সংস্কৃতি ও ভিন্নমত দমন রুখে দাঁড়াতে গোলাম মোহাম্মদ ইদু স্মরণ

প্রকাশ : 23 Dec 2025
সংস্কৃতি ও ভিন্নমত দমন রুখে দাঁড়াতে গোলাম মোহাম্মদ ইদু স্মরণ


ডেস্ক রিপোর্ট: উদীচীর প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠক ও সাবেক সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ ইদু’র দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


সন্ত্রাসী হামলা ও অগ্নিসংযোগে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভস্মীভূত হওয়ায় তোপখানা রোডের সত্যেন চত্বরে সোমবার সন্ধ্যায় অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করে উদীচী। সেই কার্যালয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম। সভা সঞ্চালনা করেন সহসাধারণ সম্পাদক রহমান মুফিজ। বক্তারা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে গোলাম মোহাম্মদ ইদু’র সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক অবদান স্মরণ করেন এবং দেশের চলমান অস্থিরতা এবং গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।


বক্তারা বলেন, গোলাম মোহাম্মদ ইদু ছিলেন প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক আপসহীন সংগঠক। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। দেশে গণতন্ত্র, বৈষম্যহীন সমাজ ও অসাম্প্রদায়িক ব্যবস্থার জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। সাম্রাজ্যবাদ, ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলেছেন সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ।


আলোচনায় বক্তারা জানান, উদীচীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার পর বাধ্য হয়ে সত্যেন সেন চত্বরে অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। তারা বলেন, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ কেবল স্থাপনায় হামলা নয়, এটি মুক্তচিন্তা ও গণমানুষের সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত।


সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম বলেন, দেশে আজ গভীর অস্থিরতা বিরাজ করছে, যেখানে সংস্কৃতি ও মতপ্রকাশ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। উদীচী, ছায়ানটসহ সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের মতো স্বাধীন গণমাধ্যমে হামলা ভিন্নমত দমনের স্পষ্ট বার্তা দেয়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতে এবং দেশকে গণতান্ত্রিক যাত্রা থেকে বিচ্যুত করার ষড়যন্ত্র হিসেবে নব্য ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী সারাদেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করছে।


উদীচীর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য একরাম হোসেন বলেন, এসব হামলা রাষ্ট্রের ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ।


সহসভাপতি তাহমিনা ইয়াসমিন নীলা বলেন, উদীচী ও ছায়ানট গণমানুষের চেতনার ঠিকানা, এগুলোতে হামলা মানে জাতির আত্মায় আঘাত।


সহসাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান বলেন, আজ সত্য বলা অপরাধে পরিণত হচ্ছে।


কেন্দ্রীয় সদস্য মোরশেদুল হাকিম বলেন, রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে সংস্কৃতিই হয়ে ওঠে প্রতিরোধের শেষ আশ্রয়।


সহসাধারণ সম্পাদক রহমান মুফিজ বলেন, নীরবতা নয়, সংগঠিত সাংস্কৃতিক প্রতিরোধই হবে এই নব্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মোক্ষম  জবাব।


আলোচনা সভা শেষে গোলাম মোহাম্মদ ইদু’র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


সম্পর্কিত খবর

;