আমীরে জামায়াত

গণভোট নিয়ে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির রাজনীতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান ও ঘৃণা করি:

প্রকাশ : 17 Apr 2026
গণভোট নিয়ে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির রাজনীতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান ও ঘৃণা করি:

স্টাফ রিপোর্টার: গণভোটকে ঘিরে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না এবং এ ধরনের রাজনীতি দলটি প্রত্যাখ্যান করে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জামায়াতের জেলা ও মহানগরী আমীর সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন জেলার দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পাশাপাশি গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকারদের প্রতিও সংহতি জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ব্যাপক অনিয়ম ও ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে। তার দাবি, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হতে দেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

আমীরে জামায়াত বলেন, বিদেশে বসে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করা এবং একটি নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত দেওয়া দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিপুল সংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও সেই রায়ের যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি। এটি জনগণের মতামতের প্রতি অসম্মান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সংসদ কার্যক্রমেও বিরোধী দলের মতামত উপস্থাপনের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশসমূহ যথাযথ আলোচনা ছাড়াই পাশ বা বাতিল করার অভিযোগও তোলেন তিনি।

ব্যাংকিং খাত, বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও মানবাধিকার ইস্যুতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে দলীয়করণ ও প্রভাব বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণভোটের ফলাফল মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে জাতীয় সংকট সমাধানে সব পক্ষকে সংলাপে বসার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে সচেতন থাকতে হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সম্পর্কিত খবর

;