোচিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কাউকে হুমকির মুখে ফেলার জন্য নয়, বরং মুসলিম দেশগুলোর আত্মরক্ষার স্বার্থে করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থানে দিল্লির বিচলিত হওয়ার কিছু নেই বলেও জানান তিনি।


বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদে তিনি বলেন, মক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। এটি বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা এবং এটি মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সুতরাং এটি নিয়ে অন্যদের উদ্বেগের কোনো অবকাশ নেই।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই চুক্তি তিনটি দেশের ভেতরে হয়েছে। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি গত ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা বাকি সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এখনো বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি সামনে আসেনি, কারণ এটি নির্ভর করছে সদস্য দেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর। তিনি বলেন, মক্কা চুক্তির তিন দেশ যদি অভিপ্রায় প্রকাশ করে বাংলাদেশকে যুক্ত করতে, তাহলে আমরা নিশ্চয়ই সেটা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবো।


রোববার ঢাকা ছাড়ার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থান ইরানের সাথে দূরত্ব তৈরি করবে না। একইসাথে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারে বাংলাদেশ কোনো বাধার মুখে পড়বে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা, কোনো আগ্রাসী জোট নয়।


আগামী ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এই অধিবেশনে আগামী এক বছরের জন্য সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। গত জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ১৯০টি ভোটের মধ্যে ৯৯টি ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিসকে পরাজিত করে সভাপতি নির্বাচিত হন। এর মধ্য দিয়ে ১৯৮৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ এই মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হলো।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে কাজ করবেন। এ জন্য তিনি আনুষ্ঠানিক ছুটি নিচ্ছেন না, বরং সরকারি অনুমোদন নিয়ে নিউইয়র্ক সফরকে মন্ত্রীর দায়িত্বের অংশ হিসেবেই পালন করবেন। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর উচ্চ পর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরুর দিন সভাপতি হিসেবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে প্রত্যাবাসন ছাড়া বিকল্প নেই, এ বিষয়ে সবাই একমত।


অন্তর্বর্তী সরকারের পথচলা প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, কিছু মতপার্থক্য থাকলেও সব উপদেষ্টার কাজে ছন্দ ছিল এবং সরকার সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে।


সম্পর্কিত খবর

;