প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের প্রতিক্রিয়া; ভাষণে গণআকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি

প্রকাশ : 07 Jun 2025
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের প্রতিক্রিয়া; ভাষণে গণআকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, গতকাল ৬ জুন ২০২৫ সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনুস জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন প্রসঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। এর মধ্যে এক পর্যায়ে তিনি আগামী বছর এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন। আমরা মনে করি, আমাদের দল বাসদসহ বাম গণতান্ত্রিক জোট এবং দেশের প্রায় ৫০টির অধিক রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে আসছিল। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার এবং জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে একথা বারবার বলেছেন যে, রাজনৈতিক দলগুলো যখন চাইবে তখনই নির্বাচন হবে। অথচ গতকাল তিনি দেশের বেশিরিভাগ রাজনৈতিক দলের মতামতকে উপেক্ষা করে এককভাবে এপ্রিল মাসে নির্বাচনের সময় ঘোষণা করলেন। আমরা মনে করি, এটা অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ও জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে যা ১০ মাসের ঘটনা পরম্পরায় কোন রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি আছে কিনা সে সন্দেহ খারিজ করা যাচ্ছেনা। অধিকাংশ দলের মতামত উপেক্ষা করে ১টি দলকে সন্তুষ্ট করতে এপ্রিলে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাছাড়া এপ্রিল মাসে নির্বাচন হলে আবহাওয়া পরিস্থিতি, এসএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষা, ফেব্রুয়ারি-মার্চ ১ মাস রোজা, তীব্র গরম, বোরো ধান কাটার মৌসুম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম না টেনে বাড়তে দেওয়া ইত্যাদি নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে কি না সে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। তাই সার্বিক বিবেচনায় ডিসেম্বর কিংবা জনুয়ারিতেই নির্বাচন হওয়া যথার্থ ছিল বলে অধিকাংশ দল ও সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।


বিবৃতিতে কমরেড ফিরোজ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে বন্দর নিয়ে যে ভাষায় কথা বলেছেন তা রাষ্ট্র ক্ষমতার শীর্ষ পদে আসিন কারো পক্ষে এহেন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। চট্টগ্রাম বন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্দর নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের যে উদ্যোগ তাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করুন, যারা এর বিরোধিতা করছেন তাদের প্রতিহত করুন। নতুন বন্দোবস্তের নামে এই প্রতিহত করার কথা কি পুরোনো ফ্যাসিবাদের নতুন সুর মনে হতে পারেনা? অথচ আমরা দেখি দেশের একটা বড় অংশের দেশপ্রেমিক শক্তি এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং ভূ-রাজনীতির নানা সমীকরণ বিবেচনায় চট্টগ্রাম বন্দর এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বিদেশি কোন প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার বিরোধিতা করছেন। তাছাড়া একটি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে দেশের এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সকল অংশের মানুষের ঐক্যবদ্ধ মতামত ছাড়া সিদ্ধান্ত নেয়া কতোটা গ্রহণযোগ্য? এধরণের একগুঁয়েমি মনোভাব দেশকে গভীর সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলেও আমরা আশংকা ব্যক্ত করি।


বিবৃতিতে তিনি বলেন, মায়ানমারের সাথে মানবিক করিডোরের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আমাদের তাজ্জব করেছে। সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, প্রেস সচিব এসকল বিষয় নিয়ে মানবিক করিডোর, ত্রাণ চ্যানেল ইত্যাদি নানা ধরণের মন্তব্য করেছে বলেই মানুষ এগুলো জানতে পেরেছে এবং তাঁর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এমনকি সম্প্রতি জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীও মন্তব্য করেছেন এধরণের উদ্যোগ জাতিসংঘের নয়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছিল। অথচ প্রফেসর ইউনুস বলে বসলেন, এমন কোন বিষয় নয়। এটি নাকি চিলে কান নিয়েছে বলে যে গল্প প্রচলিত আছে তার মতো ঘটনা। সরকারের মধ্য থেকেই মানুষ যখন এমন পরস্পর বিরোধী মতামত শুনতে পায় তা আসলে জনমনে সরকারের প্রতি অনাস্থা অবিশ্বাসের উদ্রেক ঘটায়। এছাড়াও, দেশের আপামর শ্রমজীবী মানুষের সংকট, শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি, বন্ধ সকল কারখানা চালু ইত্যাদি নানা জনসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তাকে কোন মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। যতটা আগ্রহ বৈদেশিক বিনিয়োগ আনার জন্য দেশের মানুষের প্রতিদিনের জীবনের সমস্যা সমাধানে ততো আগ্রহ আমরা প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে খুঁজে পাইনি।


বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে ‘গণ দাবি উপেক্ষা করে নির্বাচনের যেন তেন একটা সময় যেভাবে ঘোষণা করা হয়েছে তাতে ঐ সময়ে নির্বাচন হয়তো সম্ভব হবেনা জেনেই করা হয়েছে যাতে ইউনুস সরকারের ক্ষমতা বা মেয়াদ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এতে তার নিজের ও দেশি-বিদেশি লুটেরার স্বার্থ হাসিল করা সহজ হবে। বিবৃতিতে তিনি নির্বাচন তারিখ পুনর্বিবেচনা করে ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যেই ঘোষণার দাবি জানান।


সম্পর্কিত খবর

;