তাসলিমা নাসরিন: পরীমণির ওপর নির্যাতন নিয়ে এখন বাংলাদেশে প্রতিবাদে সোচ্চার মানুষ। দেখে প্রাণ জুড়োচ্ছে। একসময় যখন কেউ ছিল না তার পাশে, যারা মন্দ লোক, তারা তাকে নিয়ে অকথ্য মন্দ কথা বলছিল, যারা ভালো লোক, তারা মুখ বুজে ছিল -- তখন হাতে গোণা কিছু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ পরীমণির পাশে দ্বিধাহীন দাঁড়িয়েছিল। কত যে বিষমাখা তীর তাদের বিদ্ধ করেছে তখন। তারপর ধীরে ধীরে মৃদু কণ্ঠে তার পক্ষে কথা বলতে শুরু করল কেউ কেউ, তারাও মেয়েটির সম্পর্কে তিনটে ভালো কথা বললে তিনটে মন্দ কথা বলছিল -- তাতে 'ব্যালেন্স' হয়, অন্যায়ের প্রতিবাদও হয়। বিশিষ্টরা এলেন আরও পরে, তারও পরে এখন বিশিষ্ট অবিশিষ্ট সকলেই চেহারা দেখাতে কার্পণ্য করছেন না। এভাবেই কিন্তু প্রতিবাদগুলো গড়ে ওঠে। হাতে গোণা কিছু সাহসী মানুষই সাত পাঁচ না ভেবে স্রোতের বিপক্ষে দাঁড়ায়। স্রোত যখন খুব বেশি বিপক্ষে নয়, তখন সুশীলদের দেখা মেলে। যে মেয়েকে বেশ্যা বলা হয়, সেই মেয়ের পক্ষে সেই মেয়েরাই প্রথম দাঁড়াতে সাহস করে, যাদেরও কোনও না কোনও সময় বেশ্যা বলে সমাজের লোকেরা অপমান করেছে। ভদ্রমহোদয় বা ভদ্রমহিলারা অত সহজে অত্যাচারিতের পক্ষে কথা বলে না। কারও বিরুদ্ধে অন্যায় হলেও তারা আগে বুঝে নিতে চায় মুখ খুললে আবার বিপদ হবে কি না। কত তো অন্যায় হচ্ছে সমাজে, কটা অন্যায়ের প্রতিবাদ সুশীল সমাজ করে? যেটুকুই করে,গা বাঁচিয়ে করে।
আশঙ্কা হচ্ছিল যেভাবে কোনও ক্ষমতাধরের নির্দেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং আদালত পরীমণিকে হেনস্থা করছে, হয়তো মেয়েটির সর্বনাশ না করে ছাড়বে না। আশঙ্কা হচ্ছিল মেয়েটিকে বোধহয় ছুঁড়েই ফেলে দেবে সমাজ, কিন্তু না, তার ফিরে আসার জন্য চিত্রপরিচালকগণ অপেক্ষা করছেন। জামিনের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তার মেরুদন্ডহীন আইনজীবীকেও ধিক্কার দেওয়া হচ্ছে। এভাবেই একটু একটু করে জনমত গড়ে উঠছে, এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস পরীমণি বিজয়ী হয়েই নিজের জীবনে ফিরে আসবে। তাকে হেনস্থা করার জন্য জনগণ আদালতকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।
পরীমণিকে অন্যায় ভাবে জামিন না দিয়ে জেলে বন্দি করা হয়েছে, এ নিয়ে খবর হচ্ছে বলে আমরা জানতে পারছি। কত হাজারো নির্দোষকে জামিন না দিয়ে জেলে বন্দি করা হয়েছে এবং হচ্ছে, তার খবর কে রাখে! কত নির্দোষকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো হয়েছে, যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে, বিনা বিচারে জেলে ফেলে রাখা হয়েছে বছরের পর বছর, তার তালিকা বের করা যায় না? সবার পিছে সবার নিচে পড়ে থাকা সর্বহারা ব্রাত্যদের পাশে দাঁড়ানোর অভ্যেস করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করা শিখতে হবে। সাত পাঁচ ভাবলে সমাজ বদলানো যায় না।
*মতামত বিভাগে প্রকাশিত সকল লেখাই লেখকের নিজস্ব ব্যক্তিগত বক্তব্য বা মতামত।
মোঃ নেছার উদ্দিন:কিছু মানুষের প্রয়াণ কেবল একটি একক জীবনের প্রাকৃতিক সমাপ্তি নির্দেশ করে না; বরং তা একটি সুনির্দিষ্ট অধ্যায়, সামাজিক রূপান্তরের ধারা এবং অসংখ্য মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক ও মানবিক আশ্রয়ের বি ...
এ এইচ এম মাসুম বিল্লাহ:পরিবারের সুখ-দুঃখ কখনো এর একজন সদস্যের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবারের একজন সদস্যের আয় কমে গেলে তার প্রভাব পড়ে সবার জীবনে। আবার একটি সন্তান ভালো শিক্ষা পেলে তার সুফলও ভোগ করে প ...
মোঃ নাবিল তাহমিদ:বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ জীবিকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি। কৃষির টেকসই উন্নয়ন, কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা জনগণের দোরগোড়ায় ...
মো: ইকবাল হোসেন: বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে দেশের সব ব্যবসায়ীদের Bangla QR কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছেন। এর আগে গত ৩০ জুনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান (MFS: ...
সব মন্তব্য
No Comments