শিক্ষক সংকট
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক স্বল্পতা মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে উপজেলাভিত্তিক একটি “শিক্ষক পুল” গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সাময়িকভাবে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পাঠদান চালু রাখা যায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ব্যবস্থা হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত কিন্তু শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি বা গভর্নিং বডি প্রয়োজন অনুযায়ী এই পুল থেকে শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবে। তবে এটি হবে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে। এসব শিক্ষকদের সম্মানী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বের বিষয়টি মানতে নারাজ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই উদ্যোগ মূলত অতিরিক্ত শিক্ষক প্রয়োজন মেটানোর জন্য, নিয়মিত শূন্যপদ পূরণের বিকল্প হিসেবে নয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক হাজার প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে, তারপরও বড় একটি অংশ খালি রয়ে গেছে, যা শিক্ষক সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক নেতারা এই উদ্যোগকে সাময়িকভাবে ইতিবাচক বললেও কিছু ঝুঁকির দিক তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, স্বল্প সময়ের জন্য শিক্ষক নিয়োগ দিলে পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অসামঞ্জস্য তৈরি হতে পারে। এছাড়া নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় না থাকলে রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কাও রয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে অর্থায়ন। অনেক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব তহবিল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মানী দিতে পারবে কিনা, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট বেশি, সেখানেই আর্থিক সক্ষমতা কম থাকার সম্ভাবনা বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সংকটকালীন সমাধান হিসেবে কার্যকর হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই হবে টেকসই সমাধান। এজন্য বছরে একাধিকবার নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন এবং দ্রুত ফল প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সার্বিকভাবে, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও এর সফল বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং আর্থিক সক্ষমতা—এই তিনটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্ম, ইসলামে শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্ব-ভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ক আলোচনা ...
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নতুন তিনজন সহকারী প্রক্টর নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ড. শেখ মো. নূরুজ্জামান (প্রফেসর, সংস্কৃত বিভাগ), মো. ফিরোজ হোসেন (প্রভাষক, জেনেটিক ইঞ্জিনিয় ...
স্টাফ রিপোর্টার: ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী বছরের ১৪ মার্চ শুরুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। ওই বছরের ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ করার পরিকল ...
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো : প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মাসখানেকের মধ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জা ...
সব মন্তব্য
No Comments