বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল

প্রকাশ : 17 Aug 2026
বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল

স্টাফ রিপোর্টার | চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে জনগণের দুর্ভোগ এবং নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সংকট সমাধানে ১০ বছর বা দুই বছরের সময়সীমার কথা বলে জনগণকে শান্ত রাখা যাবে না; জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।


রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার চাইলে বরাদ্দকৃত অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে দ্রুত সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারে। জনগণকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বলে বর্তমান দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া যাবে না।


তিনি বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে দশ বছরের অজুহাত দেখালে হবে না। জরুরি ভিত্তিতে যেকোনো সরকার জনগণের দুর্ভোগ কমাতে অনেক পদক্ষেপ নিতে পারে।’


বিদ্যুৎ খাতের অনিয়মের অভিযোগ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা, ভুতুড়ে বিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের নামে কথিত অপচয় ও লুটপাট বন্ধ করা জরুরি। তার দাবি, এসব ক্ষেত্রে অনিয়ম বন্ধ করা গেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে লুটপাটের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এসব বন্ধ করে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ সাশ্রয়ের দিকে সরকারের নজর দেওয়া উচিত। কিন্তু সরকার সে দিকে গুরুত্ব না দিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।


বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের মধ্যেও অসঙ্গতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের কেউ সংকট সমাধানে দুই বছর, আবার কেউ ১০ বছরের কথা বলছেন। ফলে সরকারের বক্তব্যের মধ্যেই সমন্বয়হীনতা রয়েছে।


তিনি বলেন, ‘তারা আগে নিজেদের মধ্যে সালিশটা মিটিয়ে নিক।’ একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দল হিসেবে একটি সমন্বিত প্রস্তাব দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের সক্ষমতা থাকলে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করে জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।


গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চায় না। কারণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে এর ক্ষতি শুধু সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো দেশ ও অর্থনীতি।


তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। যে মা সকালে রান্নার চুলা জ্বালাতে পারেন না, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হন। যে শ্রমিক বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানায় উৎপাদন করতে পারেন না, তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত হন। একইভাবে উদ্যোক্তা সময়মতো পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করতে না পারলে দেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।


সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদে হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। এখন জনগণের প্রয়োজনের সময়ে সেই অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে রাজনৈতিক বিতর্কে না নিয়ে বাস্তবসম্মত ও দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে ব্যর্থ সরকারগুলো নিজেদের গণবিচ্ছিন্নতা ও জনগণের দুর্ভোগ আড়াল করতে বিভিন্ন ‘নন-ইস্যু’ সামনে এনে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছে। বর্তমান সরকারও একই কৌশল অবলম্বন করছে বলে দাবি করেন তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি।

সম্পর্কিত খবর

;