ঈদুল আজহা পালিত হবে কাল

প্রকাশ : 06 Jun 2025
ঈদুল আজহা পালিত হবে কাল

স্টাফ রিপোটার:  আগামীকাল ঈদুল আজহা পালিত হবে। বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় ২৯ মে বৃহস্পতিবার থেকে পবিত্র জিলহজ মাস গণনা করা হবে। পরিপ্রেক্ষিতে, আগামীকাল ৭ জুন  পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। 

এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। উৎসবটি কুরবানির ঈদ নামেও পরিচিত। ঈদুল আজহা মুলত আরবি শব্দ। এর অর্থ বলা হয়েছে ত্যাগের উৎসব। দিনটিতে মুসলমানেরা ফরজের নামাজের পর দুই রাকাত ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। নামাজ আদায়ের পর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে পশু কোরবানী করেন।

ইসলামী চন্দ্র পঞ্জিকানুযায়ী ঈদুল আজহা জ্বিলহজ্জের ১০ তারিখ পড়ে।। ঈদের তারিখ সাধারন ত জ্বিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে।

ইসলামের বর্ননা ও ইতাহাস থেকে জানাযায, মহান আল্লাহতালা ইসলামের রাসুল হযরত ইব্রহীমকে স্বপ্নযোগে তার প্রিয় বস্তুটি কুরবানি করার নির্দেশ দেন।

" তুমি তোমার প্রিয় বস্তু আল্লাহর নামে কোরবানি কর।"

ইব্রাহিম স্বপ্নে আদেশ প্রয়ে ১০টি উট কোরবানি করলেন। পুনরায় আবারো স্বপ্ন দেখলেন তিনি।অতঃপর ইব্রাহিম একশ উট কোরবানি করেন। এরপরেও তিনি একই স্বপ্ন দেখলেন,তখন ভাবলেন আমার কাছেতো এই মুহুর্তে প্রিয় বস্তু পুত্র ইসমাইল ছাড়া আর প্রিয় কিছু নাই। তখন তিনি প্রত্রকে কোরবানির উদ্দেশ্যে আরাফাতের ময়দানে যান। এ সময় শয়তান আল্লাহর আদেশ পালন থেকে বিরত থাকতে প্রলুব্ধ করলে, ইব্রাহিম শয়তানকে পাথর ছুঁড়ে মেরেছিলেন।সেই থেকে হজ্জের সময় শয়তানের অবস্থান চিহ্ন স্বরূপ পাথর ছুঁড়ে পারা হয়।

ইব্রাহিম আরাফাতের পর্বতের চূড়ায় তার পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি দেয়ার জন্য ছুরি চালানোর চেষ্টা করেন, তখন বিস্মিত হয়ে দেখেন তার পুত্রের পরিবর্তে একিট পশু কুরবানি হয়েছে।ইব্রাহিম আল্লাহর আদেশ পালনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় , আল্লাহ ইব্রাহিমকে খলিল (বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেন।

এই ঘটনাকে স্মরন করে সারা বিশ্বের মুসলমানরা প্রতা বছর জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত ( তিন দিন) পশু কুরবানি দিয়ে  ঈদুল আজহা উদযাপন করেন।

হিজরী চন্দ্র বছরের গণনা অনুযায়ী ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার মাঝে ২ মাস ১০ দিন ব্যবধান থাকে।দিনের হিসেবে যা সর্বোচ্চ ৭০ দিন হতে পারে।

মুসলমানগণ ঈদুল আজহার নামাজ জ্বিলহজ্জের ১০ তারিখে সূর্য উদয়ের পর থেকে যোহরের নামেজের সময় হওয়ার আগ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময় আদায় করেন। কোন কারনে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় না করা গেলে ১২ জ্বিলহজ্জ পর্যন্ত আদায় করা যাবে। ঈদের নামজের আগে মুসল্লিরা জোরে জোরে "তাকবীর" উচ্চারণ করেন।

আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর,

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু,

আল্লাহু আকবর , আল্লাহু আকবর,

ওয়ালিল্লাহিল হামদ

ঈদের নামাজ দুই রাকাত । এটি ওয়াজিব নামাজ।যা জামাতের সঙ্গে ছয় অতিরিক্ত তাক্ববিরের সঙ্গে পড়তে হয়। ঈদের নামাজ শেষে ইমামের জন্য থুৎবা সুন্নত ও মুছুল্লিদের জন্য খুৎবা শোনা ওয়াজিব।

ইসলাম ধর্ম মতে ঈদুল আজহার দিন যার যাকাত দেওয়ার সামর্থ্য আছে অর্থাৎ যার কাছে ঈদের দিন সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোরা রৌপ্য বা সমপরিমাণ সম্পদ ( যেমন টাকা) আছে  তার ওপর ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কুরবানি করা ওয়াজিব।

বাংলাদেশের মুসলিমরা সাধারণত গরু ও ছাগল কুরবানি দিয়ে থাকেন। এছাড়া অনেকে ভেড়া, মহিষ, উট, দুম্বা কোরবানি দিয়ে থাকেন।এক ব্যাক্তি একটি গরু, ছাগলম, মহিষ, উট কোরবানি করকে পারেন।তবে গরু, মহিষ, উট সর্বোচ্চ ৭ ভাগে ভাগ করেও দেওযা যায়। অর্থাৎ ২,৩,৫ বা ৭ ব্যাক্তি একটি গরু কোরবানিতে মরিক হতে পারেন। কুরবানির জন্য ছাগলের বয়স এক বছর হতে হবে। গরুর বয়স দুই বছর হতে হবে। নিজ হাতে কুরবানি করা ভালো। কুরবানির প্রাণী দক্ষিণ দিকে রেখে কিবলামুখী করে "বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর" বলে জবাই করতে হবে।

সাধারণ আমাদের দেশে কুরবানির মাংস তিন ভাগ কের এক ভাগ গরীব , এক ভাগ আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে এবং এক ভাগ নিজেদের খাওয়ার জন্য রাখা হয়।তবে কুরবানি করা পশুর মাংস বিতড়ণের সুস্পষ্ট কোন হুকুম নেই, পশু কুরবানি করার হুকুম আছে। কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থ দান করে দেওয়ার নির্দেশ আছে।


সম্পর্কিত খবর

;