নিরবে শিক্ষার্থীদের পাশে পাড়া ডগাইর আইডিয়াল স্কুল এণ্ড কলেজ

প্রকাশ : 23 Jun 2025
নিরবে শিক্ষার্থীদের পাশে পাড়া ডগাইর আইডিয়াল স্কুল এণ্ড কলেজ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর সুনামখ্যাত স্কুল এণ্ড কলেজগুলো যখন নিজেদের পকেট ভারি করার জন্য প্রতিযোগিতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খচর বাড়াচ্ছে। একইসঙ্গে চিন্তা-ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছেন অভিভাবকদের। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানে ব্যবসা নয়, সঠিক পরিচর্যায় প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের আর্দশবান হিসেবে গড়ে তুলার প্রত্যয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে যাত্রাবাড়ি থানাধীন মোমেনবাগে উপস্থিত ‘পাড়া ডগাইর আইডিয়াল স্কুল এণ্ড কলেজ’। গতকাল সোমবার প্রতিষ্ঠানটি খোঁজখবর নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, পাড়া ডগাইর আইডিয়াল স্কুলটি ২০০২ সালে সাবেক এমপি সালাহ্ উদ্দিন ইচ্ছ বিদ্যালয় নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৩ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘পাড়া ডগাইর আইডিয়াল স্কুল এণ্ড কলেজ’ নামে নাম করণ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে গরীব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি করে দেন অধ্যক্ষ মো: আমিরুল ইসলাম। মূলত তার উদ্যোগ ও মেধা-শ্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা-ঘাত প্রতিঘাতের পরও সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এখানে শুরুর দিকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির জন্য পাড়া ডগাইর আইুডয়াল স্কুলে আনতে হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আনতে হয় না। অভিভাবকরাই নিজ উদ্যোগে এখানে ছেলে- মেয়েদের লেখা-পড়ার জন্য ভর্তি করছেন। বর্তমানে স্কুল শাখায় এক হাজার এবং কলেজ শাখায় একশত শিক্ষার্থীসহ মোট এগারো শত ছেলে-মেয়ে অধ্যয়নরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২শত ৮৪জন বিনা বেতনে লেখাপাড়া করছেন। শুধু তাই নয়, পাড়া ডগাইর আইডিয়াল স্কুল এণ্ড কলেজে বেতনও সাধ্যের মধ্যে। ফলে অভিভাবকদের বাড়তি কোনো চিন্তা করতে হয় না। অথচ আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতি বছর ভর্তিসহ হাজার হাজার টাকা ব্যায় করতে হয় অভিভাবকদের। ফলে অনেকের ইচ্ছে থাকলেও অতিরিক্ত টাকার কারণে মেধাবী হওয়া সত্বেও ভর্তি করতে সাহস পান না বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তারা বলছেন, পাড়া ডগাইর আইডিয়াল স্কুল এণ্ড কলেজে লেখাপাড়ার মান ও ভালো এবং সবকিছুই সাধ্যের মধ্যে হওয়ায় তেমন কষ্ট নেই। গফুর নামে এক অভিভাবক জানান, যাত্রাবাড়ি ও ডেমরায় বেশির ভাগ স্কুল এণ্ড কলেজে সন্তানদের পড়াতে হলে মোটা অংকের টাকা লাগে। তারউপর বাসায় এবং স্কুলগুলোতে কোচিং বাবদ অনেক টাকা ব্যায় করতে হয়। তবে পাড়া ডগাইর আইডিয়াল স্কুল এণ্ড কলেজে পড়াতে বাসায় কোনো গৃহশিক্ষক প্রয়োজন হয় না এবং রেজাল্টও ভালো হয়। একইকথা বলেছেন আরও ানেক অভিভাবক। বর্তমানে এমপিও ভুক্ত-নন এমপিও ভুক্ত ও খণ্ডকালিনসহ মোট ৪৯জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করে আসছেন। তাদের নিরলস প্রচেষ্টা, মেধা ও শ্রমের ফসল হিসেবে ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ৯৪.৮৫ এবং ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ৯৬.২৯ শতাংশ পাশ করে। একইসঙ্গে এইচ এস সি পরীক্ষায় ২০২৩ সালে ৯৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৯০.৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ: পাড়া ডগাইর আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ বেশ কিছু ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ, শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞান, দক্ষতা এবং নৈতিকতা অর্জন, এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ। এছাড়াও, কিছু শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। 

নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ:স্কুলটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সত্য, ন্যায়, সহানুভূতি, সহনশীলতা এবং সততার মতো নৈতিক মূল্যবোধগুলো বিকাশে সহায়তা করে।

শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম: স্কুলটি পাঠ্যক্রমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমেও মনোযোগ দেয়, যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা এবং নৈতিকতা অর্জনে সহায়তা করে।

সামাজিক কার্যক্রম: স্কুলটি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে, যেমন- ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, এবং সেচ্ছাসেবী সংস্থা কর্তৃক আর্থিক সহায়তা প্রদান ইত্যাদি।

শিক্ষার্থীদের সাফল্য: পাড়াডগার আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ফলাফল করে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে, যেমন- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও স্কুলটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ইভেন্ট ও প্রোগ্রাম আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশের সুযোগ করে তুলছে প্রতিষ্ঠনটি।

এ বিষয়ে কথা হয় পাড়া ডগাইর আইডিয়াল স্কুল এণ্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো: আমিরুল ইসলাম এর সঙ্গে। তিনি বলেন, কৃষক-শ্রমিক ও দৈনিকহারে মজুরি খাটা মানুষগুলোর সন্তানদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল আমার টার্গেট। শুরু থেকেই আমি তাদের সন্তানদের সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে কাজ করেছি। ফলে আস্তে আস্তে বিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল হতে থাকে। দিনকে দিন যত যাচ্ছে অত্র শিক্ষপ্রতিষ্ঠানটির সাফল্যে বাড়ছে। এতে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উৎফুল্ল ও উল্লসিত। এ ধারা আগামীতেও অব্যহত থাকবে বলে জানান তিনি।

সম্পর্কিত খবর

;