মানিক লাল ঘোষ:
আমাদের জীবনে বাবা কেবল একজন মানুষ নন, বরং তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। একটি আস্থার নাম, একটি আশ্রয়স্থল। ছোটবেলায় বাবা ছিলেন ঘোড়ায় চড়ার সঙ্গী, কৈশোরে তিনি হয়ে ওঠেন শাসন ও শৃঙ্খলার পাহাড়, আর পরিণত বয়সে তিনি হয়ে যান বন্ধু ও পরম অভিজ্ঞ এক পথপ্রদর্শক।
বাবারা সাধারণত চুপচাপ ধরনের হন। তাদের ভালোবাসার প্রকাশে কোনো চাকচিক্য নেই, আছে পাহাড়সম গভীরতা। সন্তানের জ্বর হলে সারারাত চোখের পাতা এক না করা, কিংবা নিজে আধপেটা খেয়ে সন্তানের প্রিয় খাবারের আবদার মেটানো—এসবের পেছনে যে ত্যাগের গল্প থাকে, তা পৃথিবীর কোনো ভাষায় পূর্ণরূপে বর্ণনা করা অসম্ভব। আমরা যখন সফল হই, তখন বাবা তৃপ্তির হাসিতে চোখ ভেজান; আর যখন ব্যর্থ হই, তখন তিনিই একমাত্র মানুষ যিনি সব ভুলে বুক আগলে বলেন, "ভয় নেই, আমি আছি।"
যাদের বাবা আজ আর আমাদের মাঝে নেই, তাদের জন্য এই দিনটি কেবলই বেদনার এক বিশাল ক্যানভাস। মাথার ওপর থেকে সেই বটবৃক্ষের ছায়া সরে যাওয়ার পর যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা পৃথিবীর কোনো কিছু দিয়েই পূরণ হওয়ার নয়। আমরা হয়তো এখন অনেক বড় হয়েছি, অনেক সফল হয়েছি—কিন্তু মাঝেমধ্যে একলা বিকেলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়িয়ে আজও অবচেতন মনে বাবার পরামর্শ খুঁজতে চাই। বাবার অনুপস্থিতি মানে কেবল একজন অভিভাবকের হারানো নয়, বরং নিজের অস্তিত্বের একটি বিশাল অংশকে হারিয়ে ফেলা। তবে বাবারা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেও, তাদের শেখানো নৈতিকতা, মূল্যবোধ আর সাহস আমাদের ভেতরেই বেঁচে থাকে। প্রতিটি ভালো কাজে, প্রতিটি সততার চর্চায় বাবা যেন আজও আমাদের আড়ালে দাঁড়িয়ে আমাদের পথ দেখাচ্ছেন।
বর্তমান যান্ত্রিক জীবনের ভিড়ে আমরা অনেক সময় বাবার ঋণ ভুলে যাই। আমরা সফল হতে দৌড়াই, ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকি—কিন্তু ভুলে যাই আমাদের এই দৌড়ানোর শক্তির উৎস ছিলেন তিনি। বাবা দিবসে কেবল একটি দিন উদযাপন নয়, বরং প্রতিদিন তাকে উপলব্ধির সুযোগ তৈরি হোক। তার কর্মময় জীবনের অভিজ্ঞতার গল্পগুলো স্মৃতির পাতায় রোমন্থন করুন। মনে রাখবেন, তারা যেখানেই থাকুন, আমাদের প্রতিটি সাফল্যে তারা সবচেয়ে বেশি গর্বিত বোধ করেন।
পৃথিবীর সকল বাবা ভালো থাকুন—সে তিনি আমাদের মাঝেই থাকুন, আর পরপারে। আমাদের অস্তিত্বের প্রতিটি পরতে পরতে তার মেধা ও পরিশ্রম জড়িয়ে আছে। বাবা বেঁচে থাকুক আমাদের প্রতিটি অনুপ্রেরণায়, প্রতিটি পদক্ষেপে।
-লেখক:সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ সভাপতি।
তারানা চৌধুরী:২০১৮ সালের অক্টোবর মাস। এক শুক্রবার রাতে মামার বাসায় দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরেন মুনিয়া (ছদ্মনাম)। তখনো সব স্বাভাবিক। কিন্তু পরদিন সকাল থেকেই হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর আর মাথাব্যথা শুরু হয়। বুঝতে দের ...
রাহাদ সুমন: বরিশালের বানারীপাড়ার আমৃত্যু সংগ্রামী শতবর্ষী নারী মায়া রাণী দাস। যেন কবি জসিম উদ্দিনের কবিতার "কঙ্কাল সার" দেহের সেই আসমানীর প্রতিরূপ। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত জীবিকার সন্ধানে কঙ্কালসার ...
মোঃ মাহফুজুর রহমান:একটা সময় ছিল গ্রামের অনেক কৃষক সাদা কাগজে টিপসই দিয়ে ভিটেমাটি হারিয়ে পথের ফকির হয়ে যেত । আবার অনেকে ঋণ না নিয়েও ঋণের ফাঁদে পড়তো । কারণ তারা ছিল নিরক্ষর । মানুষের অজ্ঞতার সুযোগকে কাজ ...
এ এম ইমদাদুল ইসলাম:তরুণ বয়সে যে হাত লাঙল ধরেছিল, বার্ধক্যেও সেই হাতেই এখন ধরা থাকে একটি প্লাস্টিকের কার্ড। দেখতে সাধারণ, কিন্তু এর ভেতরে জমা আছে এক কৃষকের পরিচয়, তার জমির হিসাব, প্রাপ্য ভর্তুকি এবং ভব ...
সব মন্তব্য
No Comments