আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তিন দিনের টানা পাল্টাপাল্টি হামলার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক কার্যক্রম বন্ধে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি রক্ষায় দুই দেশ মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় প্রযুক্তিগত আলোচনায় বসছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস, রয়টার্স ও দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আপাতত সব ধরনের ‘কাইনেটিক অ্যাক্টিভিটি’ বন্ধ থাকবে এবং জাহাজ চলাচল অবাধ থাকবে।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগে ওয়াশিংটন তেহরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পাল্টা হিসেবে রবিবার ইরান কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। বাহরাইনের মুহাররাক এলাকায় একটি বহুতল ভবনের ছাদে আঘাত হানলেও কেউ হতাহত হয়নি।
সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত বৃহস্পতিবার একটি কার্গো জাহাজে ইরানি প্রজেক্টাইল আঘাত হানার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করে। এরপর দুই পক্ষই হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান নেয়। ইরান ঘোষণা দেয়, তার অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালি দিয়ে যেতে পারবে না। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।
মার্কিন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, “আমরা সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি”। অন্য এক কর্মকর্তা জানান, “আপাতত দুই পক্ষই পিছু হটছে এবং জাহাজ চলাচল অবাধ থাকবে”। দোহার বৈঠকে সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ, অর্থাৎ হরমুজে নৌ চলাচলের বিষয়টি মূল আলোচ্য হবে বলে জানা গেছে।
তবে বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তাও আছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের কর্মকর্তা মেহদি ফাজায়েলি রাষ্ট্রীয় টিভিকে জানান, সাম্প্রতিক হামলা ও সমঝোতার শর্ত পূরণ না হওয়ায় রবিবারের প্রযুক্তিগত আলোচনায় ইরান অংশ নেয়নি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ তহবিল ছাড় করেনি। অন্যদিকে আল-আরাবিয়াকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আলোচনা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই এগোচ্ছে এবং বাতিল হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে বৈশ্বিক তেলের দাম, সার সরবরাহ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বড় প্রভাব পড়ে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার খসড়া প্রস্তাবও তুলেছে, যেখানে হরমুজে হামলা বন্ধ, অবৈধ টোল আদায় বন্ধ এবং মাইন অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবারের দোহা বৈঠক সফল হলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করছেন কূটনীতিকরা। তবে গত তিন দিনের সংঘাতের পর ১১ দিন আগে সই হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনও ‘সুতোয় ঝুলছে’ বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। হামলার পর রিয়াদের মূল বিমানবন্দর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের একটি স্বাধীন তদন্ত মিশন জানিয়েছে, ইরানে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। বৃহস্পতিব ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট জেলায় জুমার নামাজের সময় একটি মসজিদের সামনে শক্তিশালী আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয় ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধ চলমান থাকা সত্ত্বেও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাকে ভিসা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী সপ্তাহে ন ...
সব মন্তব্য
No Comments