স্টাফ রিপোর্টার: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া এবং ড. জাহাঙ্গীর আলম খান।
সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসব প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নতুন কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ কয়েক মাস পর দুদক পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব ফিরে পেল। এর আগে গত ৩ মার্চ দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ একযোগে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকেই কমিশন কার্যত নেতৃত্বশূন্য ছিল।
নতুন কমিশন গঠনের জন্য সরকার গত ২২ জুন পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠন করে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে সভাপতি করে গঠিত ওই কমিটিতে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল, মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্য করা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ৭ ধারা অনুযায়ী গঠিত এই বাছাই কমিটির দায়িত্ব ছিল যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দুইজন করে প্রার্থীর নাম সুপারিশ করা। পরে রাষ্ট্রপতি ওই সুপারিশের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেন।
নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান বিচার বিভাগে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন আইনজ্ঞ। ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করা এ কে এম আসাদুজ্জামান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তার আইন পেশার শুরু। পরে ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হন। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের মার্চে তাকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর অবসর গ্রহণ করা বিচারপতি আসাদুজ্জামান এবার দেশের দুর্নীতি দমন সংস্থার শীর্ষ পদে দায়িত্ব পেলেন। ফলে বিচার বিভাগে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অপরাধসংক্রান্ত মামলার বিচারিক অভিজ্ঞতাও নতুন কমিশনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া আর্থিক ও রাজস্ব খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাবেক কর্মকর্তা। তিনি পেশাগত জীবনে উচ্চপদস্থ রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আর্থিক, রাজস্ব ও প্রশাসনিক বিষয়ে তিন দশকের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। এফআরসিতে দায়িত্ব পালনকালে দেশের আর্থিক প্রতিবেদন, অডিট ও হিসাব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন।
দুদকের নতুন আরেক কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ের নাগরিক সমাজের তালিকায়ও তাকে অর্থনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন কমিশন এমন সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছে, যখন গত কয়েক মাসে দুদকের কার্যক্রমে নেতৃত্বের ঘাটতির কারণে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছিল। চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগের পর নতুন কমিশন গঠনে বিলম্ব হওয়ায় দুদকের চলমান অনুসন্ধান, তদন্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
দুদক দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধ, দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। ফলে নতুন কমিশনের সামনে একদিকে পুরোনো ও চলমান অনুসন্ধান-তদন্তগুলো এগিয়ে নেওয়া, অন্যদিকে সংস্থাটির কার্যকারিতা ও জনআস্থা বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে দুদকের কাঠামোতেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর জারি করা ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ কমিশনের সদস্যসংখ্যা তিন থেকে বাড়িয়ে অনধিক পাঁচজন করার সুযোগ রাখা হয়। একই সঙ্গে কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে চার বছর করার বিধান আনা হয়। অন্তত একজন নারী এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ একজন কমিশনার রাখার বিধানও যুক্ত হয়েছে।
তবে নতুন কমিশনে চেয়ারম্যানসহ মোট তিনজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে সংশোধিত আইনে সর্বোচ্চ পাঁচ সদস্যের সুযোগ থাকলেও আপাতত তিন সদস্য নিয়েই কমিশন গঠিত হলো।
আইন অনুযায়ী, দুদক একটি স্বাধীন কমিশন হিসেবে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে কাজ করে। কমিশনের চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের সমান এবং কমিশনারদের পদমর্যাদা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমান।
নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দুদকের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুর্নীতির অনুসন্ধান ও তদন্তগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা, বড় দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং একই সঙ্গে সংস্থাটির পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা আরও দৃঢ় করা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচার বিভাগ, আর্থিক খাত ও অর্থনীতির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তিন ব্যক্তিকে নিয়ে নতুন কমিশন গঠনের ফলে দুর্নীতির মামলার আইনি দিক, আর্থিক অনিয়ম এবং অর্থনৈতিক অপরাধ বিশ্লেষণে ভিন্ন ভিন্ন দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন নতুন কমিশনের কার্যক্রমের ওপরই নির্ভর করবে দুদক কতটা কার্যকরভাবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এগিয়ে নিতে পারে।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর গণপরিবহনে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে চালু হচ্ছে বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। পিংক রঙের এসব বাস প ...
স্টাফ রিপোর্টার: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের আওতায় ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল ...
স্টাফ রিপোর্টার: মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) তার মেয়াদ বাড়িয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।নতুন প্রজ ...
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই হতে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে; ফলে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগ ...
সব মন্তব্য
No Comments