ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ীর ছেলে শিহাব উদ্দিন মালেক সাগর (৩৬) এর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাকে হানি ট্র্যাপে ফেলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাগরের চাচা যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আনোয়ার হোসেন সিপিএ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কাভার করতে নিউইয়র্কে আসা বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সাগর যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী কনস্ট্রাকশন ব্যবসায়ী ও ব্রুকলিনের বাসিন্দা আবদুল মালেকের ছেলে। তাদের পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাগর। পরে ঢাকায় এসে গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন। এ সময় মাহজাবিন ইসলাম রিয়া নামে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পরিবারের অভিযোগ, রিয়া বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি গোপন করে সাগরের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাকে হানি ট্র্যাপে ফেলেন। পরে সাগর বিয়ের প্রস্তাব দিলে রিয়া রাজি হননি। এতে সম্পর্কে অবনতি ঘটে।
পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন সাগরের অ্যাপার্টমেন্টে রিয়া ছাড়াও একজন পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে রিয়াকে বটি হাতে সাগরকে হত্যার হুমকি দিতেও দেখা যায় বলে তারা দাবি করেছে।
*যা ঘটেছিল*
পরিবার জানায়, গত ১৯ আগস্ট সকাল ১০টা ৫ মিনিটের ফ্লাইটে সাগর ঢাকায় আসেন। ২১ আগস্ট বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে ফেরার টিকিটও করেছিলেন। তবে ২০ আগস্ট ভাটারা থানা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সাগরের ভাই সাইফ উদ্দিন মালেক মামুন জানান, ১৯ আগস্ট বিকাল ৪টা ৩৩ মিনিটে তিনি সাগরকে ফোন করেন। সাড়া না পেয়ে ৪টা ৪৭ মিনিটে বার্তা পাঠান। পরে সাগর ভয়েস মেসেজে জানান, তিনি অ্যাপার্টমেন্টে আছেন, তবে সেখানে অন্য লোকজন থাকায় কথা বলতে পারছেন না। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১৪ মিনিটে তাদের সর্বশেষ কথা হয়।
মামুনের দাবি, রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে অ্যাপার্টমেন্টের কেয়ারটেকার ও সাগরের সহকারী মুসার কাছ থেকে তিনি মৃত্যুর খবর পান। মুসা প্রথমে সাগরকে একা থাকার কথা বললেও পরে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। এমনকি মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকার কথাও জানান। পরিবারের দাবি, মুসা সাগরের এক রুমমেটকে একটি ছবিও পাঠিয়েছিলেন, যেখানে সাগরের হাত ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়।
পরদিন পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় এসে ভাটারা থানায় যোগাযোগ করেন এবং ময়নাতদন্তের দাবি জানান। এ ঘটনায় ২৫ আগস্ট ভাটারা থানায় মামলা করা হয়। মামলা নং ৪৪।
পরিবারের অভিযোগ, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও গরমিল রয়েছে। ঘটনার ২৫ দিন পরও মামলার প্রধান আসামি মাহজাবিন ইসলাম রিয়া গ্রেপ্তার না হওয়া এবং হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ভাটারা থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. চাঁদ মিয়া বলেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। অভিযুক্তকে আটক করতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সাগরের চাচা আনোয়ার হোসেন সিপিএ বলেন, "আমার ভাতিজাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।" তিনি ঘটনার আগে ও পরে যোগাযোগকারী এবং অ্যাপার্টমেন্টে উপস্থিত সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন নারীসহ এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে সহায়তা করলে ৫ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে মাহজাবিন ইসলাম রিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
স্টাফ রিপোর্টার: সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিস্থিতিতে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর আগামী ২১ অক্টোবর থেকে ...
স্টাফ রিপোর্টার: সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে বুধ ...
স্টাফ রিপোর্টার: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন। সোমবার ...
ডেস্ক রিপোর্ট: মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস।সোমবার (১২ অ ...
সব মন্তব্য
No Comments