সুমন আদিত্য, জামালপুর প্রতিনিধিঃ জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জ্বালানি তেলকে ঘিরে অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পেট্রল পাম্পগুলোতে তেলের সংকট দেখানো হলেও খোলাবাজারে মিলছে সহজেই তবে সরকারি দামের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি দামে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে দিনের পর দিন ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা যায়। অথচ একই সময়ে উপজেলার বিভিন্ন মোড়, বাজার ও দোকানে খোলাবাজারে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
অভিযোগ উঠেছে, জগন্নাথগঞ্জঘাট এলাকার চান মিয়া ফিলিং স্টেশন, বয়ড়া একুশের মোড়ের নূরজাহান ফিলিং স্টেশন এবং পপুলার মোড়ের ঝিনাই ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি পাম্পে পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও সাধারণ ক্রেতাদের কাছে তা বিক্রি করা হচ্ছে না। বরং নির্দিষ্ট চক্রের মাধ্যমে গোপনে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এক ভুক্তভোগী জানান, সারাদিন পাম্পে অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যায় না। তবে পরিচিতি থাকলে রাতের বেলায় বেশি দামে তেল পাওয়া সম্ভব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাকচালকের অভিযোগ, কিছু পাম্প থেকে সরাসরি গাড়িতে তেল না দিয়ে গ্যালনে করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা পরে কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে।
তারাকান্দি এলাকার ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, “পেট্রল পাম্পে নেই, কিন্তু মুদির দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। পাম্পে তেল এনেও ‘তেল নেই’ বলা হচ্ছে এটা যেন মগের মুল্লুক।” তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পাম্প থেকে সরিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে জড়িত রয়েছে পাম্প মালিক, মধ্যস্বত্বভোগী ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি নেটওয়ার্ক।
এদিকে, অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো কঠোর অভিযান চোখে পড়েনি। স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা হলে এ ধরনের অনিয়ম কমানো সম্ভব।
সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এ ব্যাপারে পাম্প মালিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তেল ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। প্রতিটি তেল লড়িতে ১৫ হাজার টাকা বেশি দিয়েও ৩-৪ দিন অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এক প্রশ্নের জবাবে তারা আরও জানান, তেল ডিপো থেকে তেল সরবরাহ না হলে আমরা জনগণকে কিভাবে তেল দিবো?
দেখা যাচ্ছে, এ কৃত্রিম সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে। পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, জরুরি সেবায় বিঘ্ন ঘটছে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা হয়ে উঠছে অনিশ্চিত। সব মিলিয়ে স্থানীয়দের একটাই প্রশ্ন পাম্পে তেল না থাকলেও বাজারে যে তেল পাওয়া যাচ্ছে, তা আসছে কোথা থেকে?
ডেস্ক রিপোর্ট: শিক্ষা ও ফুটবলে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ বাড়াতে যৌথভাবে নতুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চ্যালেঞ্জ চালু করেছে মেটলাইফ ও গ্লোবাল সিটিজেন।‘ফুটওয়ার্ক ফর ফিউচার্স’ নামের এই উদ্যোগের আওতায় বিশ্বের ...
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের ক্রমবর্ধমান সৌরশক্তি খাতের সম্ভাবনা এবং ব্যবসায়িক কৌশল সম্পর্কে কর্মীদের ধারণা আরও সমৃদ্ধ করতে ‘সোলার বিজনেস স্ট্র্যাটেজিস ইন বাংলাদেশ মার্কেট’ শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ সেশনের আয়োজন ...
স্টাফ রিপোর্টার: কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এবছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।এবছর ঢাকায় গরুর প্ ...
স্টাফ রিপোর্টার: কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। প্রথম ধাপে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।ব ...
সব মন্তব্য
No Comments