কমলনগরে মাকে বেঁধে রেখে তরুণীকে গণধর্ষণের শাস্তি দাবি

প্রকাশ : 18 Dec 2024
কমলনগরে মাকে বেঁধে রেখে তরুণীকে গণধর্ষণের শাস্তি দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট:  সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট দিলরুবা নূরী আজ এক যুক্ত বিবৃতিতে অবিলম্বে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মাকে বেঁধে রেখে তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।


পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত ৯ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মধ্যরাতে ঘরের দরজা ভেঙে মাকে বেঁধে রেখে একজন তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তরুনীর পরিবার নদী ভাঙনে ঘর বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব, ফেনী শহরে রিকশা চালিয়ে তার বাবা সংসার চালানের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। চরকাদিরা নামক এলাকায় ছোট একটি বসতভিটায় মা এবং দুই ভাইসহ বাস করছে কোনরকমে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে সম্পর্কিত রনি নামের প্রতিবেশী তরুণ ৫/৬ জনকে নিয়ে রাতে ঘরের দরজা ভেঙে মা এর হাত মুখ বেঁধে পাশের ঘরে তরুণীকে ২জন মিলে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে তাদের (মা-মেয়ে) সঙ্গে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। পরের দিন বাবা বাড়ি ফিরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে ঘটনার বিচার চাইলে উল্টো রনির কাছ থেকে হুমকির মুখে পড়েন। বিচার প্রক্রিয়ার কোন উদ্যোগ না পেয়ে স্থানীয় সেনাবাহিনী অফিসে অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগীর বাবা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিচারের কোন উদ্যোগ গৃহীত হয়নি। পাশাপাশি পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় দিন অতিবাহিত করছে।

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, নারী নির্যাতন-ধর্ষণ খুবই সহজ এবং স্বাভাবিক বিষয় এ পরিণত হয়েছে সর্বত্র। শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে এর প্রভাব আরো ভয়াবহ। এদের নিপীড়ন করাও যেমন সহজ তেমনি বিচারের আওতায় আসার সম্ভাবনাও থাকে সবচেয়ে কম। বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থা টাকা ও ক্ষমতার কাছে জিম্মি। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতাও রয়েছে। ফলে ভুক্তভোগী গরীব মানুষরা হয়ে পরেন অসহায়। দরিদ্র পরিবার খরচ করতে পারবে না বলে মামলা করতে পারে না, আবার স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বিচারও পায় না। টাকা পয়সা বা ভয় ভীতি প্রদর্শন করে বিষয় ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। এই ভূক্তভোগী তরুণী ও তার পরিবারের সাথে এই ঘটনাই ঘটছে। তরুণীর বাবা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরছেন বিচারের আশায়। রনিসহ বাকিদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা এবং ঐ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। এ ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে প্রশাসনকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং ধর্ষকদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিতের আহ্বান জানান

সম্পর্কিত খবর

;