মার্কিন দূতাবাস থেকে বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে: ফরহাদ মজহার

প্রকাশ : 20 Aug 2025
মার্কিন দূতাবাস থেকে বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে: ফরহাদ মজহার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার রূপরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, আগস্টের পর মার্কিন দূতাবাস থেকে বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনে মানবিক ও সংস্কৃতিমনা সংগঠন ‘রাবি রেনেসাঁ’এ সভার আয়োজন করে।


রাষ্ট্র বলে আর কিছু নাই, এখন আছে কয়েকটা রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী মন্তব্য করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আপনারা আরেকটা প্যালেস্টাইনের ওপর বসে আছেন। আপনাদের নিরাপত্তা বিকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা বুঝতে পারছেন না; যেমন বুঝতে পারেননি ৫ আগস্টের পরে শেখ হাসিনাকেই শাসনভার দিয়েছেন। বর্তমানে যা চলে গেছে বনানীতে, আর বনানী মানে হচ্ছে মার্কিন দূতাবাসে। এ জন্য করিডরসহ নানান বিষয়ে তর্ক হলো। ফলে আপনাদের নতুন চিন্তা করতে হবে।’


যারা এখন নির্বাচন চায়, তারা ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন করছে বলে উল্লেখ করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ খুবই কাছাকাছি। হিটলার, মুসোলিনি, শেখ হাসিনা—সবাই নির্বাচিত হয়েই এসেছিলেন। ফলে এখন যাঁরা নির্বাচন-নির্বাচন করছেন, তাঁরা ফ্যাসিবাদকেই পুনর্বাসন করছেন। কারণ, আমরা আমাদের মূল সমস্যা খুঁজছি না। আমাদের নির্বাচন ছাড়াও অনেক সমস্যা আছে। আমাদের শিক্ষা, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মতো সংকটগুলোর সমাধান হয়নি।’


বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টে একটা গণ–অভ্যুত্থান হয়েছে। এরপর ৩ দিন সরকারবিহীন অবস্থায় ছিল। জনগণের হাতে নতুন রাষ্ট্র গঠনের ক্ষমতা এসেছিল। কিন্তু সেটা আর করতে পারল না। ৮ তারিখেই সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব হয়ে গিয়েছিল। শেখ হাসিনার সংবিধানে চুপ্পুর হাতে শপথ করে আপনারা শেখ হাসিনার হাতে ক্ষমতা দিয়েছেন।’


তিনি আরো বলেন, ‘অল্প কিছু কোম্পানি পুরো বিশ্বের টেকনোলজি এবং অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলে আর কোনো রাষ্ট্র নেই। আমেরিকা বলে যেটা আছে, সেটা আসলে ইজরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ—সব এখন ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। ঠিক তেমনি বাংলাদেশ বলেও কোনো রাষ্ট্র নেই। এখন রাষ্ট্র বলে আর কিছু নাই। এখন আছে কয়েকটা রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী।’


দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভবিষ্যতে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক উপস্থিতি অনেক বেশি। যদিও এখানে অপরের প্রতি অসহনশীলতা রয়েছে। তবু এটা উন্নতি করতে পারলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বোঝাপড়া বদলে যাবে। এর প্রাথমিক ধাপ হতে পারে একাডেমিক স্বাধীনতা। এটা আসলেই গণতান্ত্রিক রূপান্তরের শুরু হতে পারে।’


সভায় কি-নোট স্পিকার হিসেবে আলোচনা করেন রেনেসাঁর সংগঠক রাবেয়া মুহিব। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের  রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন, নাট্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুষ্মিতা চক্রবর্তী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এষা এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সম্পর্কিত খবর

;