রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

প্রকাশ : 09 Aug 2026
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মণি এবং দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।


বিএনপির পক্ষ থেকে একই প্রার্থীর জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মনোনয়নপত্র দুটি শেষ পর্যন্ত কার নামে দাখিল করা হবে, তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রকাশ করা হয়নি।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহের এই ঘটনা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর সাংবিধানিকভাবে শূন্য হওয়া পদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ২৪ জুলাই সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।


সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, নির্ধারিত সাংবিধানিক সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করা হবে।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই নির্বাচনী কর্তা বা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।


বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদের সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা রাজনৈতিক দলের প্রার্থীই সাধারণত নির্বাচনে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকেন।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং অন্য একজন সংসদ সদস্যকে সমর্থক হতে হয়। একই সংসদ সদস্য একাধিক প্রার্থীর প্রস্তাবক বা সমর্থক হতে পারেন না।


রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া, কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়সী হওয়া এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন।



রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। ক্ষমতাসীন বিএনপির একাধিক নেতা এবং দলের বাইরে প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামও আলোচনায় এসেছে।


এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিএনপি দলীয়ভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়েও দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে।


তবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় বিএনপির সরাসরি অংশগ্রহণ এখন আরও স্পষ্ট হলো।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর একক প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না।


২০১৯ সালের মতো ২০২৩ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও একই প্রার্থীর পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের পর একটি বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং অন্য প্রার্থী না থাকায় মো. সাহাবুদ্দিনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের নথিতেও ২০২৩ সালের নির্বাচনে একই প্রার্থীর পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র দাখিলের তথ্য রয়েছে।


এবারও বিএনপি দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—দুটি মনোনয়নপত্রই কি একই ব্যক্তির নামে দাখিল হবে, নাকি শেষ মুহূর্তে প্রার্থিতায় কোনো পরিবর্তন আসবে।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তফসিলের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র দাখিল, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজন হলে ভোটগ্রহণের দিন ও সময় নির্ধারণ করে।


এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তখনও নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্বাচন কমিশনই নির্বাচন আয়োজন করবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।


ফলে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এখন আরও দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন নজর থাকবে—বিএনপি কাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করে এবং মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো একাধিক প্রার্থী থাকেন কি না।

সম্পর্কিত খবর

;