রামিসা হত্যাকাণ্ড: পল্লবীতে নিহতের বাসায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : 22 May 2026
রামিসা হত্যাকাণ্ড: পল্লবীতে নিহতের বাসায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর পল্লবীতে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার ২১ মে রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তিনি পল্লবীতে রামিসার বাসায় যান এবং পরিবারকে সান্ত্বনা দেন।


প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ জানান, রামিসার পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম হক রামিসাদের বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন।


গত মঙ্গলবার ১৯ মে সকালে মিরপুর-১১ নম্বরের একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমের বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।


পুলিশ জানায়, সেদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ওরফে জাকির হোসেন কৌশলে রামিসাকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় রামিসার মা দরজায় কড়া নাড়লেও সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার দরজা খোলেননি। পরে সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


বুধবার ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সোহেল। জবানবন্দিতে সে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।


রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।


আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ডিএমপি কমিশনারকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিচার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে দ্রুততম সময়ে শেষ করতে সরকার সব আইনি ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেবে।’


পুলিশের ধারণা, বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি। নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে তাকে হত্যা করে আলামত গোপনের চেষ্টা করা হয়। ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল রিপোর্টের পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।


রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ চলছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

সম্পর্কিত খবর

;