জাপার কাউন্সিল:চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিস, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার

প্রকাশ : 09 Aug 2025
জাপার কাউন্সিল:চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিস, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার

স্টাফ রিপোর্টার: ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চেয়ারম্যান ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জাতীয় পার্টির মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন। 


শনিবার (৯ আগষ্ট) রাজধানীর গুলশানে ইমানুয়েল কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত পার্টির দশম জাতীয় কাউন্সিলে সারাদেশ থেকে আগত প্রায় দুই হাজার কাউন্সিলরদের কণ্ঠভোটে তারা নির্বাচিত হন।


কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে, জাতীয় পার্টি গঠিত ৩ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়ক মো: জহিরুল ইসলাম জহির নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ও মহাসচিব হিসেবে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের  নাম ঘোষণা করেন। কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা হলেন মোস্তফা আল মাহমুদ মো:আরিফুর রহমান খান। 


এছাড়া কাজী ফিরোজ রশিদকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও মুজিবুল হক চুন্নু নির্বাহী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এই সময় সারাদেশ থেকে আগত কাউন্সিলরদের পাশাপাশি প্রায় তিন হাজারের অধিক ডেলিগেট কাউন্সিলে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে জাতীয়  ও দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কাউন্সিলের উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন  জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।


প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির(জেপির) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম  রুহুল আমিন হাওলাদার।  সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্ন। 


উদ্বোধনী অধিবেশনে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার,  কাজী ফিরোজ রশিদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রেসিডিয়াম  সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, এটিইউ তাজ রহমান, সোলায়মান আলম শেঠ, নাসরিন জাহান রতনা, নাজমা আকতার, লিয়াকত হোসেন খোকা, মোস্তফা আল মাহমুদ, মাসরুর মওলা, জসিম উদ্দিন ভূইয়া, আরিফুর রহমান,নুরুল ইসলাম মিলন, জিয়াউল হক মৃধা, খান ইসরাফিল খোকনসহ দলটির অধিকাংশ সিনিয়র নেতা  ও বিভিন্ন জেলা কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকরা। 


কাউন্সিলে  সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টি (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম,জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য, দিদারুল আলম দিদার বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির(মতিন) মহাসচিব জাফর আহমেদ জয়।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এই দেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আমাদের দেশকে একটা অবস্থানে নিয়ে এসেছিলাম। আজকে সবাই সব কথা বলে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতার কথা কেউ বলে না। 


মঞ্জু বলেন, এখন সরকার বলছে, সংস্কার করতে হবে। সংস্কার কি আমরা করিনি। শিক্ষানীতি, ঔষধনীতি, উপজেলা পদ্ধতি এসবই সংস্কারের অংশ ছিলো। এখন সংস্কারের জন্য বিদেশ থেকে লোক ভাড়া করতে আনতে হয়। তারা কিভাবে সংস্কার করবে। তারা সংস্কারের প্রস্তাবনা দিতে পারে। কিন্তু তা বাস্থবায়ন করতে হলে নির্বাচিত সংসদ লাগবে। নির্বাচনে কথা উঠছে। কিন্তু কিভাবে নির্বাচন হবে। আদৌ নির্বাচন হবে কিনা জানি না। তাছাড়া দেশে এখন যে পরিবেশ বিজার করছে তাতে নির্বাচন কি দরকার। বড় দুই দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগি করে  নিলে নির্বাচনের খরচবাবদ দুই হাজার কোটি টাকা বেচে যায়।


তিনি বলেন, সারাদেশে দখলবাজি চলছে, বাড়িদখল-দোকান দখল, হাট বাজার দখল, সব জায়গায় দখলবাজি হচ্ছে। কোনো কিছুতেই নিয়ম কানুনের বালাই নেই। এই সব বন্ধ করতে সরকারের দৃশ্যমান  উদ্যোগও চোখে পড়ছে না।  


সভাপতির বক্তব্যে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, সরকার সংস্কার করছে, কিন্তু এই সংস্কার তারা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হলে নির্বাচিত সংসদ দরকার। আর সংসদের জন্য দরকার জাতীয় নির্বাচন। যদিও সরকার নির্বাচনের কথাও বলছে। কিন্তু আদৌ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। 


ব্যারিস্টার আনিস বলেন, অবাধ সুষ্ট  গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য  রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐক্যমত দরকার। কিন্তু সরকার তা করছে না। আমি সরকারকে বলবো, বিভাজনের রাজনীতি বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্যমত তৈরি করুন।  কাউন্সিলে ব্যারিস্টার আনিস আরো বলেন, দেশে নির্বাচনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। সারাদেশে চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, দখলবাজি  চলছে। মানুষ খুন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সাংবাদিরাও হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে। একটি অস্থির পরিবেশ পুরো বাংলাদেশে। এই অবস্থায় কিভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। তিনি বলেন, যারা আজ চাঁদাবাজি করছে, তারা সবাই রাজনৈতিক  দলের সমর্থক। এই চাঁদাবাজি  রাজনৈতিক দলকে বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, সবাই  দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে। কিন্তু ক্ষমতায় যারা থাকে তাদের  দূর্নীতি চোখে পড়ে না। ক্ষমতা থেকে গেলেই দূর্নীতির মামলা হয়। আবার ক্ষমতায় আসলে  দূর্নীতির মামলা  উঠে যায়। কিন্তু ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার পর জাতীয় পার্টির নেতাদের বিরুদ্ধে কেউ  দূর্নীতির প্রমাণ করতে পারেনি। 


স্বাগত বক্তব্যে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টিকে আমরা নিয়ে যাবো সাধারণ মানুষের কাছে। ফিরিয়ে দিব তৃণমূলের মর্যাদা। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের গড়া জাতীয় পার্টি কারো একক সম্পত্তি নয়, এই পার্টি জনগণের আশা ও অধিকার রক্ষার আন্দোলনে রাজপথে থাকবে। আমরা দেশের মানুষকে নতুন পথ দেখাতে চাই। জাতীয় পার্টি এখন শুধু বিরোধী শক্তি নয়। আমরা হয়ে উঠতে চাই জাতির বিকল্প নেতৃত্ব। যে নেতৃত্ব, সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য পল্লীবন্ধু এরশাদের  স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করবে। তিনি বলেন, আজকের এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে  জাতীয় পার্টির বিভক্তিকে ভেঙে নতুন নবযাত্রায় পল্লীবন্ধু এরশাদের জাতীয় পার্টি কে গড়ে তোলার শপথ নিচ্ছি। আদালতের আদেশ ও গঠনতান্ত্রিক উপায়ে আজকের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ থেকে জাতীয় পার্টি কোন একক নেতৃত্বে চলবে না,জাতীয় পার্টি পরিচালিত হবে যেীথ নেতৃত্বের মাধ্যমে। এখন থেকে জাতীয় পার্টিতে আর বিভাজনের আশঙ্কা নেই। বরং খন্ডিত জাতীয় পার্টি গুলোকে এক ছাতার নিচে নিয়ে এসে ঐক্যবদ্ধ করে পল্লী বন্ধু এরশাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ শুরু করবো।


এই সময় আওয়ামী লীগের আমলে বৈধ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, আমরা দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কোনো বেআইনি কাজ করিনি। যদি নৈতিকভাবে কোনো ভুল হয়ে থাকে, কোনো ভ্রান্তি হয়ে থাকে তাহলে এই কাউন্সিলে দাঁড়িয়ে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে আমরা নিঃশর্ত ক্ষমা চাই। চুন্নু বলেন, গত প্রায় চার বছর আমি জাতীয় পার্টির মহাসচিব হিসেবে ছিলাম। ভুলভ্রান্তি আমার থাকতে পারে। যে সমস্ত ভুল ভ্রান্তি ছিল, সেগুলো আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব হিসেবে আমি দেশবাসীর কাছে একটি কথাই বলব, আমরা রাজনীতি করতে গিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তে সব সময় হয়তো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। আমরা বিগত অনেকগুলো নির্বাচন করেছি। অনেক সময় অনেকে আমাদের বিভিন্নভাবে কটূক্তি করেন, বিভিন্ন দলের সহযোগী বা স্বৈরাচার সহযোগী হিসেবে আমাদের আখ্যায়িত করেন।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, আমরা দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কোনো বেআইনি কাজ করিনি। যদি নৈতিকভাবে কোনো ভুল হয়ে থাকে, যদি নৈতিকভাবে কোনো ভ্রান্তি হয়ে থাকে তাহলে এই কাউন্সিলে দাঁড়িয়ে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে আমরা নিঃশর্ত ক্ষমা চাই।


সম্পর্কিত খবর

;