এ এইচ এম মাসুম বিল্লাহ:
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধু দুই বছরের কঠোর অধ্যবসায়ের পরিণতিই নয়, উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান প্রবেশদ্বারও। এই পরীক্ষাকে ঘিরে থাকে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, অভিভাবকদের প্রত্যাশা আর শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম। কারণ, আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, উদ্যোক্তা এবং দক্ষ নেতৃত্ব হিসেবে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষা চলমান। এ সময় শিক্ষার্থীদের নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিশ্চিত করার দিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত । পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় আর ধারাবাহিক পরিশ্রমের ফসল। ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির সুযোগ পায়। ফলাফল ভালো হলে বিদেশের বিভিন্ন বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগও অনেকাংশে সহজ হয়।
তাই এইচএসসি পরীক্ষার গুরুত্ব খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এসময় প্রতিটি বিষয়ের জন্য যত্নসহকারে প্রস্তুতি নেওয়া এবং আন্তরিকতার সঙ্গে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা আসলে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অর্জনের বিনিয়োগ। তবে মনে রাখতে হবে যে, এইচএসসি কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের শেষ গন্তব্য নয়। এটি একটি নতুন যাত্রার সূচনা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই শুরু হবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজ, বুয়েট, বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আসনের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি। তাই ভর্তি প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন হয় থাকে।
এ কারণে এইচএসসি পরীক্ষার মতো ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিষয়ভিত্তিক মৌলিক ধারণা আরও শক্ত করা্র সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। আগের বছরের প্রশ্ন নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে। দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সেগুলোতে বেশি সময় দিয়ে নিয়মিত পড়া শোনার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তবে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির ফাঁকে অবসরকে কাজে লাগানো দরকার। এইচএসসি শেষ হওয়ার পর থেকে ভর্তি পরীক্ষার আগ পর্যন্ত সময়টুকু শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। এই সময়ে ভর্তি প্রস্তুতির পাশাপাশি এমন কিছু দক্ষতা অর্জনের দিকেও নজর দেওয়া উচিত, যা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সমানভাবে কাজে লাগবে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইংরেজিতে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানো, কম্পিউটার ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানোর কৌশল জানা, পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, উপস্থাপনা ও বিশ্লেষণী চিন্তার দক্ষতা বৃদ্ধি করা ইত্যাদি। এসব একজন শিক্ষার্থীকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ করে তুলতে পারে। তবে এগুলো অবশ্যই ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির বিকল্প নয়। বর্তমান সময়ে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করাই যথেষ্ট নয়। স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে, দলগতভাবে কাজ করতে পারে, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে এবং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে সক্ষম- বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্মক্ষেত্রে এমন শিক্ষার্থীকে বেশি মুল্যায়ন করা হয়। এই গুণগুলো একদিনে তৈরি হয় না। এইচএসসি-পরবর্তী সময় থেকেই ধীরে ধীরে এসকল গুণ অর্জনে মনোযোগী হবার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
প্রতিবছর এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনটি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য আবেগঘন একটি মুহূর্ত। অনেকের জন্য এটি আনন্দ ও উদ্যাপনের উপলক্ষ। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে তারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করে এবং উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচিত হয়। আবার অনেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ফলাফল প্রত্যাশামাফিক হয় না। আন্তরিক চেষ্টা সত্ত্বেও কেউ হয়তো তার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় ফল অর্জন করতে পারে না, আবার কেউ নিজের নির্ধারিত লক্ষ্যেই পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। প্রত্যাশিত ফল না পেলে হতাশ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই হতাশা কখনোই ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা হারানোর কারণ হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, ভালো ফলাফলের গুরুত্ব অবশ্যই রয়েছে। এটি উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগকে প্রসারিত করে। তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, একটি পরীক্ষার ফলাফল একজন শিক্ষার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতার একমাত্র মানদণ্ড নয়। এটি নির্দিষ্ট সময়ে তার একাডেমিক পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন মাত্র। একজন মানুষের সততা, অধ্যবসায়, সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণ কিংবা সমাজের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখার সক্ষমতা কোনো পরীক্ষার ফল দিয়ে সম্পূর্ণভাবে বিচার করা যায় না। পৃথিবীর বহু সফল ব্যক্তি জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে ব্যর্থতা বা হতাশার মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু তারা থেমে যাননি। বরং সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, নিজেকে নতুনভাবে প্রস্তুত করে এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও হাল না ছেড়ে এগিয়ে গিয়েছেন বলেই সফল হয়েছেন।
যারা অসাধারণ ফলাফল অর্জন করবে, তারা ও তাদের অবশ্যই সেই সাফল্য উদ্যাপন করবে। তবে সাফল্যের সঙ্গে বিনয় থাকাও জরুরি। একইভাবে, যাদের ফল প্রত্যাশার তুলনায় কম হবে, তাদের হতাশায় ডুবে না থেকে পরবর্তী সুযোগের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা উচিত। কারণ, শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেই চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড়ো শক্তি। এখানে আরেকটি বাস্তবতা আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন। প্রতি বছর দেশে যত শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যোগ্যতা অর্জন করে, দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তার তুলনায় আসনসংখ্যা অনেক কম। ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী চমৎকার ফলাফল অর্জন করেও প্রথম পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় না। এর অর্থ এই নয় যে তাদের মেধা বা সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে যে, জীবনে সফল হতে হলে অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেই হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কারিগরি ও পেশাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা ধরনের শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর অসংখ্য দক্ষ ও সফল পেশাজীবী বেরিয়ে আসছেন। শেষ পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থী কোথায় পড়েছেন, সেটি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ তিনি সেই সুযোগকে কতটা কাজে লাগাতে পেরেছেন। এক্ষেত্রে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দুঃখজনকভাবে, আমাদের সমাজের একটি অংশ এখনো কারিগরি শিক্ষাকে দ্বিতীয় সারির শিক্ষা হিসেবে দেখে। কিন্তু বর্তমান সময়ের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলে। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি শিল্পভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ মানবসম্পদভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদনশিল্প, নির্মাণ খাত, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবহন, হসপিটালিটি, কৃষি এবং আরও অনেক খাতে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এসব খাতে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা স্নাতক নয়, প্রয়োজন দক্ষ টেকনিশিয়ান, প্রোগ্রামার, ডিজাইনার, মেশিন অপারেটর, ইলেকট্রিশিয়ান, ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্ট, নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা।
যেসব শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা, পলিটেকনিক বা অন্যান্য কারিগরি শিক্ষার পথ বেছে নেয়, তারা কোনোভাবেই কম গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ বেছে নিচ্ছে না। বরং তারা এমন একটি শিক্ষা গ্রহণ করছে, যেখানে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতা অর্জনের ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে তাদের অর্জিত দক্ষতা শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় অনেকেই দ্রুত কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। তদের অনেকে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি পরবর্তীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে। একইভাবে, বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সার্টিফিকেশন কোর্সও একজন শিক্ষার্থীর আগামীর কর্মজীবনের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। প্রোগ্রামিং, সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার, ভাষা দক্ষতা এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় চাকরির বাজারে এগুলোর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
তবে এসব সুযোগকে বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গ্রহণ করতে হবে। কোনো দক্ষতা একদিনে তৈরি হয় না। আর সাফল্যেরও কোনো শর্টকাট নেই। চিকিৎসা, প্রকৌশল, ব্যবসায় শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা কিংবা ফ্রিল্যান্সিং যে পথই একজন শিক্ষার্থী বেছে নিক না কেন, দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের একমাত্র ভিত্তি হলো নিয়মিত অধ্যবসায়, নৈতিকতা এবং ধারাবাহিক অনুশীলন। তাই এইচএসসি-পরবর্তী সময়কে সঠিক সিদ্ধান্ত ও মূল্যবান বিনিয়োগের সময় হিসেবে দেখা উচিত। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির অবসরে শিক্ষার্থীরা এমন কিছু দক্ষতা অর্জনের কাজ শুরু করতে পারে, যা সারাজীবন তাদের কাজে লাগবে। সপ্তাহে মাত্র তিন বা চার ঘণ্টা সময় দিয়েও নতুন কিছু শেখার মাধ্যমে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। এই ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান কিংবা ছাত্রছাত্রীদের প্রতি তাদের বার্তা হওয়া উচিত এমন- ভালো ফলাফলের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করো, ভর্তি পরীক্ষার জন্য আন্তরিকভাবে প্রস্তুতি নাও, কিন্তু পাঠ্যবইয়ের বাইরে নতুন কিছু শেখা কখনো বন্ধ করো না। একজন শিক্ষার্থী তখনই সত্যিকার অর্থে বিকশিত হয়, যখন তাকে নতুন জ্ঞান অর্জন, ব্যবহারিক দক্ষতা গড়ে তোলা এবং নিজের আগ্রহের ক্ষেত্রগুলো নির্ভয়ে অনুসন্ধান করার সুযোগ ও উৎসাহ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো শক্তি তার বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী। দেশের ভবিষ্যৎ শুধু এটার ওপর নির্ভর করে না যে, কতজন শিক্ষার্থী পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফল করল। বরং নির্ভর করে- তারা কতটা উদ্ভাবনী চিন্তা করতে পারে, বাস্তব সমস্যার সমাধান দিতে পারে, নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে পারে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দক্ষতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে। আজকের প্রতিটি এইচএসসি শিক্ষার্থীর মধ্যেই সেই সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এসে তাদের তিনটি বিষয় সব সময় মনে রাখা দরকার। প্রথমত, এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ভালো ফল করার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নিজের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। তৃতীয়ত, যে ফলই আসুক না কেন, নতুন জ্ঞান অর্জন এবং ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়নের কাজ কখনো থামানো যাবে না। শিক্ষা কেবল পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভালো ফলাফল নতুন সুযোগের দরজা খুলে দেয়, কিন্তু সেই দরজা খোলা রাখে শেখার আগ্রহ। অধ্যবসায় মানুষকে ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। দক্ষতা নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করে। আর সততা ও চরিত্র মানুষের প্রতি আস্থা তৈরি করে। এই গুণগুলোর সমন্বয়ই একজন তরুণকে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে সফল হতে নয়, বরং একজন দক্ষ পেশাজীবী, দায়িত্বশীল নাগরিক আর আজীবন শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে।
#
লেখক: পরিচালক (মিডিয়া) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পিআইডি ফিচার
তারানা চৌধুরী:২০১৮ সালের অক্টোবর মাস। এক শুক্রবার রাতে মামার বাসায় দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরেন মুনিয়া (ছদ্মনাম)। তখনো সব স্বাভাবিক। কিন্তু পরদিন সকাল থেকেই হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর আর মাথাব্যথা শুরু হয়। বুঝতে দের ...
রাহাদ সুমন: বরিশালের বানারীপাড়ার আমৃত্যু সংগ্রামী শতবর্ষী নারী মায়া রাণী দাস। যেন কবি জসিম উদ্দিনের কবিতার "কঙ্কাল সার" দেহের সেই আসমানীর প্রতিরূপ। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত জীবিকার সন্ধানে কঙ্কালসার ...
মোঃ মাহফুজুর রহমান:একটা সময় ছিল গ্রামের অনেক কৃষক সাদা কাগজে টিপসই দিয়ে ভিটেমাটি হারিয়ে পথের ফকির হয়ে যেত । আবার অনেকে ঋণ না নিয়েও ঋণের ফাঁদে পড়তো । কারণ তারা ছিল নিরক্ষর । মানুষের অজ্ঞতার সুযোগকে কাজ ...
এ এম ইমদাদুল ইসলাম:তরুণ বয়সে যে হাত লাঙল ধরেছিল, বার্ধক্যেও সেই হাতেই এখন ধরা থাকে একটি প্লাস্টিকের কার্ড। দেখতে সাধারণ, কিন্তু এর ভেতরে জমা আছে এক কৃষকের পরিচয়, তার জমির হিসাব, প্রাপ্য ভর্তুকি এবং ভব ...
সব মন্তব্য
No Comments